খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ১৪ই আগস্ট ২০২৬, ১:২১ পিএম
তীব্র গ্যাস সংকটের প্রতিবাদে সিএনজিচালিত অটোরিকশা চালকদের আন্দোলনে স্থবির হয়ে পড়েছে বন্দরনগরী চট্টগ্রামের অন্যতম ব্যস্ত সড়ক। দিনের পর দিন অপেক্ষার পরও ফিলিং স্টেশনগুলোতে জ্বালানি না পেয়ে আজ শুক্রবার ভোর থেকে নগরের ষোলশহর এলাকায় সড়কে অবস্থান নেন কয়েকশ চালক। হুট করে শুরু হওয়া এই অবরোধের কারণে মুরাদপুর থেকে দুই নম্বর গেইট পর্যন্ত পুরো এলাকায় যান চলাচল পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়। এতে তৈরি হয়েছে তীব্র যানজট, যার ফলে মারাত্মক ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ যাত্রী ও কর্মজীবী মানুষেরা।
অভিযোগ উঠেছে, নগরীর সিএনজি ফিলিং স্টেশনগুলোতে ২৪ ঘণ্টারও বেশি সময় লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও গ্যাস পাচ্ছেন না চালকেরা। ফিলিং স্টেশন কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকেও গ্যাস সরবরাহ চালুর সুনির্দিষ্ট কোনো সময়সূচি জানানো সম্ভব হচ্ছে না। ফলে কাজের কাজ কিছুই না হওয়ায় ক্ষোভ জমে ওঠে চালকদের মনে, যা শেষ পর্যন্ত সড়কে আন্দোলনে রূপ নেয়।
জীবিকার তাগিদে চরম অনিশ্চয়তায় পড়া চালকেরা তাদের কষ্টের কথা তুলে ধরেছেন। তারেক মিয়া নামের এক অটোরিকশাচালক আক্ষেপ করে বলেন, টানা দুই দিন ধরে গ্যাস না থাকায় তিনি গাড়ি বের করতে পারেননি। কোনো আয়-রোজগার না থাকলেও সংসারের নিত্যদিনের খরচ বন্ধ নেই। ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও খালি হাতে ফিরতে হচ্ছে তাকে। একইভাবে সারারাত ঘুম না ভেঙে গাড়িতেই রাত কাটানো চালক বাদশা মিয়া জানান, দীর্ঘ সময় লাইনে অপেক্ষার পরও কেউ সুনির্দিষ্টভাবে বলতে পারছে না কখন গ্যাস পাওয়া যাবে। এভাবে দিনের পর দিন বসে থাকলে পরিবার-পরিজন নিয়ে বেঁচে থাকাই কঠিন হয়ে পড়বে।
ভুক্তভোগীদের মতে, কেবল ষোলশহর নয়—পুরো চট্টগ্রাম শহরের প্রায় সব ফিলিং স্টেশনের চিত্রই একই রকম। কোথাও গ্যাসের দেখা নেই, আবার কোথাও বা সামান্য গ্যাসের আশায় রিকশার দীর্ঘ সারি মাইলজুড়ে বিস্তৃত। অন্যদিকে ফিলিং স্টেশনগুলোর দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা জানাচ্ছেন, মূল লাইন থেকে সরবরাহ বন্ধ থাকায় চালকদের সিএনজি দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। সরবরাহ ব্যবস্থা স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত তাদেরও হাত-পা বাঁধা।
নগরজুড়ে সিএনজি অটোরিকশার সংকটে যাতায়াত ব্যবস্থায় নেমে এসেছে স্থবিরতা। গণপরিবহনের স্বল্পতায় সাধারণ মানুষকে দীর্ঘ সময় ধরে মোড়ে মোড়ে দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে এবং গন্তব্যে পৌঁছাতে স্বাভাবিকের চেয়ে দ্বিগুণ সময় ব্যয় হচ্ছে।
এদিকে ষোলশহর এলাকার ‘ফসিল ফিলিং স্টেশন’-এর সামনে গ্যাসের অপেক্ষায় এখনও শত শত অটোরিকশা লাইনে দাঁড়িয়ে আছে। খবর পেয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। পাঁচলাইশ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জাহেদুল ইসলাম জানান, পুলিশের টিম ঘটনাস্থলে পৌঁছে চালকদের বুঝিয়ে সড়ক থেকে সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা চালাচ্ছে। তবে আন্দোলনরত চালকদের দাবি পরিষ্কার—গ্যাস সরবরাহের সুনির্দিষ্ট নিশ্চয়তা না পাওয়া পর্যন্ত তারা কোনোভাবেই রাজপথ ছাড়বেন না।
মন্তব্য