খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ৩০ই জুলাই ২০২৬, ১০:২ পিএম
সীমান্তবর্তী জেলা নেত্রকোনার দুর্গাপুরে মাদকবিরোধী অভিযানে এক বড় সাফল্য অর্জন করেছে স্থানীয় থানা পুলিশ। একটি সংঘবদ্ধ মাদক পাচার চক্রের গোড়া উপড়ে ফেলতে গিয়ে প্রায় ২৯ লাখ ৬০ হাজার টাকা মূল্যের ৭৪০ বোতল নিষিদ্ধ ভারতীয় ফেনসিডিলসহ মূল হোতা বাবা ও তার মেয়েকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) দুপুরে উপজেলার বাগিচাপাড়া এলাকায় এক রোমাঞ্চকর অভিযান চালিয়ে চিহ্নিত মাদক কারবারি শফিকুল ইসলাম (৫৬) এবং তার মেয়ে নাজমুন নাহার খানমকে (২৩) হাতেনাতে আটক করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
পুলিশ ঘটনার নেপথ্য তথ্য বিশ্লেষণ করে জানায়, এই অভিযানের সূত্রপাত হয় মূলত গত বুধবার রাতে। গোপন তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ জানতে পারে যে, সীমান্ত পেরিয়ে ভারতীয় মাদকের একটি বড় চালান ট্রাকে করে পাচার করা হচ্ছে। সেই সংবাদের ভিত্তিতে তাৎক্ষণিক অভিযান চালিয়ে পুলিশ একটি কাস্টমাইজড বা বিশেষ কৌশলে লুকানো চ্যাসিসবিশিষ্ট ট্রাকসহ চালক জলিলকে আটক করে।
ট্রাকচালক জলিলকে ক্রাইম সিন স্পটে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে বেরিয়ে আসে এই পাচার চক্রের আসল রহস্য। জলিল স্বীকার করেন যে, জব্দ করা মাদকের বাইরেও তার নিজ বাড়ির প্রাঙ্গণে আরও একটি বিশাল চালান মজুদ রাখা হয়েছে। পরবর্তীতে দুর্গাপুর থানা পুলিশের একটি সুসংগঠিত দল বৃহস্পতিবার দুপুরে বাগিচাপাড়া এলাকায় জলিলের বসতবাড়িতে আকস্মিক চিরুনি অভিযান পরিচালনা করে।
বাড়ির ভেতরের গোয়ালঘরে তল্লাশি চালানোর সময় কয়েকটি চটের বস্তায় সাবধানে লুকিয়ে রাখা অবস্থায় উদ্ধার করা হয় ৭৪০ বোতল ফেনসিডিল। পুলিশি তদন্তে তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায় যে, এই চালানের প্রকৃত মালিক ও নিয়ন্ত্রক মূলত স্থানীয় শফিকুল ইসলাম এবং তার মেয়ে নাজমুন নাহার। বাবা ও মেয়ে মিলে দীর্ঘদিন ধরে পারিবারিক আড়ালে আন্তর্জাতিক সীমান্ত দিয়ে আসা এসব মাদক বেচাকেনা ও সরবরাহের কাজ চালিয়ে আসছিলেন।
পুলিশের দেওয়া তথ্যমতে, বর্তমান কালোবাজারে উদ্ধারকৃত প্রতি বোতল ফেনসিডিলের আনুমানিক মূল্য প্রায় ৪ হাজার টাকা। সেই হিসাবে উদ্ধার হওয়া পুরো চালানের মোট বাজারমূল্য দাঁড়ায় ২৯ লাখ ৬০ হাজার টাকা।
ঘটনার আইনি এবং সার্বিক অগ্রগতির বিষয়ে দুর্গাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খন্দকার শাকের আহমেদ গণমাধ্যমকে জানান, “ট্রাকসহ চালক গ্রেপ্তারের পর তার দেওয়া গোপন তথ্যের ওপর ভিত্তি করেই আমরা বাগিচাপাড়ায় এই দ্বিতীয় দফায় সফল অভিযানটি সফলভাবে পরিচালনা করতে সক্ষম হই। এ সময় গোয়ালঘর থেকে উদ্ধার করা হয় বিপুল পরিমাণ ভারতীয় মাদক।”
তিনি আরও উল্লেখ করেন, আটক হওয়া বাবা ও মেয়ের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের কঠোর ধারায় মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হচ্ছে। তাদের রিমান্ডে নিয়ে এই চক্রের সঙ্গে আর কারা কারা জড়িত রয়েছে তা খতিয়ে দেখা হবে। পাশাপাশি জব্দকৃত সব ফেনসিডিল আদালতের নির্দেশে আইনি প্রক্রিয়া মেনেই পরবর্তীতে ধ্বংস করা হবে বলে জানান এই কর্মকর্তা।
মন্তব্য