খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ১০ই আগস্ট ২০২৬, ২:৫১ পিএম
জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জে এক নারীকে ধর্ষণের মামলায় দুই আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাঁদের প্রত্যেককে এক লাখ টাকা করে অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে। দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়ায় সাক্ষ্য ও অন্যান্য প্রমাণ পর্যালোচনা শেষে সোমবার এই রায় ঘোষণা করা হয়।
সোমবার (১০ আগস্ট) দুপুরে জামালপুর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১-এর বিচারক মুহাম্মদ আব্দুর রহিম এ রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণার সময় দণ্ডপ্রাপ্ত দুই আসামিই আদালতে উপস্থিত ছিলেন।
মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন দেওয়ানগঞ্জ উপজেলার নিমাইমারী এলাকার মৃত মোবারক আলীর ছেলে আশকর আলী (৪০) এবং একই এলাকার আসমত আলীর ছেলে জাহিদুল ইসলাম (৩৫)।
মামলার নথি ও আদালত সূত্রে জানা গেছে, ২০২২ সালের ৩১ মার্চ রাত আনুমানিক ১১টার দিকে দেওয়ানগঞ্জ উপজেলার নিমাইমারী এলাকায় একটি বসতঘরে ৪০ বছর বয়সী ওই নারীকে ধর্ষণ করেন আশকর আলী ও জাহিদুল ইসলাম। ঘটনার একপর্যায়ে ভুক্তভোগীর চিৎকার শুনে আশপাশের লোকজন সেখানে ছুটে যান। স্থানীয় লোকজন দুই আসামিকে আটকও করেন।
তবে পরে স্থানীয়ভাবে ঘটনাটি আপস-মীমাংসার মাধ্যমে নিষ্পত্তির উদ্যোগ নেওয়া হয়। সেই প্রক্রিয়ায় দুই আসামিকে ছেড়ে দেওয়া হয় বলে মামলার বিবরণে উল্লেখ রয়েছে। পরবর্তীতে ভুক্তভোগী নারীর ছেলে বাদী হয়ে থানায় মামলা করেন।
মামলা দায়েরের পর তদন্ত শেষে আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়। এরপর আদালতে শুরু হয় বিচারিক কার্যক্রম। দীর্ঘ সময়ে মামলার সাক্ষীদের সাক্ষ্য গ্রহণ এবং সংশ্লিষ্ট সাক্ষ্য-প্রমাণ পর্যালোচনা করা হয়। বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে আদালত দুই আসামিকে দোষী সাব্যস্ত করে সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দেন। একই সঙ্গে প্রত্যেককে এক লাখ টাকা করে অর্থদণ্ড দেওয়া হয়।
রায় ঘোষণার পর রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী মামলার বিচারিক ফলাফলকে গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেন। জামালপুর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১-এর রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি ফজলুল হক বলেন, মামলায় উপস্থাপিত সাক্ষ্য-প্রমাণ পর্যালোচনা শেষে আদালত আশকর আলী ও জাহিদুল ইসলামকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন। পাশাপাশি তাঁদের প্রত্যেককে এক লাখ টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে।
নারী ও শিশু নির্যাতনের মতো গুরুতর অপরাধের ক্ষেত্রে আদালতের বিচারিক কার্যক্রমে সাক্ষ্য-প্রমাণের গুরুত্ব অত্যন্ত বেশি। এই মামলাতেও দীর্ঘ বিচারপ্রক্রিয়ার পর আদালতের রায়ে দুই আসামির বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ শাস্তির আদেশ এসেছে। রায় ঘোষণার সময় আসামিদের আদালতে উপস্থিত থাকার বিষয়টিও মামলার কার্যক্রমের অংশ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
মামলার রায়ের মধ্য দিয়ে ২০২২ সালে ঘটে যাওয়া ওই ধর্ষণের ঘটনার বিচারিক প্রক্রিয়ায় একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ শেষ হলো। তবে মৃত্যুদণ্ডের রায় কার্যকর হওয়ার আগে আইনি প্রক্রিয়ার পরবর্তী ধাপগুলো সম্পন্ন হওয়ার বিষয়টি প্রযোজ্য থাকবে।
মন্তব্য