খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ২ই আগস্ট ২০২৬, ৪:৮ পিএম
নওগাঁর মহাদেবপুরে এক মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় ১২ বছর বয়সি মানসিক ভারসাম্যহীন এক শিশুর প্রাণহানি ঘটেছে। উপজেলার রাইস মিলের গরম পানি ও ছাই ফেলার একটি বিশেষ ড্রেন বা পুকুর থেকে ওই শিশুর ভাসমান মরদেহ উদ্ধার করেছে ফায়ার সার্ভিস। নিহত শিশুর নাম রিয়াল ইসলাম। সে উপজেলার খাজুর ইউনিয়নের খোর্দ্দ কালনা গ্রামের ফারুক হোসেন বাচ্চুর ছেলে। গত শনিবার রাতে তানজিদা অটো চাউলকলে এই ঘটনাটি ঘটেছে।
স্থানীয়দের সূত্রে জানা যায়, নিহত রিয়াল মানসিক ভারসাম্যহীনতায় ভুগছিল। তার পিতা-মাতা জীবিকার তাগিদে ঢাকায় অবস্থান করায় রিয়াল গ্রামের বাড়িতে নানা-নানির সঙ্গেই বড় হচ্ছিল। গত বুধবার সকাল ১১টার দিকে হঠাৎ করেই সে নিখোঁজ হয়ে যায়। এরপর থেকে তার আত্মীয়-স্বজন ও প্রতিবেশীরা সম্ভাব্য সব স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও কোনো হদিস পাননি। চার দিন ধরে নিখোঁজ থাকার পর অবশেষে অটো রাইস মিলে মেলে তার সন্ধান।
শনিবার সন্ধ্যার দিকে উপজেলার কুঞ্জবন এলাকায় অবস্থিত জিল্লু হাজীর তানজিদা অটো রাইস মিলের বয়লার থেকে নির্গত গরম পানি ও পোড়া ছাই জমার কৃত্রিম পুকুরটিতে রিয়ালের পায়ের স্যান্ডেল ভাসতে দেখেন স্থানীয় লোকজন। পানির তাপ ও পারিপার্শ্বিক পরিস্থিতি দেখে সন্দেহ হলে তারা সঙ্গে সঙ্গে মহাদেবপুর ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্সকে বিষয়টি জানান।
সংবাদ পেয়ে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের একটি উদ্ধারকারী দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। মহাদেবপুর ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্সের ভারপ্রাপ্ত স্টেশন অফিসার মো. আবুল কাশেমের সার্বিক নেতৃত্বে শুরু হয় উদ্ধার তৎপরতা। পানির তীব্র গরম ও প্রতিকূল পরিবেশ সত্ত্বেও ডুবুরি ও উদ্ধারকারীরা রাত ৮টার দিকে বয়লারের পুকুরের নিচ থেকে শিশু রিয়ালের নিথর দেহ উদ্ধার করে বাইরে নিয়ে আসেন। চাউলকলের উন্মুক্ত ও ঝুঁকিপূর্ণ ছাইয়ের স্তূপ এবং গরম পানির রিজার্ভারে দুর্ঘটনাবশত পড়ে গিয়েই এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে বলে ধারণ করা হচ্ছে।
মর্মস্পর্শী এই দুর্ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন মহাদেবপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ওমর ফারুক। তিনি জানান, খবর পাওয়ার পর ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয় এবং উদ্ধার হওয়া লাশের প্রাথমিক সুরতহাল সম্পন্ন করা হয়। এ ঘটনায় অসাবধানতাবশত মৃত্যু বা কোনো গাফিলতি রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ ও আবেদনের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। বর্তমানে থানায় একটি অপমৃত্যুর (ইউডি) মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
মন্তব্য