খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ১ই আগস্ট ২০২৬, ২:৫৫ পিএম
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগরে শিশুদের লুডু খেলাকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া বিরোধের জেরে দুই পক্ষের সংঘর্ষে হামদু মিয়া (৫৩) নামে এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় উভয় পক্ষের অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা গুরুতর বলে জানা গেছে। ঘটনাটি এলাকায় উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে।
শনিবার (১ আগস্ট) সকাল ৯টার দিকে উপজেলার হরষপুর ইউনিয়নের পাইকপাড়া গ্রামের বন্দেরহাটি এলাকায় এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। নিহত হামদু মিয়া ওই এলাকার বাসিন্দা।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার বিকেলে পাইকপাড়া গ্রামের দুই শিশু—হামদু মিয়ার ছেলে নিরব (১১) এবং আবুল ইসলামের ছেলে ইয়াসিন (১২)—লুডু খেলা নিয়ে বিরোধে জড়িয়ে পড়ে। একপর্যায়ে তাদের মধ্যে হাতাহাতি হয়। এ সময় হামদু মিয়া সেখানে গিয়ে ইয়াসিনকে লাঠি দিয়ে আঘাত করেন বলে অভিযোগ ওঠে। এতে ইয়াসিনের মাথায় আঘাত লাগে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
শিশুদের মধ্যে সামান্য একটি বিরোধের ঘটনাকে কেন্দ্র করে পরদিন সকালে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। অভিযোগ রয়েছে, ইয়াসিনের বাবা আবুল ইসলামের নেতৃত্বে একদল লোক দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামদু মিয়ার বাড়িতে হামলা চালায়। এ সময় দুই পক্ষের লোকজন সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়লে পরিস্থিতি দ্রুত সহিংস রূপ নেয়।
সংঘর্ষের একপর্যায়ে হামদু মিয়া গুরুতরভাবে আহত হন এবং ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয়। তাঁর আট বছর বয়সী ছেলে হাসানও গুরুতর আহত হয়েছে। এ ছাড়া লিটন মিয়া (৩৫), এরশাদ (৪০), রেজু বেগম, ফারুক মিয়া ও ইসলাম মিয়াসহ উভয় পক্ষের অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছেন। আহতদের স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে কয়েকজনের চিকিৎসা চলছে।
ঘটনার খবর পেয়ে বিজয়নগর থানা-পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। সংঘর্ষের পর এলাকায় যাতে নতুন করে কোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি তৈরি না হয়, সে জন্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সতর্ক অবস্থানে রয়েছে বলে জানা গেছে।
বিজয়নগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আহসান উল্লাহ বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। নিহত ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে।
পুলিশ কর্মকর্তা আরও জানান, সংঘর্ষের পেছনে প্রকৃত কারণ কী এবং কারা এতে জড়িত ছিল, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিষয়ে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বর্তমানে এলাকার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
স্থানীয়দের ভাষ্য, শিশুদের খেলাধুলাকে কেন্দ্র করে বিরোধের সূত্রপাত হলেও পরে বিষয়টি বড়দের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে এবং তা শেষ পর্যন্ত প্রাণঘাতী সংঘর্ষে রূপ নেয়। সামান্য বিরোধ দ্রুত পারিবারিক ও সামাজিক দ্বন্দ্বে পরিণত হলে তার পরিণতি কতটা ভয়াবহ হতে পারে, এই ঘটনাকে ঘিরে স্থানীয়দের মধ্যে সেই উদ্বেগও দেখা দিয়েছে। তবে সংঘর্ষের সুনির্দিষ্ট কারণ, হামলার ধরন এবং নিহতের মৃত্যুর প্রকৃত পরিস্থিতি তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না। পুলিশ ঘটনার সব দিক খতিয়ে দেখছে।
মন্তব্য