খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ৪ই আগস্ট ২০২৬, ৫:৫৩ পিএম
বিশ্ব ফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা ও ইউরোপীয় ফুটবলের গর্ভনিং বডি উয়েফার মধ্যকার দীর্ঘদিনের সুপ্ত দ্বন্দ্ব এবার খোলাখুলি আইনি লড়াইয়ে রূপ নিয়েছে। ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর একটি উচ্চাকাঙ্ক্ষী ও বিতর্কিত আর্থিক পরিকল্পনা ভেস্তে যাওয়ার পর তাঁর বিরুদ্ধে সরাসরি কঠোর আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে উয়েফা।
পুরো ঘটনার সূত্রপাত ঘটেছিল ইনফান্তিনোর একটি গোপনীয় ব্যবসায়িক পরিকল্পনাকে কেন্দ্র করে। তিনি ভবিষ্যৎ ফিফা বিশ্বকাপের সম্প্রচার ও বাণিজ্যিক লভ্যাংশের একটি বিশাল অংশ বেসরকারি বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানের কাছে বিক্রি করে ৪.২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার তহবিল গঠনের পরিকল্পনা এঁকেছিলেন। ফুটবল বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সমর্থন আদায় করতে ফিফার অন্তর্ভুক্ত প্রতিটি সদস্য রাষ্ট্রকে এককালীন ২০ মিলিয়ন ডলার করে অনুদান দেওয়ার প্রতিশ্রুতি বা টোপ দেওয়া হয়েছিল।
তবে প্রস্তাবটি জানাজানি হতেই বিশ্ব ফুটবলে ক্ষোভের বিস্ফোরণ ঘটে। ইউরোপীয় ফুটবলের অভিভাবক উয়েফাসহ ইউরোপের পরাশক্তি দেশগুলো এর তীব্র বিরোধিতা শুরু করে। সংস্থাটির পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়, এই চুক্তি বাস্তবায়িত হলে তারা ফিফার সমস্ত বৈশ্বিক প্রতিযোগিতা বয়কট করবে। ইউরোপীয় ক্লাব ও ফুটবল বোর্ডগুলোর সমন্বিত চাপের মুখে শেষ পর্যন্ত ইনফান্তিনো তাঁর বিতর্কিত পথ থেকে পিছু হটতে বাধ্য হন।
তবে এই প্রত্যাহারেই উয়েফা শান্ত হয়নি। সুইজারল্যান্ডের জুরিখভিত্তিক বিশ্ব সংস্থাকে একটি আনুষ্ঠানিক আইনি চিঠি বা ‘প্রিজারভেশন লেটার’ ধরিয়ে দিয়েছে উয়েফা। আইনি ভাষায় এই নোটিশের অর্থ দাঁড়ায়—প্রস্তাবিত চুক্তি সম্পর্কিত সমস্ত নথি, ইমেইল, গোপন বার্তা ও দাপ্তরিক কাগজপত্র ফিফাকে সুরক্ষামূলকভাবে সংরক্ষণ করতে হবে। উয়েফা এই ঘটনায় ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো এবং তাঁর ঘনিষ্ঠ ১৮ জন শীর্ষ নির্বাহী কর্মকর্তার বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক মামলা বা আন্তর্জাতিক সালিশি আদালত (সিএএস)-এ যাওয়ার ব্যাপারে বেশ গুরুত্বের সঙ্গে ভাবছে।
আইনি জটিলতার পাশাপাশি রাজনৈতিকভাবেও চরম সংকটে পড়েছেন ইনফান্তিনো। বিশ্ব ফুটবলে তাঁর দীর্ঘ ১০ বছরের একক কর্তৃত্ব এখন বড় ধরনের নড়বড়ে পরিস্থিতির মুখে। আগামী মার্চে ফিফার পরবর্তী সভাপতি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ইউরোপীয় ফুটবলের নীতি নির্ধারকরা ইতিমধ্যে ইনফান্তিনোর বিকল্প হিসেবে একজন শক্তিশালী ও নির্ভরযোগ্য সভাপতি পদপ্রার্থী দাঁড় করানোর তৎপরতা শুরু করেছেন। যদি উয়েফা ও অন্যান্য প্রভাবশালী কনফেডারেশন একজোট হয়ে নতুন কোনো মুখ নিয়ে আসে, তবে ইনফান্তিনোর দীর্ঘ রাজত্বের অবসান ঘটতে পারে।
প্রখ্যাত ক্রীড়া বিশ্লেষকদের মতে, এই দ্বন্দ্ব শুধু একটি লভ্যাংশ বিক্রির প্রস্তাবের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। ক্লাব ফুটবলের বিপুল অর্থ এবং বিশ্বকাপের মতো মূল টুর্নামেন্টের নিয়ন্ত্রণ কার হাতে থাকবে, সেটিরই এক মনস্তাত্ত্বিক ও আইনি যুদ্ধ শুরু হলো ইউরোপ এবং জুরিখের মূল কার্যালয়ের মধ্যে। আগামী কয়েক মাসে ফিফা প্রশাসনের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি ও আইনি পদক্ষেপ নিশ্চিতভাবেই পুরো বিশ্ব ফুটবলের ভবিষ্যৎ কাঠামো রূপান্তরে বড় প্রভাব ফেলবে।
মন্তব্য