খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ৩ই আগস্ট ২০২৬, ৮:৪৯ পিএম
ঢাকার ধামরাইয়ে পারিবারিক কলহের জেরে সাত বছরের অবোধ শিশুর চোখের সামনে তিন মাসের অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীকে পিটিয়ে হত্যা করার অভিযোগ উঠেছে মাদকাসক্ত স্বামীর বিরুদ্ধে। হৃদয়বিদারক এই ঘটনায় অভিযুক্ত স্বামী লিটন সরকারকে আটক করে পুলিশের হাতে তুলে দিয়েছেন স্থানীয় বিক্ষুব্ধ বাসিন্দারা।
গত রবিবার (২ আগস্ট) ধামরাই উপজেলার যাদবপুর ইউনিয়নের গোমগ্রাম এলাকায় মর্মান্তিক এই ঘটনাটি ঘটে। নিহত গৃহবধূর নাম পপি রাণী সরকার (২৭)। ঘটনার পর খবর পেয়ে পুলিশ রাতে নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে এবং ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকার শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠায়।
স্থানীয় সূত্র ও প্রতিবেশীদের কাছ থেকে জানা গেছে, পেশায় সিএনজিচালিত অটোরিকশাচালক লিটন সরকার দীর্ঘদিন ধরে মাদকাসক্ত ছিলেন। মাদকের টাকার জন্য এবং পারিবারিক নানা বিষযে প্রায়ই তিনি স্ত্রীর ওপর অমানুষিক শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালাতেন।
নিহতের পরিবারের স্বজনরা জানান, রবিবার দুপুরে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে ঝগড়া শুরু হয়। একপর্যায়ে ক্ষিপ্ত হয়ে সাত বছর বয়সী নিজের কোলের শিশুর সামনেই লাঠি দিয়ে স্ত্রীকে বেধড়ক পেটানো শুরু করেন লিটন। মারধরের চোটে অন্তঃসত্ত্বা পপি রাণী গুরুতর আহত হয়ে ঘরের মেঝেই ঢলে পড়েন এবং সংজ্ঞাহীন হয়ে যান। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে ঘটনার দিন সন্ধ্যার দিকে প্রতিবেশীদের সহায়তায় পপি রাণীকে কালামপুর হলি জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান লিটন। সেখানে পৌঁছালে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে মৃত ঘোষণা করেন।
হাসপাতালে মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার সাথে সাথেই উপস্থিত স্থানীয় লোকজন পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টারত লিটন সরকারকে আকড়ে ধরে আটক করেন। পরে থানা পুলিশে খবর দেওয়া হলে ধামরাই থানা পুলিশের একটি দল দ্রুত হাসপাতালে গিয়ে তাকে নিজেদের হেফাজতে নেয়।
নিহত পপি রাণীর বাবা পরিমল সরকার কান্নায় ভেঙে পড়ে অভিযোগ করেন, বিয়ের পর থেকেই তাঁর মেয়েটির জীবন বিষিয়ে তুলেছিল লিটন। কথায় কথায় নির্যাতন করাটা তাঁর অভ্যাসে পরিণত হয়েছিল। নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে পপি রাণীকে আগেও বেশ কয়েকবার নিজের বাবার বাড়িতে নিয়ে আসা হয়েছিল। তবে প্রতিবারই জামাই ভুল স্বীকার করে ও ক্ষমা চেয়ে আবার মেয়েকে ফিরিয়ে নিয়ে যেতেন। পরিমল সরকারের দাবি, নির্মম পিটুনির চোতেই তাঁর গর্ভবতী মেয়ের জীবন প্রদীপ নিভে গেছে।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে ধামরাই থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) শহিদুল ইসলাম জানান, প্রাথমিক সুরতহালে নিহতের শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন স্পষ্ট পাওয়া গেছে। অভিযুক্ত স্বামীকে ইতিমধ্যে আটক করা হয়েছে। ময়নাতদন্তের চূড়ান্ত প্রতিবেদন হাতে পেলে মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে। নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে এবং এ বিষয়ে কঠোর আইনানুগ পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।
মন্তব্য