খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ১ই আগস্ট ২০২৬, ৩:৪৮ পিএম
বেসরকারি খাতের ব্যাংকগুলোর মধ্যে চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে মুনাফার দিক থেকে দ্বিতীয় অবস্থানে উঠে এসেছে পূবালী ব্যাংক। জানুয়ারি থেকে জুন—এই ছয় মাসে ব্যাংকটির কর-পরবর্তী মুনাফা হয়েছে ৬৮৫ কোটি টাকা, যা আগের বছরের একই সময়ের ৫৭৮ কোটি টাকার তুলনায় ১০৭ কোটি টাকা বা প্রায় ১৮ দশমিক ৫ শতাংশ বেশি। ব্যাংকটির প্রকাশিত অর্ধবার্ষিক আর্থিক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।
আর্থিক প্রতিবেদনের বিশ্লেষণে দেখা যায়, এ সময় পূবালী ব্যাংকের মুনাফা বৃদ্ধির প্রধান চালিকাশক্তি ছিল সরকারি ট্রেজারি বিল ও ট্রেজারি বন্ডে বিনিয়োগ থেকে অর্জিত আয়। দেশে ঋণের চাহিদা তুলনামূলক কম থাকায় ব্যাংকটির হাতে থাকা অতিরিক্ত তারল্যের একটি বড় অংশ সরকারি সিকিউরিটিজে বিনিয়োগ করা হয়। নিরাপদ এই বিনিয়োগ থেকে উল্লেখযোগ্য আয় হওয়ায় সামগ্রিক মুনাফাও শক্তিশালী হয়েছে।
গত বছরের জানুয়ারি-জুন সময়ে সরকারি ট্রেজারি বিল ও বন্ড থেকে পূবালী ব্যাংকের আয় ছিল ১ হাজার ৫৬৭ কোটি টাকা। চলতি বছরের একই সময়ে সেই আয় বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ৯৩ কোটি টাকায়। অর্থাৎ মাত্র এক বছরের ব্যবধানে এ খাত থেকে আয় বেড়েছে ৫২৬ কোটি টাকা, যা প্রায় ৩৪ শতাংশ প্রবৃদ্ধির সমান। ব্যাংকটির সামগ্রিক লাভ বাড়ানোর ক্ষেত্রে এই প্রবৃদ্ধি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।
ব্যাংক-সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে পূবালী ব্যাংকে প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকার নতুন আমানত যুক্ত হয়েছে। এর ফলে ব্যাংকটির মোট আমানত এক লাখ কোটি টাকার সীমা অতিক্রম করেছে। কিন্তু একই সময়ে বেসরকারি খাতে ঋণের চাহিদা প্রত্যাশিত মাত্রায় না থাকায় অতিরিক্ত অর্থ ঋণ হিসেবে বিতরণের পরিবর্তে সরকারি ট্রেজারি বিল ও বন্ডে বিনিয়োগ করা হয়। নিরাপদ এবং তুলনামূলক লাভজনক এই বিনিয়োগ কৌশল ব্যাংকটির আর্থিক ফলাফলে ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে।
এদিকে সম্প্রতি পূবালী ব্যাংক বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছ থেকে প্রাইমারি ডিলার হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে। এই স্বীকৃতির ফলে সরকারি বন্ড কেনা, ধারণ এবং লেনদেনে ব্যাংকটির সক্ষমতা আরও বেড়েছে। ফলে সরকারি সিকিউরিটিজভিত্তিক বিনিয়োগ সম্প্রসারণের সুযোগও বৃদ্ধি পেয়েছে, যা ভবিষ্যতেও বিনিয়োগ আয় বাড়াতে সহায়ক হতে পারে।
অন্যদিকে, ঋণ থেকে সুদ আয় কিছুটা বাড়লেও আমানতের বিপরীতে সুদ ব্যয় আরও দ্রুতগতিতে বৃদ্ধি পেয়েছে। চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে ঋণের সুদ থেকে ব্যাংকটির আয় হয়েছে ৩ হাজার ৪৭০ কোটি টাকা। আগের বছরের একই সময়ে এ আয় ছিল ৩ হাজার ৩৪৬ কোটি টাকা। অর্থাৎ ঋণের সুদ আয় বেড়েছে ১২৪ কোটি টাকা।
তবে আমানতের ওপর সুদ ব্যয়ের চাপ আরও বেশি ছিল। চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে আমানতের সুদ বাবদ ব্যয় হয়েছে ২ হাজার ৯৪৭ কোটি টাকা, যেখানে আগের বছরের একই সময়ে ব্যয় ছিল ২ হাজার ৬৯৫ কোটি টাকা। অর্থাৎ এক বছরে সুদ ব্যয় বেড়েছে ২৫২ কোটি টাকা। ফলে সুদ থেকে প্রকৃত বা নিট আয় আগের বছরের তুলনায় ১২৯ কোটি টাকা কমে গেছে। তা সত্ত্বেও ট্রেজারি বিল ও বন্ডে বিনিয়োগ থেকে বাড়তি আয় এই ঘাটতি অনেকটাই পুষিয়ে দিয়েছে এবং শেষ পর্যন্ত ব্যাংকটির মোট মুনাফা বৃদ্ধি নিশ্চিত করেছে।
প্রকাশিত আর্থিক তথ্য অনুযায়ী, শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত ব্যাংকগুলোর মধ্যে চলতি বছরের প্রথমার্ধে সর্বোচ্চ মুনাফা করেছে ব্র্যাক ব্যাংক। তাদের কর-পরবর্তী মুনাফা ১ হাজার ৪২৩ কোটি টাকা। দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে পূবালী ব্যাংক, আর তৃতীয় স্থানে রয়েছে সিটি ব্যাংক, যার ছয় মাসের মুনাফা ৫২৭ কোটি টাকা।
পূবালী ব্যাংকের প্রধান আর্থিক কর্মকর্তা (সিএফও) মোহাম্মদ লিটন মিয়া বলেন, ব্যাংকের আমানত ইতোমধ্যে এক লাখ কোটি টাকা ছাড়িয়েছে এবং ছয় মাসে নতুন করে প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকার আমানত এসেছে। ঋণের চাহিদা কম থাকায় অতিরিক্ত তারল্যের বড় অংশ সরকারি ট্রেজারি বিল ও বন্ডে বিনিয়োগ করা হয়েছে। পাশাপাশি প্রাইমারি ডিলার হিসেবে স্বীকৃতি পাওয়ায় সরকারি বন্ডে বিনিয়োগের সক্ষমতা আরও বেড়েছে, যা আয় ও মুনাফা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।
উল্লেখ্য, গত বছর পূবালী ব্যাংকের বার্ষিক কর-পরবর্তী মুনাফা ছিল ১ হাজার ৯০ কোটি টাকা। চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসেই ব্যাংকটি সেই বার্ষিক মুনাফার প্রায় ৬৩ শতাংশ অর্জন করেছে। বছরের দ্বিতীয়ার্ধেও যদি আয় ও বিনিয়োগের ধারা ইতিবাচক থাকে, তবে বার্ষিক ফলাফলেও শক্তিশালী অবস্থান ধরে রাখার সম্ভাবনা রয়েছে।
প্রয়োজনে একই প্রতিবেদনকে আরও রিপোর্টটি সংবাদপত্র-উপযোগী শৈলীতে রূপান্তর করো, রিপোর্টটি বিশ্লেষণধর্মী শৈলীতে রূপান্তর করো বা রিপোর্টটি অনলাইন পোর্টালের উপযোগী শৈলীতে রূপান্তর করো।
মন্তব্য