খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ৩ই আগস্ট ২০২৬, ৬:১৬ পিএম
চট্টগ্রামে শীর্ষ সন্ত্রাসীদের দমনে জেলা পুলিশের ধারাবাহিক জোরদার অভিযানের অংশ হিসেবে এবার অন্তরালে থাকা রায়হান চক্রের খবর সামনে এসেছে। সীতাকুণ্ডে অভিযান চালিয়ে রায়হানের দুই ঘনিষ্ঠ সহযোগীকে গ্রেপ্তার করেছে জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ। পরবর্তীতে তাদের দেওয়া স্বীকারোক্তির ভিত্তিতে রাউজানে অভিযান চালিয়ে উদ্ধার করা হয়েছে একটি বিদেশি পিস্তল, একটি ম্যাগাজিন ও দুই রাউন্ড গুলি।
রোববার (২ আগস্ট) সন্ধ্যায় সীতাকুণ্ড উপজেলার শীতলপুর এলাকায় একটি বিশেষ চেকপোস্টে অভিযান চালিয়ে ওই দুই সন্ত্রাসীকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তার হওয়া দুজন হলেন মো. দিদার আলম (৩০) এবং মো. আফসার মিয়া (৩০)। পুলিশ জানিয়েছে, চট্টগ্রাম মহানগরের আলোচিত মাকসুদুল হক চৌধুরী হত্যা মামলার এজাহারভুক্ত আসামি তারা। দুজনই স্থানীয় শীর্ষ সন্ত্রাসী রায়হানের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ ও প্রধান সহযোগী হিসেবে পরিচিত।
আজ সোমবার (৩ আগস্ট) চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আয়োজিত এক জনাকীর্ণ সংবাদ সম্মেলনে অভিযানের বিস্তারিত তুলে ধরেন জেলা পুলিশ সুপার মো. মাসুদ আলম।
সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার জানান, গত ১৩ জুন চট্টগ্রাম মহানগরের পাহাড়তলী এলাকায় মাকসুদুল হক চৌধুরী নামে এক ব্যক্তি নৃশংসভাবে খুন হন। সেই হত্যা মামলার তদন্তে নেমে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর অনুসন্ধান, সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ এবং গোপন গোয়েন্দা তথ্যের ওপর ভিত্তি করে ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের নিশ্চিতভাবে শনাক্ত করা হয়। এরই ধারাবাহিকতায় ডিবি পুলিশ সীতাকুণ্ডে অভিযান চালিয়ে দিদার ও আফসারকে আইনের আওতায় আনতে সক্ষম হয়।
আসামিদের অপরাধ জীবনের চিত্র তুলে ধরে পুলিশ সুপার বলেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার দুজন স্বীকার করেছেন যে তারা দীর্ঘদিন ধরে রাউজান, রাঙ্গুনিয়া ও আশপাশের অঞ্চলে সংঘবদ্ধ সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছিলেন। চাঁদাবাজি, এলাকায় আধিপত্য বিস্তার ও অস্ত্র উঁচিয়ে ভয়ভীতি প্রদর্শনসহ নানা ধরনের অপরাধে তারা জড়িত ছিলেন।
পুলিশের সংরক্ষিত তথ্য অনুযায়ী, দিদার আলমের বিরুদ্ধে হত্যা, অবৈধ অস্ত্র বহন, চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের অভিযোগে অন্তত ১০টি মামলা বিচারাধীন রয়েছে। অন্যদিকে আফসার মিয়ার বিরুদ্ধেও সমমানের অপরাধে ছয়টি মামলা আদালতে প্রক্রিয়াধীন। চট্টগ্রাম মহানগর ও জেলার একাধিক চাঞ্চল্যকর ও অপরাধমূলক ঘটনায় তাদের প্রত্যক্ষ সম্পৃক্ততার তথ্য প্রমাণ তদন্তে বেরিয়ে এসেছে।
গ্রেপ্তার হওয়ার পর রাতে ডিবি পুলিশের একটি চৌকস দল দুই আসামিকে নিয়ে রাউজান উপজেলার পূর্ব রাউজান (জুরুলকুল) এলাকায় এক বিশেষ অভিযানে বের হয়। সেখানে একটি বসতঘরের পেছনে মাটির নিচে নিখুঁতভাবে লুকিয়ে রাখা অবস্থায় একটি ৭.৬৫ ক্যালিবারের বিদেশি পিস্তল, একটি ম্যাগাজিন এবং দুই রাউন্ড তাজা গুলি উদ্ধার করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার মো. মাসুদ আলম স্পষ্ট বার্তা দিয়ে বলেন, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, অবৈধ অস্ত্রের ঝনঝনানি ও সংঘবদ্ধ অপরাধ পুরোপুরি নির্মূলে জেলা পুলিশ ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি বজায় রাখছে। আধুনিক প্রযুক্তি ও পেশাদার আভিযানিক দক্ষতার সমন্বয়ে এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে। অপরাধ করে কাউকেই পার পাওয়ার সুযোগ দেওয়া হবে না বলে তিনি সতর্ক করেন।
মন্তব্য