চট্টগ্রামের হাটহাজারী থানায় দায়ের করা একটি চাঁদাবাজির মামলায় অঞ্চলের তালিকাভুক্ত শীর্ষ সন্ত্রাসী মোবারক হোসেন ইমন ওরফে ডেভিড ইমনকে পাঁচ দিনের পুলিশ রিমান্ডে পাঠিয়েছেন আদালত। বুধবার (১২ আগস্ট) দুপুরে চট্টগ্রামের দ্বিতীয় জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট লোকমান হাকিম উভয় পক্ষের আইনি শুনানি শেষে এই রিমান্ডের আদেশ মঞ্জুর করেন।
আদালতের প্রশাসনিক সূত্রে জানা যায়, হাটহাজারী থানার এই মামলায় আসামি ডেভিড ইমনকে নিজেদের হেফাজতে নিয়ে নিবিড় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তদন্তকারী কর্মকর্তার পক্ষ থেকে সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করা হয়েছিল। দীর্ঘ শুনানি শেষে সার্বিক বিবেচনায় বিচারক পাঁচ দিনের পুলিশি রিমান্ড মঞ্জুর করেন। বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেছেন আদালত পরিদর্শক হাবিবুর রহমান।
চট্টগ্রাম ও পার্শ্ববর্তী অঞ্চলের অপরাধ জগতে ‘ডেভিড ইমন’ একটি আলোচিত ও পরিচিত নাম। চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ জানিয়েছে, তার বিরুদ্ধে অঞ্চলজুড়ে জোড়া খুন, অবৈধ অস্ত্র বহণ ও ব্যবহার, জায়গা জমি দখল এবং ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে দীর্ঘদিন ধরে চাঁদা আদায়সহ অন্তত ১৮টি গুরুতর ও স্পর্শকাতর মামলা রয়েছে। বিভিন্ন মামলায় দীর্ঘদিন ধরেই সে পুলিশি নজরদারিতে ছিল এবং বেশ কয়েকটি অভিযোগে তার বিরুদ্ধে পরোয়ানা জারি ছিল।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অব্যাহত অভিযানের অংশ হিসেবে গত ২৯ জুলাই ভোরে নড়াইল-যশোর সড়কের ঝুমঝুম এলাকায় অভিযান চালিয়ে ডেভিড ইমনকে গ্রেফতার করা হয়। একটি দ্রুতগামী গাড়ি নিয়ে এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যাওয়ার সময় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পুলিশ তাকে এবং তার তিন সহযোগীকে ঘিরে ফেলে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়। গ্রেফতারের পরদিন, অর্থাৎ ৩০ জুলাই ফটিকছড়ি ও হাটহাজারী থানার পৃথক তিনটি মামলায় তাকে দৃশ্যত গ্রেফতার দেখিয়ে আদালতের মাধ্যমে জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছিল।
পরবর্তীতে তার বিরুদ্ধে থাকা একাধিক পুরাতন ও নতুন মামলার তদন্তকাজ দ্রুত গতিতে শুরু করে সংশ্লিষ্ট থানাগুলো। এর অংশ হিসেবে গত ২ আগস্ট ফটিকছড়ি থানার একটি চাঞ্চল্যকর হত্যা মামলায় পাঁচ দিন এবং একই থানার একটি পৃথক অস্ত্র মামলায় আরও পাঁচ দিন—মোট দশ দিনের রিমান্ডের আবেদন জানিয়েছিল পুলিশ।
তদন্তকারী কর্মকর্তারা মনে করছেন, হাটহাজারীর চাঁদাবাজির মামলায় নতুন করে রিমান্ড মঞ্জুর হওয়ায় ডেভিড ইমনকে জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে চট্টগ্রাম ও এর আশপাশের এলাকায় সক্রিয় চাঁদাবাজ চক্রের সদস্য, অপরাধে ব্যবহৃত অবৈধ অস্ত্রের উৎস এবং তার বাহিনীর অন্যান্য পলাতক সদস্যদের অবস্থান সম্পর্কে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও গোপনীয় তথ্য উঠে আসবে।
মন্তব্য