খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: সোমবার, ২৭ জুলাই ২০২৬
বগুড়ার গাবতলীতে স্ত্রী তালাক দেওয়ায় তীব্র মানসিক যন্ত্রণা সহ্য করতে না পেরে রিফাত আলী খান (১৭) নামের নবম শ্রেণির এক স্কুলছাত্র গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছে। সোমবার (২৭ জুলাই) সকালে উপজেলার নেপালতলী ইউনিয়নের রহিমারপাড়া গ্রামের নিজ বাড়িতে এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। নাবালক বয়সে বিয়ে এবং তার পর মাত্র তিন মাসের মাথায় বিবাহবিচ্ছেদের মতো মানসিক চাপ সহ্য করতে না পেরে তরুণটি এমন পথ বেছে নিয়েছে বলে ধারণা করছে পুলিশ ও স্থানীয়রা।
নিহত রিফাত আলী খান গাবতলী উপজেলার নেপালতলী ইউনিয়নের রহিমারপাড়া গ্রামের বাসিন্দা রুবেল খানের ছেলে। সে স্থানীয় কদমতলী উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণিতে পড়াশোনা করত।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কদমতলী উচ্চ বিদ্যালয়ে পড়ার সময় একই শ্রেণির এক নারী সহপাঠীর সঙ্গে রিফাতের প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। বয়স প্রাপ্তবয়স্ক না হওয়া সত্ত্বেও পরিবারের অজান্তে কিংবা সম্মতিতে সম্প্রতি তারা বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয়। তবে বিয়ের রেশ কাটতে না কাটতেই দাম্পত্য জীবনে টানাপোড়েন শুরু হয়। বিয়ের মাত্র তিন মাসের মাথায় তার স্ত্রী তাকে আনুষ্ঠানিকভাবে তালাক দেয়। এই হঠাৎ বিবাহবিচ্ছেদের ঘটনাটি অল্পবয়সী রিফাতকে মানসিকভাবে ভীষণ বিপর্যস্ত করে তোলে।
স্বজন ও প্রতিবেশীদের ভাষ্যমতে, তালাকের পর থেকে রিফাত চরম হতাশায় ভুগছিল এবং নিজের ঘরেই অধিকাংশ সময় চুপচাপ বসে থাকত। সোমবার সকাল সাড়ে ৮টা থেকে ৯টার মধ্যবর্তী কোনো এক সময়ে পরিবারের সবার অগোচরে সে নিজের শোয়ার টিনশেড ঘরের সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ওড়না পেঁচিয়ে গলায় ফাঁস দেয়। পরে পরিবারের সদস্যরা ঘরের ভেতর তার ঝুলন্ত দেহ দেখতে পেয়ে চিৎকার শুরু করেন এবং আশপাশের মানুষ ছুটে আসে। পরবর্তীতে বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে গাবতলী থানা পুলিশকে জানানো হয়।
খবর পেয়ে গাবতলী মডেল থানা পুলিশের একটি দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। তারা ঝুলন্ত অবস্থায় থাকা রিফাতের দেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতালের মর্গে পাঠায়। পুলিশের উপস্থিতিতে আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ ময়নাতদন্তের প্রস্তুতি নেওয়া শুরু হয়।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে গাবতলী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রাকিব হাসান জানান, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে—স্ত্রী তালাক দিয়ে চলে যাওয়ায় গভীর হতাশা থেকেই রিফাত আত্মহত্যার পথ বেছে নিয়েছে। তবে মৃত্যুর পেছনে অন্য কোনো কারণ আছে কি না, তা ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর নিশ্চিত হওয়া যাবে। খবর পেয়ে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে মর্গে পাঠিয়েছে এবং এই ঘটনায় থানায় একটি অপমৃত্যু (ইউডি) মামলা দায়ের করা হয়েছে।