রাজশাহীর পুঠিয়া উপজেলায় জমিসংক্রান্ত পুরানো বিরোধের জেরে দুই পক্ষের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এই সহিংসতায় আব্দুল করিম (৩৬) নামের এক ব্যক্তি প্রাণ হারিয়েছেন। এ ছাড়া সংঘর্ষের সময় উভয় পক্ষের অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন। মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) সন্ধ্যায় উপজেলার বেলপুকুর ইউনিয়নের ভড়ুয়াপাড়া গ্রামে এই ঘটনাটি ঘটে।
নিহত আব্দুল করিম ভড়ুয়াপাড়া গ্রামের ফজলুল হকের ছেলে। বুধবার (১২ আগস্ট) দুপুরে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হওয়ার পর বেলপুকুর থানা-পুলিশ নিহতের মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করে। এই হত্যার ঘটনায় ২৫ জনের নাম উল্লেখ করে থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।
মামলার এজাহার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ভড়ুয়াপাড়া এলাকার বাসিন্দা রফিক, করিম ও রাব্বীর সঙ্গে প্রতিবেশী জিল্লুর ও শাহাবুরের দীর্ঘদিন ধরে জমিজমা নিয়ে বিরোধ ও আইনি টানাফোড়ন চলছিল। মঙ্গলবার বিকেলে বিরোধপূর্ণ জমির দখল ও সীমানা নিয়ে দুই পক্ষের লোকজনের মধ্যে প্রথমে বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। উত্তেজনার একপর্যায়ে উভয় পক্ষের সমর্থকেরা লাঠিসোঁটা, হাসুয়া ও অন্যান্য ধারালো দেশি অস্ত্র নিয়ে একে অপরের ওপর চড়াও হন।
দুই পক্ষের এই মুখোমুখি সংঘর্ষে পুরো এলাকায় তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনায় আব্দুল করিমসহ অন্তত ২০ জন গুরুতর জখম হন। স্বজনেরা দ্রুত রক্তাক্ত অবস্থায় করিমকে উদ্ধার করে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। তবে পথেই অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের কারণে তাঁর মৃত্যু হয়। খবর পেয়ে সন্ধ্যার পর বেলপুকুর থানা-পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং করিমের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।
সংঘর্ষে আহত অন্যদের উদ্ধার করে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বিভিন্ন ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়েছে। আহতদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে।
ঘটনার নিশ্চিত করে বেলপুকুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফারুক হোসেন জানান, সংঘর্ষ ও হত্যাকাণ্ডের পর গ্রামে নতুন করে বিশৃঙ্খলা এড়াতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। বর্তমানে এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত আসামিদের গ্রেফতার করতে পুলিশের একাধিক দল ইতোমধ্যে বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালানো শুরু করেছে।
মন্তব্য