খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ৩ই আগস্ট ২০২৬, ৬:৩৬ পিএম
রাজধানী ঢাকা জুড়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও অপরাধ দমনে পরিচালিত সাঁড়াশি অভিযানে গত ২৪ ঘণ্টায় মোট ৪১৯ জনকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)। সমন্বিত এই অভিযানে ডিএমপির আটটি অপরাধ বিভাগ এবং গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) একযোগে অংশ নেয়, যার মধ্যে একা মিরপুর বিভাগ থেকেই সর্বোচ্চ ৯৬ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
আজ সোমবার (৩ আগস্ট) বিকেলে ডিএমপির মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (এডিসি) নিয়াজ মেহেদী এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেন।
ডিএমপি সূত্র জানায়, রাজধানীর সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা, মাদক কেনাবেচা প্রতিরোধ, ছিনতাই-চুরি রোধ এবং অবৈধ ভিওআইপি প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে হওয়া অপরাধ রুখতে দিনরাত বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়। ডিএমপির আওতাধীন বিভিন্ন থানা এলাকা থেকে সন্দেহভাজন ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িতদের মালামালসহ গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
বিভাগভিত্তিক গ্রেপ্তারের পরিসংখ্যানে দেখা যায়, অপরাধ দমনে সবচেয়ে এগিয়ে ছিল মিরপুর বিভাগ। তাদের হাতে গ্রেপ্তার হয়েছেন ৯৬ জন। অন্যদিকে অন্যান্য বিভাগের মধ্যে রমনা বিভাগ ২৮ জন, লালবাগ বিভাগ ৪৩ জন, ওয়ারী বিভাগ ৪৬ জন, মতিঝিল বিভাগ ৩৯ জন, তেজগাঁও বিভাগ ৬৬ জন, গুলশান বিভাগ ৪৮ জন ও উত্তরা বিভাগ ৪৪ জনকে গ্রেপ্তার করে। পাশাপাশি গোয়েন্দা বিভাগের (ডিবি) বিশেষ অভিযানে আরও ৯ জন আসামিকে আইনের আওতায় আনা হয়েছে।
অভিযান পরিচালনাকালে গ্রেপ্তারদের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অবৈধ প্রযুক্তিপণ্য, নগদ অর্থ ও বিভিন্ন ধরনের মাদকদ্রব্য উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারকৃত আলামতের তালিকায় রয়েছে ২১টি মোবাইল ফোন, ১৪টি ল্যাপটপ, ১২টি ল্যাপটপ চার্জার, ২৮টি অবৈধ ভিওআইপি মেশিন ও বিভিন্ন মোবাইল অপারেটরের ৪,৮৪৬টি সিম কার্ড। এছাড়া ১৬টি ডাটা কানেক্টর মেশিন, ৫২টি ক্যাবল কানেক্টর, ১টি পাওয়ার সাপ্লাই মেশিন, ১টি সিসি ক্যামেরা এবং নানা ধরনের ইলেকট্রনিক সরঞ্জাম জব্দের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে পুলিশ।
প্রযুক্তিপণ্যের বাইরে মাদক ও নগদ অর্থও বাজেয়াপ্ত করেছে আইনশৃঙ্খলারক্ষাকারী বাহিনী। উদ্ধার করা সামগ্রীর মধ্যে রয়েছে নগদ ২ লাখ ৯ হাজার ৭০০ টাকা, ১টি প্রাইভেটকার, ২৬ বোতল বিদেশি মদ, ১৪ কেজি গাঁজা, ৯১৪ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট এবং ৩৫০.৮ গ্রাম হেরোইন।
ডিএমপির অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার নিয়াজ মেহেদী জানান, রাজধানীর নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার ও অপরাধীদের অপরাধমূলক তৎপরতা বন্ধে এ ধরনের ঝটিকা অভিযান নিয়মিত অব্যাহত থাকবে। গ্রেপ্তার হওয়া সবার বিরুদ্ধে স্ব-স্ব থানায় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করার পাশাপাশি মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে।
মন্তব্য