সাতক্ষীরার শ্যামনগরে এক নারীর বাসায় প্রবেশ করার পর আব্দুল মান্নান নামের এক যুবদল নেতাকে অনৈতিক অবস্থায় আটক করে মারধরের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় বাসিন্দাদের বিরুদ্ধে। গত বৃহস্পতিবার রাতে উপজেলার মুন্সিগঞ্জ ইউনিয়নের হরিনগর গ্রামে এই ঘটনা ঘটে। ঘটনার পরপরই আটক ও মারধরের একাধিক ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ায় পুরো এলাকা জুড়ে তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
আটক হওয়া আব্দুল মান্নান শ্যামনগর পৌরসভার চন্ডিপুর গ্রামের আব্দুর রহিমের ছেলে। তিনি শ্যামনগর পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের সভাপতির দায়িত্বে রয়েছেন।
স্থানীয় সূত্র ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বৃহস্পতিবার রাতে হরিনগর গ্রামের ওই নারীর বসতবাড়ি স্থানীয় জনতা ঘিরে ফেলে। সন্দেহজনকভাবে প্রবেশের জেরে উত্তেজিত জনতা ঘরের দরজা ভেঙে আব্দুল মান্নানকে বস্ত্রহীন অবস্থায় আটক করে বাইরে নিয়ে আসে। এরপর বারান্দার একটি খুঁটির সাথে তাকে বেঁধে রেখে শারীরিক নির্যাতন চালানো হয় বলে অভিযোগ ওঠে। খবর পেয়ে উপজেলা যুবদলের কয়েকজন স্থানীয় নেতাকর্মী দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছান এবং তাকে উদ্ধার করে নিয়ে যান।
মুন্সিগঞ্জ ইউনিয়ন বিএনপির নেতাকর্মী ও স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ভুক্তভোগী নারী ও আব্দুল মান্নান কর্মসূত্রে আগে থেকেই একে অপরকে চিনতেন। ভুক্তভোগী নারীর অভিযোগ, বেশ কিছু দিন ধরে মান্নান তাকে ব্ল্যাকমেইল করার চেষ্টা করছিলেন এবং বাড়িতে গিয়ে অনৈতিক প্রস্তাব দিতেন। বৃহস্পতিবার রাতে বাজারে পৌঁছে দেওয়ার কথা বলে তিনি কৌশলে ওই নারীর ঘরে ঢোকেন। তখনই টের পেয়ে আশপাশের মানুষ ঘরটি বাইরে থেকে অবরুদ্ধ করে ফেলে।
দলীয় সূত্র জানায়, আব্দুল মান্নানের বিরুদ্ধে শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগ এবারই প্রথম নয়। এর আগে ২০২৫ সালের জুলাই মাসে একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে ঢুকে চাঁদা দাবি ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের সুনির্দিষ্ট অভিযোগে পৌর যুবদলের পক্ষ থেকে তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল। নতুন করে এই ঘটনা সামনে আসার পর পৌর যুবদলের ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক ফরিদুজ্জামান বাবু জানান, ভিডিও ও স্থানীয়দের মাধ্যমে পুরো বিষয়টি তারা জেনেছেন। সংগঠনের নীতি ও শৃঙ্খলা ভঙ্গের কারণে মান্নানের বিরুদ্ধে দ্রুতই চূড়ান্ত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
শ্যামনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শাফিউল আলম পাটোয়ারী জানান, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিডিও ছড়ানোর বিষয়টি পুলিশের নজরদারিতে এসেছে। তবে এ বিষয়ে কোনো পক্ষই থানায় লিখিত কোনো অভিযোগ জমা দেয়নি। পুলিশ পৌঁছানোর আগেই দুই পরিবারের জ্যেষ্ঠ সদস্যরা নিজেদের মধ্যে আলোচনা করে বিষয়টি নিষ্পত্তি করেন। ঘটনার পর থেকে আব্দুল মান্নানের ব্যবহৃত মুঠোফোনটি বন্ধ থাকায় তার ব্যক্তিগত বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
মন্তব্য