খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ৩ই আগস্ট ২০২৬, ১০:৪৯ পিএম
ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট উপজেলায় কোনো ধরণের কাজ না করেই ৬টি ইউনিয়ন পরিষদ ভবনের মেরামত ও সংরক্ষণ বাবদ বরাদ্দকৃত ৬০ লাখ টাকা উত্তোলনের অভিযোগ উঠেছে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) বিরুদ্ধে। সদ্য সমাপ্ত অর্থবছরে প্রাপ্ত এই অর্থ কাগজে-কলমে শতভাগ কাজ সম্পন্ন দেখিয়ে ব্যাংক থেকে তুলে নেওয়া হলেও বাস্তবে ইউনিয়ন পরিষদগুলোতে সংস্কারের কোনো চিহ্নই মেলেনি।
স্থানীয় সরকার বিভাগের প্রাপ্ত তথ্যে জানা যায়, উপজেলার কৈচাপুর, ধারা, ধুরাইল, গাজিরভিটা, জুগলি এবং স্বদেশি— এই ৬টি ইউনিয়ন পরিষদ ভবনের সংস্কারের জন্য প্রত্যেকে ১০ লাখ টাকা করে মোট ৬০ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। সরকারি নিয়ম অনুযায়ী ঠিকাদার নিয়োগের মাধ্যমে ৩০ জুনের মধ্যে কাজ শেষ করে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার কথা থাকলেও সরজমিনে গিয়ে দেখা যায় ভিন্ন চিত্র। ভবনগুলোর ছাদের পলেস্তারা খসে পড়ছে, বাথরুম অকেজো এবং বৃষ্টির পানি চুইয়ে আসবাবপত্র নষ্ট হলেও কোথাও কোনো নতুন কাজের লেশমাত্র নেই।
ইউনিয়ন পরিষদের কর্মকর্তা ও স্থানীয়দের দেওয়া তথ্য এবং অনুসন্ধানের বিস্তারিত নিচে তুলে ধরা হলো:
| ইউনিয়ন পরিষদের নাম | প্রাপ্ত বরাদ্দ | সরজমিন কাজের অবস্থা | দায়িত্বশীল কর্মকর্তা ও স্থানীয়দের প্রতিক্রিয়া |
| কৈচাপুর ইউনিয়ন পরিষদ | ১০ লাখ টাকা | ছাদের পলেস্তারা খসে পড়ছে, কোনো সংস্কারের চিহ্ন নেই |
হিসাব সহকারী শফিকুর রহমান: “দেড় বছরে কোনো বরাদ্দ বা কাজ আসেনি।” সাবেক সদস্য কুলসুম বেগম: “কাজ হলে ঝকঝক করত।” |
| ধারা ইউনিয়ন পরিষদ | ১০ লাখ টাকা | ছাদ থেকে পানি পড়ে, বাথরুম অকেজো | প্রশাসনিক কর্মকর্তা সিরাজুল ইসলাম: “শুনেছি ১০ লাখ টাকা বরাদ্দ ছিল, কিন্তু কোনো কাজ হয়নি।” |
| ধুরাইল ইউনিয়ন পরিষদ | ১০ লাখ টাকা | ভবন ঝুঁকিপূর্ণ, পলেস্তারা খসে পড়ছে |
প্রশাসনিক কর্মকর্তা মিনহাজ উদ্দিন: “বরাদ্দ শুনলেও কাজ হয়নি। প্রতিবেদন ছাড়া বিল ওঠাই অন্যায়।” প্যানেল চেয়ারম্যান আবুল হাসেম: “বরাদ্দের খবর জানা নেই।” |
| গাজিরভিটা ইউনিয়ন পরিষদ | ১০ লাখ টাকা | বিগত অর্থবছরে কোনো সংস্কার হয়নি | প্রশাসনিক কর্মকর্তা সুব্রত দেবনাথ: “আমাদের এখানে সমাপ্ত অর্থবছরে কোনো সংস্কার কাজই হয়নি।” |
| জুগলি ইউনিয়ন পরিষদ | ১০ লাখ টাকা | কোনো ধরনের সংস্কার করা হয়নি | সরেজমিন অনুসন্ধানে কাজের কোনো অগ্রগতি বা উপস্থিতির সন্ধান পাওয়া যায়নি। |
| স্বদেশি ইউনিয়ন পরিষদ | ১০ লাখ টাকা | কোনো ধরনের সংস্কার করা হয়নি | ভবনের বেহাল দশা কাটেনি, কাজ সম্পূর্ণ অননুষ্ঠিত রয়ে গেছে। |
অভিযোগের বিষয়ে উপজেলা হিসাবরক্ষণ কার্যালয়ের অডিট অফিসার মঞ্জুরুল ইসলাম খান নিশ্চিত করেছেন যে, সব প্রাতিষ্ঠানিক নিয়ম মেনে সোনালী ব্যাংক থেকে ৬টি ইউনিয়নের ৬০ লাখ টাকাই ইতোমধ্যে উত্তোলন করা হয়েছে। অন্যদিকে এলজিইডির উপসহকারী প্রকৌশলী ইসমাইল হোসেন প্রথমে কাজ চলমান দাবি করলেও, পরে বক্তব্য বদলে জানান যে কাজ এখনো শুরু হতে বাকি।
এ প্রসঙ্গে হালুয়াঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফয়সাল আহমেদ জানান, সময় স্বল্পতার কারণে অফলাইনে চুক্তি ও ঠিকাদার নিয়োগের মাধ্যমে কাজগুলো বণ্টন করা হয়েছিল। টাকা উত্তোলন সত্ত্বেও কাজ না হওয়া প্রসঙ্গে তিনি বলেন, দ্রুত কাজ শুরুর জন্য ঠিকাদারদের আনুষ্ঠানিকভাবে চিঠি পাঠানো হবে।
পুরো ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছে জাতীয় নাগরিক পার্টির স্থানীয় সমন্বয়কসহ সাধারণ সেবা প্রার্থীরা। ঘটনা তদন্তের আশ্বাস দিয়ে ময়মনসিংহের জেলা প্রশাসক মো. সাইফুর রহমান সাফ জানিয়েছেন, অগ্রিম বিল তোলা হলেও নির্দিষ্ট অর্থবছরের মধ্যেই কাজ শেষ করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে; বিষয়টি খতিয়ে দেখে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মন্তব্য