খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ৬ই আগস্ট ২০২৬, ৪:৩৪ পিএম
রাজধানীর সবুজবাগ থানার মাদারটেক এলাকায় এক নারীর খণ্ডিত মাথা ও শরীর থেকে বিচ্ছিন্ন দুই হাত উদ্ধার করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) সকালে এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। নিহত নারীর পরিচয় এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। পুলিশ ও অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) মরদেহের পরিচয় শনাক্ত এবং ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটনে কাজ শুরু করেছে।
পুলিশ জানায়, বৃহস্পতিবার সকাল প্রায় ৯টার দিকে স্থানীয় বাসিন্দারা মাদারটেক বাগানবাড়ি কালভার্ট–সংলগ্ন খালপাড়ে একটি সন্দেহজনক পলিথিনের বস্তা পড়ে থাকতে দেখে থানায় খবর দেন। পরে সবুজবাগ থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে খালের পাশে জমে থাকা ময়লার স্তূপে একটি পলিথিনের ভেতর থেকে এক অজ্ঞাত নারীর খণ্ডিত মাথা এবং শরীর থেকে বিচ্ছিন্ন দুই হাত উদ্ধার করে।
সবুজবাগ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) নুরে আলম সিদ্দিক জানান, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, মরদেহের অংশগুলো অন্য কোথাও হত্যার পর ঘটনাস্থলে এনে ফেলে রাখা হয়েছে। তবে হত্যাকাণ্ডটি কোথায় সংঘটিত হয়েছে বা কী কারণে এমন নৃশংসতা ঘটানো হয়েছে, সে বিষয়ে এখনই নিশ্চিতভাবে কিছু বলা সম্ভব নয়। তদন্তের অগ্রগতির ওপর নির্ভর করেই এসব বিষয়ে স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যাবে।
খবর পেয়ে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)-এর অপরাধ শনাক্তকরণ দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে আলামত সংগ্রহ করে। মরদেহের পরিচয় শনাক্তের উদ্দেশ্যে উদ্ধার হওয়া হাত থেকে আঙুলের ছাপ সংগ্রহ করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্যভান্ডার এবং অন্যান্য প্রাসঙ্গিক রেকর্ডের সঙ্গে মিলিয়ে নিহতের পরিচয় নিশ্চিত করার চেষ্টা চলছে। একই সঙ্গে ঘটনাস্থল থেকে প্রয়োজনীয় নমুনা সংগ্রহ করে ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য সংরক্ষণ করা হয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, উদ্ধার হওয়া মরদেহের অংশগুলো ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজের মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনের মাধ্যমে মৃত্যুর কারণ, হত্যার সম্ভাব্য সময় এবং ব্যবহৃত পদ্ধতি সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যেতে পারে বলে তদন্তসংশ্লিষ্টরা আশা করছেন।
এদিকে নিহত নারীর দেহের বাকি অংশ উদ্ধারে আশপাশের খাল, ড্রেন এবং সম্ভাব্য অন্যান্য স্থানে অনুসন্ধান চালানো হচ্ছে। পাশাপাশি এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ, স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলা এবং সাম্প্রতিক সময়ে নিখোঁজ হওয়া নারীদের তথ্য যাচাইয়ের কাজও চলছে।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কর্মকর্তারা বলছেন, এমন নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ক্ষেত্রে ভুক্তভোগীর পরিচয় শনাক্ত করাই তদন্তের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ধাপ। পরিচয় নিশ্চিত করা গেলে তাঁর চলাফেরা, পরিচিতজন, পারিবারিক ও সামাজিক যোগাযোগ এবং সর্বশেষ অবস্থান সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করে ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটন সহজ হবে। পুলিশ জানিয়েছে, তদন্তের স্বার্থে সম্ভাব্য সব দিক গুরুত্ব দিয়ে খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং দেহের অবশিষ্টাংশ উদ্ধারের পাশাপাশি হত্যাকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
মন্তব্য