খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ৬ই আগস্ট ২০২৬, ৫:১০ পিএম
দীর্ঘ আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারে অসংখ্য প্রতিপক্ষের বিপক্ষে খেললেও বাংলাদেশের বিপক্ষে খুব বেশি ম্যাচ খেলার সুযোগ হয়নি অস্ট্রেলিয়ার অভিজ্ঞ পেসার জশ হ্যাজলউডের। তাই আসন্ন বাংলাদেশ-অস্ট্রেলিয়া টেস্ট সিরিজকে ঘিরে এক ধরনের নতুন অভিজ্ঞতা ও রোমাঞ্চের কথা জানিয়েছেন তিনি। অপরিচিত প্রতিপক্ষ, অজানা ভেন্যু এবং ভিন্ন কন্ডিশনের এই সিরিজকে চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছেন ৩৪ বছর বয়সী এই ডানহাতি পেসার।
প্রায় ১৫ বছরের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারে চারশর বেশি পেশাদার ম্যাচ খেলেছেন হ্যাজলউড। কিন্তু বাংলাদেশের বিপক্ষে তার ম্যাচ সংখ্যা মাত্র ৯টি। এর মধ্যে টেস্ট খেলেছেন কেবল একটি। সর্বশেষ ২০১৭ সালে বাংলাদেশ সফরে দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজে অংশ নিয়েছিলেন তিনি। এরপর গত জুনে অস্ট্রেলিয়ার বাংলাদেশ সফরে দলে থাকলেও খেলেননি। ফলে বর্তমান বাংলাদেশ দলের অনেক ক্রিকেটারের বিপক্ষে মাঠে নামার অভিজ্ঞতা তার নেই বললেই চলে।
বাংলাদেশ ও অস্ট্রেলিয়ার মধ্যকার দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজ শুরু হবে আগামী ১৩ আগস্ট ডারউইনে। দীর্ঘ ২৩ বছর পর অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে টেস্ট সিরিজ খেলতে যাচ্ছে বাংলাদেশ। একই সঙ্গে অস্ট্রেলিয়াও ২২ বছর পর ডারউইনে টেস্ট আয়োজন করছে। সিরিজের দ্বিতীয় ও শেষ টেস্ট অনুষ্ঠিত হবে ম্যাকাইয়ে, যা দুই দলের জন্যই তুলনামূলক নতুন অভিজ্ঞতা নিয়ে আসবে।
আসন্ন সিরিজ নিয়ে ‘আনপ্লেয়েবল পডকাস্ট’-এ কথা বলতে গিয়ে হ্যাজলউড বলেন, সামনে অনেক অচেনা বিষয়ের মুখোমুখি হতে হবে। মাঠ নতুন, উইকেট সম্পর্কে খুব বেশি ধারণা নেই, আর এই কন্ডিশনে বাংলাদেশের বিপক্ষেও খুব বেশি খেলার অভিজ্ঞতা নেই। তবে তিনি মনে করেন, এমন পরিস্থিতিই একজন ক্রিকেটারের জন্য বাড়তি উৎসাহ তৈরি করে এবং নতুন চ্যালেঞ্জ গ্রহণের সুযোগ এনে দেয়।
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের ব্যাটারদের নিয়ে ভিডিও বিশ্লেষণ এবং তাদের ব্যাটিং প্রবণতা সম্পর্কে ধারণা নেওয়া সম্ভব। কিন্তু মাঠের বাস্তব পরিস্থিতি সব সময় আলাদা হয়ে থাকে। তাই ম্যাচ চলাকালীন পরিস্থিতি বুঝে পরিকল্পনা বদলানোর মানসিক প্রস্তুতি রাখতে হবে। তার মতে, এ ধরনের মানিয়ে নেওয়ার প্রক্রিয়াই একজন ক্রিকেটারকে সতেজ রাখে এবং প্রতিটি সিরিজকে আলাদা করে তোলে।
টেস্ট ক্রিকেটে সফল হওয়ার মূল চাবিকাঠি সম্পর্কে হ্যাজলউড বলেন, এই সংস্করণে পরিকল্পনা খুব জটিল নয়। নিজের শক্তির জায়গায় ধারাবাহিকভাবে বল করা এবং দীর্ঘ সময় ধরে একই মান ধরে রাখাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। ম্যাচ যত এগোয়, উইকেটের আচরণ ও ব্যাটারদের পরিকল্পনা অনুযায়ী কিছু পরিবর্তন আনতে হয়। তবে টেস্ট ক্রিকেটের সৌন্দর্যই হলো, সেখানে পরিস্থিতি বুঝে নিজেদের মানিয়ে নেওয়ার যথেষ্ট সময় পাওয়া যায়।
একই অনুষ্ঠানে সাবেক অস্ট্রেলিয়ান পেসার কেইন রিচার্ডসনও ডারউইনের উইকেট নিয়ে নিজের পর্যবেক্ষণ তুলে ধরেন। তার মতে, অস্ট্রেলিয়ার প্রচলিত দ্রুতগতির ও বাউন্সসমৃদ্ধ উইকেটের সঙ্গে ডারউইনের উইকেটের পার্থক্য থাকতে পারে। তিনি মনে করেন, এখানে পেসাররা হয়তো অতটা সিম মুভমেন্ট, সুইং কিংবা অতিরিক্ত বাউন্স পাবেন না, যেটা সাধারণত অস্ট্রেলিয়ার অন্যান্য ভেন্যুতে দেখা যায়।
রিচার্ডসনের ধারণা, ডারউইনের উইকেটে তুলনামূলক নিচু বাউন্স দেখা যেতে পারে, যা উপমহাদেশের কন্ডিশনের সঙ্গে কিছুটা মিল তৈরি করতে পারে। এমন পরিস্থিতি তৈরি হলে স্পিনারদের ভূমিকা আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে এবং বাংলাদেশও সেই দিক থেকে কিছুটা সুবিধা পেতে পারে।
এই সিরিজ তাই কেবল দুই দলের শক্তির লড়াই নয়, বরং অপরিচিত কন্ডিশনে দ্রুত মানিয়ে নেওয়ার পরীক্ষাও হতে যাচ্ছে। একদিকে অস্ট্রেলিয়া নিজেদের মাটিতে দীর্ঘদিন পর ডারউইনে টেস্ট খেলবে, অন্যদিকে বাংলাদেশ প্রায় আড়াই দশক পর অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে টেস্ট সিরিজ খেলতে নামছে। ফলে নতুন ভেন্যু, ভিন্ন উইকেট এবং দুই দলের পারস্পরিক সীমিত অভিজ্ঞতা—সব মিলিয়ে সিরিজটি শুরু হওয়ার আগেই ক্রিকেটপ্রেমীদের আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।
মন্তব্য