ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জ (আর্জেন্টিনায় যা ‘মালভিনাস’ নামে পরিচিত) নিয়ে বিশ্ব ফুটবলে রাজনৈতিক বিতর্ক নতুন রূপ নিয়েছে। অতি সম্প্রতি বিশ্বকাপে যুক্তরাজ্যের (ইংল্যান্ড) বিরুদ্ধে জয়ের পর আর্জেন্টাইন ফুটবলারদের ‘মালভিনাস আর্জেন্টিনার’ (Las Malvinas son Argentinas) সংবলিত ব্যানার প্রদর্শনের ঘটনায় আন্তর্জাতিক ফুটবল সংস্থা (ফিফা) ইতোমধ্যেই আনুষ্ঠানিক তদন্ত এবং শৃঙ্খলাভঙ্গের মামলা দায়ের করেছে। ফুটবল মাঠে অরাজনৈতিক নীতিমালার (আর্টিকেল ১৩, অনুচ্ছেদ ২-সি) পরিপন্থী কোনো রাজনৈতিক বার্তা প্রদর্শনের অভিযোগে ফিফার তদন্ত চলাকালীনই দেশের দ্বিতীয় বিভাগের দল আলমিরান্তে ব্রাউন (Almirante Brown) বিষয়টি নতুন করে আলোচনার শীর্ষে নিয়ে এসেছে।
আলমিরান্তে ব্রাউনের বিশেষ জার্সি ও প্রতিবাদ
রেসিং দে কর্দোবার বিরুদ্ধে দ্বিতীয় বিভাগের লিগ ম্যাচে নিজেদের চিরাচরিত হলুদ-কালো ডোরার পোশাক পরিবর্তন করে আর্জেন্টিনার জাতীয় পতাকার নীল-সাদা স্ট্রাইপের একটি বিশেষ জার্সি পরে মাঠে নামে আলমিরান্তে ব্রাউন।
-
জার্সির সামনের বার্তা: বুকের ওপর স্পষ্ট ও বড় অক্ষরে লেখা ছিল ‘Las Malvinas son Argentinas’ (মালভিনাস আর্জেন্টিনার)।
-
মেসির উদযাপন: জার্সির পেছনে নম্বরযুক্ত অংশের নিচে জাতীয় দলের অধিনায়ক লিওনেল মেসির দু’হাত আসমানের দিকে তুলে বিখ্যাত গোলের উদযাপনের অবয়ব বা ছবি আঁকা ছিল।
-
সোশ্যাল মিডিয়া বার্তা: ম্যাচ শুরুর আগের দিন ক্লাবটি ইনস্টাগ্রামে লিখেছিল, “মালভিনাসকে স্মরণ করে আগামীকাল আমরা বিশেষ জার্সি পরে খেলব। আর্জেন্টাইন হিসেবে আমরা গর্বিত”। আর জয়ের পর দলের একাদশের ছবি এক্স-এ (সাবেক টুইটার) পোস্ট করে ক্যাপশনে লেখা হয়—“ওরা আর্জেন্টাইন!”।
ফিফার সম্ভাব্য শাস্তি ও অতীত রেকর্ড
খেলার মাঠে অরাজনৈতিক পরিবেশ বজায় রাখতে ফিফার নিয়মকানুন অত্যন্ত কঠোর। যেকোনো অরাজনৈতিক সংস্থায় রাজনৈতিক বার্তা বা ব্যানার প্রদর্শন নিষিদ্ধ।
-
২০১৪ সালের নজির: এর আগে ২০১৪ সালে ব্রাজিলে আয়োজিত বিশ্বকাপের ঠিক আগে স্লোভেনিয়ার বিপক্ষে একটি প্রীতি ম্যাচে একই বার্তা সম্বলিত ব্যানার উঁচিয়ে ধরার কারণে আর্জেন্টাইন ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনকে (AFA) ২০,০০০০ পাউন্ড (বা ৩০,০০০ সুইস ফ্রাঁ) জরিমানা করেছিল ফিফা।
-
বর্তমান তদন্ত: সম্প্রতি বিশ্বকাপ সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডকে হারানোর পর একই ব্যানার প্রদর্শন করায় বিশ্বজুড়ে তীব্র প্রতিবাদের মুখে ফিফা আনুষ্ঠানিক চার্জ গঠন করেছে। এতে জরিমানা ছাড়াও এএফএ এবং জাতীয় দলের ওপর প্রশাসনিক শাস্তির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
ফকল্যান্ড/মালভিনাস বিরোধের পেছনের ইতিহাস
আর্জেন্টিনার মূল ভূখণ্ড থেকে প্রায় ৩০০ মাইল দক্ষিণ-পূর্বে অবস্থিত এই দ্বীপপুঞ্জটি ১৮৩৩ সাল থেকে যুক্তরাজ্যের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে (যা ‘ফকল্যান্ডস’ নামে পরিচিত)। ১৯৮২ সালে ৭৪ দিনের সংক্ষিপ্ত কিন্তু রক্তক্ষয়ী এক যুদ্ধে যুক্তরাজ্য ও আর্জেন্টিনা মুখোমুখি হয়। ওই যুদ্ধে প্রায় ৯১০ জন (যার মধ্যে ৬৪৯ জন আর্জেন্টাইন এবং ২৫৫ জন ব্রিটিশ সেনা) প্রাণ হারান।
যদিও পরবর্তীতে আন্তর্জাতিক কূটনৈতিকভাবে পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি ঘটে, কিন্তু আর্জেন্টিনার জনগণের আবেগ ও জাতীয়তাবাদী চেতনায় আজও ‘মালভিনাস’ তাদের নিজস্ব ভূখণ্ড হিসেবেই বিবেচিত হয়।



