খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ৩ই আগস্ট ২০২৬, ৬:২১ পিএম
মানিকগঞ্জের ঘিওর উপজেলায় ১১ বছরের এক শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগে তার সৎবাবাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। অভিযুক্ত ব্যক্তির নাম জুলহাস। সোমবার (৩ আগস্ট) তাকে আটক করে থানায় নেওয়া হয়েছে। শিশুটির পরিবারের অভিযোগ, ভয়ভীতি ও হুমকি দেখিয়ে অভিযুক্ত ব্যক্তি একাধিকবার তার ওপর যৌন নির্যাতন চালিয়েছেন।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ঘিওর উপজেলার বানিয়াজুরী এলাকায় একটি ভাড়া বাসায় স্ত্রী ও স্ত্রীর প্রথম পক্ষের ১১ বছরের মেয়েকে নিয়ে বসবাস করতেন জুলহাস। পরিবারের সদস্যদের অভিযোগ, গত রোববার সকালে শিশুটিকে ভয় দেখিয়ে তার ওপর নির্যাতন চালান তিনি। তবে এ ঘটনাটি এক দিনের নয় বলে দাবি করেছে ভুক্তভোগী শিশু। তার ভাষ্য অনুযায়ী, এর আগেও তাকে একাধিকবার একই ধরনের নির্যাতনের শিকার হতে হয়েছে।
অভিযুক্তের ভয় ও হুমকির কারণে এতদিন বিষয়টি কাউকে জানাতে পারেনি শিশুটি। পরিবারের সদস্যদের ধারণা, দীর্ঘদিন ধরে ভয়ভীতির পরিবেশে থাকার কারণেই সে নির্যাতনের কথা গোপন রাখতে বাধ্য হয়েছিল। পরে সোমবার সকালে সাহস করে মায়ের কাছে পুরো ঘটনা খুলে বলে শিশুটি।
মেয়ের কাছ থেকে ঘটনা জানার পর তার মা তাকে সঙ্গে নিয়ে বানিয়াজুরী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এস আর আনসারী বিল্টুর কাছে যান। সেখানে শিশুটি তার সঙ্গে ঘটে যাওয়া নির্যাতনের বিষয়ে বিস্তারিত জানায় বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
বানিয়াজুরী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এস আর আনসারী বিল্টু বলেন, ভুক্তভোগী শিশু ও তার মা পরিষদে এসে একাধিকবার নির্যাতনের অভিযোগ জানান। বিষয়টি জানার পর তিনি দ্রুত ঘিওর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) অবহিত করেন এবং আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার উদ্যোগ নেন।
অভিযোগ পাওয়ার পর পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে অভিযুক্ত জুলহাসকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়। ঘিওর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মীর মাহবুবুর রহমান জানান, ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের মাধ্যমে শিশুটির ওপর নির্যাতনের অভিযোগ পাওয়ার পরপরই পুলিশ পাঠানো হয়। অভিযুক্তকে আটক করে থানায় নেওয়া হয়েছে। অভিযোগের বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।
পুলিশ জানিয়েছে, অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে ঘটনাটি তদন্ত করে পরবর্তী আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হবে। একই সঙ্গে ভুক্তভোগী শিশুটির নিরাপত্তা ও প্রয়োজনীয় সহায়তার বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে।
শিশুর ওপর যৌন নির্যাতনের অভিযোগকে অত্যন্ত গুরুতর অপরাধ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এ ধরনের ঘটনায় ভুক্তভোগী শিশুর শারীরিক চিকিৎসার পাশাপাশি তার মানসিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করাও জরুরি। বিশেষজ্ঞদের মতে, নির্যাতনের শিকার শিশুরা অনেক সময় ভয়, হুমকি, সামাজিক চাপ কিংবা পারিবারিক পরিস্থিতির কারণে ঘটনার কথা তাৎক্ষণিকভাবে প্রকাশ করতে পারে না। ফলে পরিবারের সদস্যদের সচেতনতা এবং শিশুর কথা মনোযোগ দিয়ে শোনা গুরুত্বপূর্ণ।
এ ঘটনায় পুলিশি তদন্তের মাধ্যমে অভিযোগের সত্যতা যাচাই এবং আইন অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। অভিযুক্তের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হলে প্রচলিত আইনে তার বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ রয়েছে।
মন্তব্য