খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ১ই আগস্ট ২০২৬, ২:১১ পিএম
নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে মোটরসাইকেলের এয়ার ফিল্টার বক্সে অভিনব কৌশলে লুকিয়ে রাখা ১ হাজার ৯৫৫টি ইয়াবাসহ দুই ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব-১১। এ সময় মাদক পরিবহনে ব্যবহৃত মোটরসাইকেলটিও জব্দ করা হয়। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দাবি, গ্রেপ্তার দুজন একটি সংঘবদ্ধ মাদক চোরাচালান চক্রের সক্রিয় সদস্য এবং দীর্ঘদিন ধরে তারা সীমান্তবর্তী এলাকা থেকে ইয়াবা সংগ্রহ করে নারায়ণগঞ্জ, ঢাকা ও আশপাশের বিভিন্ন এলাকায় সরবরাহ করে আসছিলেন।
র্যাব-১১ সূত্রে জানা গেছে, শনিবার (১ আগস্ট) দিবাগত রাত ১টা ১০ মিনিটের দিকে সোনারগাঁ উপজেলার মোগড়াপাড়া বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অভিযান চালানো হয়। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র্যাব জানতে পারে, কয়েকজন মাদক কারবারি সেখানে ইয়াবা বিক্রির উদ্দেশ্যে অবস্থান করছেন। ওই তথ্যের ভিত্তিতে র্যাবের একটি দল এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে।
র্যাবের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছালে সন্দেহভাজন দুই ব্যক্তি একটি মোটরসাইকেল নিয়ে দ্রুত সেখান থেকে পালানোর চেষ্টা করেন। পরে র্যাব সদস্যরা তাদের আটক করেন। এরপর মোটরসাইকেলটিতে তল্লাশি চালানো হলে প্রথমে উল্লেখযোগ্য কিছু পাওয়া যায়নি। তবে সন্দেহের ভিত্তিতে মোটরসাইকেলের বিভিন্ন অংশ ভালোভাবে পরীক্ষা করা হয়। একপর্যায়ে এর এয়ার ফিল্টার বক্সের ভেতরে বিশেষ কৌশলে লুকিয়ে রাখা ইয়াবার সন্ধান মেলে। সেখান থেকে মোট ১ হাজার ৯৫৫টি ইয়াবা উদ্ধার করা হয়।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার পাঁচোড়া এলাকার বাবুল মিয়ার ছেলে আবুল কালাম আজাদ (৩৬) এবং ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার আনন্দপুর এলাকার হারুন অর রশিদের ছেলে সবুজ (২৯)।
র্যাবের ভাষ্য অনুযায়ী, মাদক কারবারিরা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিতে বিভিন্ন সময় পরিবহনের প্রচলিত পদ্ধতির বাইরে নানা কৌশল ব্যবহার করে থাকে। এই ঘটনায় মোটরসাইকেলের এয়ার ফিল্টার বক্সকে মাদক লুকানোর জায়গা হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছিল বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। মোটরসাইকেলের এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশের ভেতরে ইয়াবা লুকিয়ে রাখার কারণে সাধারণ তল্লাশিতে তা সহজে শনাক্ত না হওয়ার সুযোগ ছিল।
র্যাব-১১-এর অপারেশন অফিসার ক্যাপ্টেন রওনক এরফান খান বলেন, প্রাথমিক অনুসন্ধান এবং গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, তারা একটি সংঘবদ্ধ মাদক চোরাচালান চক্রের সক্রিয় সদস্য। দীর্ঘদিন ধরে সীমান্তবর্তী এলাকা থেকে বড় চালানে ইয়াবা সংগ্রহ করে তারা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজর এড়িয়ে বিভিন্ন এলাকায় নিয়ে যেতেন। পরে এসব মাদক নারায়ণগঞ্জ, ঢাকা ও আশপাশের জেলাগুলোতে পরিবহন, সরবরাহ ও বিক্রি করা হতো বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে।
তিনি বলেন, মাদক পরিবহনের কাজে ব্যবহৃত মোটরসাইকেলটি জব্দ করা হয়েছে। উদ্ধার করা ইয়াবা ও জব্দ করা যানবাহন পরবর্তী আইনগত প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।
র্যাব জানায়, গ্রেপ্তার দুই ব্যক্তির বিরুদ্ধে সোনারগাঁ থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে নিয়মিত মামলা করা হয়েছে। মামলার পর তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে এই চক্রের সঙ্গে আরও কারা জড়িত এবং মাদকের চালান কোথা থেকে সংগ্রহ করা হয়েছিল, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
মাদক নিয়ন্ত্রণে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিয়মিত অভিযানের মধ্যেও দেশের বিভিন্ন এলাকায় ইয়াবাসহ বিভিন্ন ধরনের মাদক উদ্ধারের ঘটনা ঘটছে। বিশেষ করে সীমান্তবর্তী অঞ্চল থেকে দেশের অভ্যন্তরে মাদক সরবরাহ বন্ধ করতে গোয়েন্দা নজরদারি ও অভিযান জোরদার করা হয়েছে। সোনারগাঁয়ের এই অভিযানেও গোপন তথ্যের ভিত্তিতে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার মাধ্যমে বিপুলসংখ্যক ইয়াবা জব্দ করা সম্ভব হয়েছে বলে র্যাবের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
মন্তব্য