খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ১ই আগস্ট ২০২৬, ২:৫ পিএম
নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার সিরাজপুর ইউনিয়নে বিএনপি ও জামায়াতের সমর্থকদের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনায় উভয়পক্ষের অন্তত ১০ নেতাকর্মী আহত হয়েছেন। এ সময় স্থানীয় বিএনপির একটি কার্যালয়ে ভাঙচুরের ঘটনাও ঘটেছে। শুক্রবার (৩১ জুলাই) সন্ধ্যা থেকে রাত পর্যন্ত ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের দিনার দোকান এলাকায় এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় বাসিন্দা ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, পূর্ববিরোধকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনার সূত্রপাত হয়। একপর্যায়ে বিষয়টি মারামারিতে গড়ায়। সন্ধ্যার পর থেকে শুরু হওয়া উত্তেজনা রাত পর্যন্ত কয়েক দফা সংঘর্ষে রূপ নেয়। এতে দুই দলের বেশ কয়েকজন নেতাকর্মী আহত হন।
আহতদের মধ্যে রয়েছেন যুবদল নেতা আনোয়ার হোসেন (৩২), রিপন মিয়া (২৭) ও ফারুক (২৭)। এ ছাড়া সিরাজপুর ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ড ছাত্রশিবিরের সভাপতি ওসমান (২৪) এবং সাধারণ সম্পাদক রিফাত (২৫) আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। আহত অন্যদের পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।
স্থানীয় সূত্রের ভাষ্য অনুযায়ী, সংঘর্ষের নেপথ্যে একটি মারধরের ঘটনাকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। সিরাজপুর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান প্রার্থী ও ইউনিয়ন জামায়াতের আমির আবুল হাসেমের ছেলে মুজাহিদ এক ছাত্রদল কর্মীকে সিরাজপুর পিএল একাডেমির মাঠে নিয়ে মারধর করেছেন—এমন অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনার পর এলাকায় উত্তেজনা তৈরি হয়।
পরে ছাত্রদলের এক কর্মীকে মারধরের খবর ছড়িয়ে পড়লে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। স্থানীয় জামায়াত ও ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীরা রাত ১১টার দিকে বিএনপির স্থানীয় কার্যালয়ে গিয়ে ভাঙচুর চালান বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এরপর দুই পক্ষের মধ্যে ফের সংঘর্ষ বাধে। এতে বেশ কয়েকজন আহত হন।
ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় কিছু সময়ের জন্য উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হলেও পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। সংঘর্ষের পর এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পুলিশ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
কোম্পানীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ নুরুল হাকিম বলেন, সংঘর্ষের খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। তবে এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে, স্থানীয় পর্যায়ে রাজনৈতিক দলগুলোর নেতাকর্মীদের মধ্যে বিরোধ ও পাল্টাপাল্টি হামলার ঘটনায় সাধারণ মানুষের মধ্যেও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে রাজনৈতিক কর্মসূচি ও দলীয় কর্মকাণ্ডকে কেন্দ্র করে যাতে নতুন করে কোনো সংঘাত না ছড়ায়, সে বিষয়ে স্থানীয় পর্যায়ে সতর্কতা প্রয়োজন বলে মনে করছেন বাসিন্দারা।
তবে সংঘর্ষের প্রকৃত কারণ, কারা প্রথম হামলা চালিয়েছে এবং বিএনপির কার্যালয় ভাঙচুরের ঘটনায় কারা জড়িত—এসব বিষয়ে পুলিশের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক তদন্ত বা কোনো পক্ষের লিখিত অভিযোগ এখনো পাওয়া যায়নি। ফলে ঘটনার পূর্ণাঙ্গ চিত্র নিশ্চিত করতে পুলিশি তদন্ত ও সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর বক্তব্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। অভিযোগ পাওয়া গেলে আইনগত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
মন্তব্য