খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ৫ই আগস্ট ২০২৬, ২:৩৮ পিএম
রাজধানীর মোহাম্মদপুরে অবস্থিত সরকারি গ্রাফিক আর্টস ইনস্টিটিউটের আবাসিক হলের নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্র করে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল ও ইসলামী ছাত্রশিবিরের কর্মীদের মধ্যে মধ্যরাতে হাতাহাতি ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে ইসলামী ছাত্রশিবিরের অন্তত এক কর্মী গুরুতর আহত হয়েছেন। মঙ্গলবার দিবাগত রাত পৌনে ১টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও সরেজমিন সূত্রে জানা গেছে, সরকারি গ্রাফিক আর্টস ইনস্টিটিউট ছাত্রদলের আহ্বায়ক তামিম মাতুব্বর এবং ঢাকা মহানগর পশ্চিম ছাত্রদলের সহ-সভাপতি মোতাহার হোসেনের নেতৃত্বে ছাত্রদলের কর্মী-সমর্থকেরা ইনস্টিটিউটের আবাসিক হলে প্রবেশ করেন। সেখান থেকে ছাত্রশিবিরের ১০ থেকে ১৫ জন শিক্ষার্থীকে ব্যাগ ও ব্যক্তিগত কম্পিউটারসহ জোরপূর্বক হল থেকে বের করে দেওয়া হয়।
শিক্ষার্থীদের হল থেকে বের করার পর ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা তাদের ধাওয়া দেন এবং শারীরিক নির্যাতন চালিয়ে ইনস্টিটিউটের সামনে থেকে মোহাম্মদপুর বাসস্ট্যান্ডের দিকে নিয়ে যান। পরবর্তীতে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা ক্যাম্পাসের সামনে থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করেন। মিছিলটি মোহাম্মদপুর থানার সামনে হয়ে ধানমন্ডি ২৭ নম্বর ক্রসিং অতিক্রম করে শেষ হয়। এ সময় তারা ছাত্রশিবিরবিরোধী বিভিন্ন স্লোগান দেন।
ইনস্টিটিউটের নিরাপত্তা প্রহরী খশিয়ার জানান, রাত ১২টার দিকে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা এক শিক্ষার্থীকে এলোপাতাড়ি মারধর করে। পরে আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য ইনস্টিটিউটের ঠিক বিপরীতে অবস্থিত ঢাকা সিটি হসপিটালে নিয়ে যাওয়া হয়। আহত শিক্ষার্থীর নাম মেহেদী এবং তিনি ছাত্রশিবিরের কর্মী বলে জানা গেছে।
ঘটনার শিকার ছাত্রশিবিরের এক সদস্য (নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক) ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করে জানান:
“হলের ভেতরে আমাদের ওপর ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা হামলা ও মারধর চালায়। রাতদুপুরে তারা জোরপূর্বক আমাদের অন্তত ১৫ জন শিক্ষার্থীকে হল থেকে বের হতে বাধ্য করে। মাঝরাতে আমরা এখন কোথায় যাব, বুঝতে পারছি না।”
অন্যদিকে, সরকারি গ্রাফিক আর্টস ইনস্টিটিউট ছাত্রদলের আহ্বায়ক তামিম মাতুব্বর এ বিষয়ে জানান, প্রথমে হল থেকে ছাত্রলীগের ‘রোহান’ নামে এক কর্মীকে বের করে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছিল। কিন্তু এতে ছাত্রশিবিরের কর্মীরা বাধা দেন। বাকবিতণ্ডার এক পর্যায়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হলে সুযোগ বুঝে ওই ছাত্রলীগ কর্মী পালিয়ে যান।
তবে ঢাকা মহানগর পশ্চিম ছাত্রদলের সহ-সভাপতি মোতাহার হোসেন ভিন্ন অভিযোগ এনে বলেন:
“মঙ্গলবার দিনভর ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীরা দফায় দফায় ছাত্রদলের ওপর হামলা চালিয়েছে। এতে আমাদের বেশ কয়েকজন নেতাকর্মী আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। রাতে আমরা জানতে পারি, ছাত্রশিবিরের কিছু নেতাকর্মী গ্রাফিক আর্টস ইনস্টিটিউটের হলে অবস্থান নিয়ে বড় ধরনের নাশকতার পরিকল্পনা করছে। সংঘাত এড়াতে ও নিরাপত্তা বজায় রাখতে আমরা তাদের হল থেকে বের করে দিয়েছি।”
ঘটনার পরপরই খবর পেয়ে মোহাম্মদপুর থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এবং দুইজন পরিদর্শকের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। পুলিশ আসার পর ক্যাম্পাসের পরিস্থিতি শান্ত হয় এবং সংঘর্ষের মাত্রা বাড়েনি।
সার্বিক পরিস্থিতি আপাতদৃষ্টে নিয়ন্ত্রণে আসায় পুলিশ কর্মকর্তারা সেখান থেকে প্রস্থান করলেও অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা এড়াতে বর্তমানে ইনস্টিটিউটের সামনে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রাখা হয়েছে। তবে ওই রাতের ঘটনা ও সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে দায়িত্বরত পুলিশের কোনো কর্মকর্তা গণমাধ্যমের সামনে সরাসরি মন্তব্য করতে রাজি হননি। পরিস্থিতি এখন থমথমে হলেও শান্ত রয়েছে।
মন্তব্য