খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ৫ই আগস্ট ২০২৬, ৪:২২ পিএম
শরীয়তপুরে জুলাই গণ-অভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে জেলা প্রশাসনের আয়োজিত রাষ্ট্রীয় সংবর্ধনা অনুষ্ঠানকে ঘিরে দুই জুলাই যোদ্ধাকে লাঞ্ছিত ও অনুষ্ঠানস্থল থেকে বের করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের তীর বিএনপির কয়েকজন নেতা-কর্মীর দিকে, যাদের মধ্যে শরীয়তপুর সদর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মাহবুব মোর্শেদ টিপু মাদবরের নামও রয়েছে। তবে অভিযোগ অস্বীকার করে বিএনপির পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, মারধরের কোনো ঘটনা ঘটেনি; কেবল তর্ক-বিতর্কের একপর্যায়ে তাঁদের অনুষ্ঠানস্থল থেকে বের করে দেওয়া হয়।
বুধবার (৫ আগস্ট) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে শরীয়তপুর পৌরসভা অডিটরিয়ামে এই ঘটনা ঘটে। জুলাই গণ-অভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে আয়োজিত সংবর্ধনা ও আলোচনা সভায় জুলাই শহীদ পরিবারের সদস্য, জুলাই যোদ্ধা, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধি এবং সুশীল সমাজের সদস্যরা অংশ নেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক তাহসিনা বেগম।
ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কয়েকটি ভিডিও দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে দেখা যায়, অনুষ্ঠান চলাকালে সদর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মাহবুব মোর্শেদ টিপু মাদবরের সঙ্গে জুলাই যোদ্ধা জাকির হোসেন মিন্টু (আদর) এবং বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের শরীয়তপুর জেলা শাখার সাবেক আহ্বায়ক ইমরান আল নাজিরের বাগ্বিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে ধাক্কাধাক্কির পরিস্থিতি তৈরি হলে তাঁদের অনুষ্ঠানস্থল থেকে বের করে দেওয়া হয়। ভিডিওটি ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে।
হামলার শিকার হওয়ার দাবি করে জুলাই যোদ্ধা জাকির হোসেন মিন্টু (আদর) বলেন, সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে যাওয়ার আগেই একদল ব্যক্তি সেখানে হট্টগোল শুরু করেন। তাঁদের দাবি ছিল, শরীয়তপুরে কোনো জুলাই যোদ্ধা নেই এবং এখানে কোনো আন্দোলনও হয়নি। পরে তিনি অনুষ্ঠানস্থলে প্রবেশ করলে তাঁকে পরিচয় জানতে চাওয়া হয়। এরপর তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, টিপু মাদবর তাঁকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করে অনুষ্ঠানস্থল থেকে বের করে দেন। তিনি এ ঘটনার নিন্দা জানিয়ে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি করেন।
একই অভিযোগ করেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের শরীয়তপুর জেলা শাখার সাবেক আহ্বায়ক ইমরান আল নাজির। তাঁর বক্তব্য, জেলা প্রশাসকের আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণে তাঁরা রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানে অংশ নিতে গিয়েছিলেন। কিন্তু সেখানে বিএনপির কয়েকজন নেতা-কর্মী তাঁদের ওপর হামলা চালিয়ে মারধর করেন এবং জোর করে বের করে দেন। পুরো ঘটনাটি প্রশাসনের উপস্থিতিতেই ঘটেছে বলে দাবি করে তিনি বলেন, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তখন কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেয়নি।
অন্যদিকে অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন মাহবুব মোর্শেদ টিপু মাদবর। তাঁর দাবি, জুলাই আন্দোলনে বিএনপির গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল এবং এ বিষয়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক মহলও ইতোমধ্যে বক্তব্য দিয়েছে। তিনি অভিযোগ করেন, ইমরান আল নাজিরসহ এনসিপির কয়েকজন নেতা দীর্ঘদিন ধরে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ও তাঁর পরিবারকে নিয়ে কটূক্তি করে আসছেন। অনুষ্ঠানেও একই ধরনের মন্তব্য করায় প্রতিবাদ জানাতে গেলে উভয় পক্ষের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়। পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে তাঁদের অনুষ্ঠানস্থল থেকে বের করে দেওয়া হয়। তবে মারধরের অভিযোগ সত্য নয় বলে তিনি দাবি করেন।
ঘটনার সময় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। তবে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. তানভির হোসেন এ বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।
জেলা প্রশাসক তাহসিনা বেগম বলেন, অনুষ্ঠান চলাকালে তাঁর নজরে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা আসেনি। তাঁর ধারণা, যদি কিছু ঘটে থাকে, সেটি অনুষ্ঠানের আগে ঘটতে পারে। তিনি জানান, পুরো অনুষ্ঠান শান্তিপূর্ণভাবেই শেষ হয়েছে। বিষয়টি সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহের পর প্রয়োজনীয় মন্তব্য করা হবে।
প্রসঙ্গত, জুলাই গণ-অভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে এদিন সারা দেশে রাষ্ট্রীয়ভাবে বিভিন্ন কর্মসূচি পালিত হয়। এর অংশ হিসেবে শরীয়তপুরে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে জুলাই শহীদ পরিবারের সদস্য ও জুলাই যোদ্ধাদের সম্মাননা প্রদান, আলোচনা সভা এবং স্মরণমূলক আয়োজন করা হয়। তবে সংবর্ধনা অনুষ্ঠানকে ঘিরে ওঠা লাঞ্ছনার অভিযোগ পুরো আয়োজনকে বিতর্কের মুখে ফেলেছে। ঘটনার প্রকৃত চিত্র নির্ধারণে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের তদন্ত বা আনুষ্ঠানিক পদক্ষেপের দিকেই এখন সবার নজর।
মন্তব্য