খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ১৪ই আগস্ট ২০২৬, ৪:১১ পিএম
ভারতের অন্যতম শীর্ষ বীমা প্রতিষ্ঠান শ্রীরাম জেনারেল ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি (এসজিআই) তাদের ২০২৭ অর্থ বছরের প্রথম প্রান্তিকে (জুলাই ২০২৬ পর্যন্ত) আর্থিক প্রতিবেদনে বেশ ভালো সাফল্য দেখিয়েছে। আলোচ্য প্রান্তিকে প্রতিষ্ঠানটির মোট সংগৃহীত প্রিমিয়াম (গ্রস ডাইরেক্ট প্রিমিয়াম) আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ২৩ শতাংশ বেড়ে ১,১৮০ কোটি রুপি বা প্রায় ১১ কোটি ৮০ লাখ ডলারে পৌঁছেছে, যা গত বছরের একই সময়ে ছিল ৯৬০ কোটি রুপি। প্রিমিয়াম আয়ে বিপুল প্রবৃদ্ধি হলেও প্রতিষ্ঠানটির নিট মুনাফা বেড়েছে কিছুটা ধীরগতিতে, প্রায় ৫ শতাংশ। এ বছরের প্রথম প্রান্তিকে তাদের নিট মুনাফার পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১৩১ কোটি রুপি বা ১ কোটি ৩১ লাখ ডলার, যা আগের বছরের প্রথম প্রান্তিকে ছিল ১২৫ কোটি রুপি।
বীমা খাত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ভারতের সাধারণ বীমা খাতের সামগ্রিক প্রবৃদ্ধির চেয়েও শ্রীরাম জেনারেলের অগ্রগতির হার অনেক বেশি। পুরো সাধারণ বীমা খাতে প্রথম প্রান্তিকে যেখানে ১১ শতাংশ প্রবৃদ্ধি রেকর্ড করা হয়েছে, সেখানে এসজিআই একাই ২৩ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জন করতে সক্ষম হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির এই ব্যবসায়িক প্রসারে চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করেছে তাদের মোটর বীমা খাত। প্রথম প্রান্তিকে মোটর বীমা খাতে তাদের প্রিমিয়াম ২৫ শতাংশ বেড়ে ১,০৮০ কোটি রুপিতে উঠেছে, যেখানে পুরো শিল্পে মোটর বীমার গড় প্রবৃদ্ধি ছিল ১৪ শতাংশ।
শ্রীরাম জেনারেলের বিভিন্ন বীমা খাতে প্রিমিয়াম আয়ের চিত্র ও তুলনামূলক হিসাব নিচে তুলে ধরা হলো:
| বীমা খাতের নাম | গত বছরের প্রথম প্রান্তিক (কোটি রুপিতে) | চলতি বছরের প্রথম প্রান্তিক (কোটি রুপিতে) | প্রবৃদ্ধির হার (%) |
| মোটর বীমা | ৮৬৭ | ১,০৮০ | ২৫% |
| ব্যক্তিগত দুর্ঘটনা বীমা | ২৯ | ৪৩ | ৪৭% |
| স্বাস্থ্য বীমা | ৪ | ১৩ | ২১১% |
| ইঞ্জিনিয়ারিং বীমা | ৭ | ৯ | ২২% |
| অগ্নি বীমা | ৩৫ | ২০ | -৪৪% (হ্রাস) |
| অন্যান্য বিবিধ বীমা | ১৮ | ১৭ | -৭% (হ্রাস) |
পরিসংখ্যান পর্যালোচনায় দেখা যায়, শতাংশের হিসেবে সর্বোচ্চ লাফ দিয়েছে প্রতিষ্ঠানটির স্বাস্থ্য বীমা খাত। এই খাতে প্রিমিয়াম আয় ২১১ শতাংশ বেড়ে ৪ কোটি রুপি থেকে ১৩ কোটি রুপিতে উন্নীত হয়েছে। এ ছাড়া ব্যক্তিগত দুর্ঘটনা বীমায় প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৪৭ শতাংশ এবং ইঞ্জিনিয়ারিং বীমায় ২২ শতাংশ। তবে অগ্নি বীমার ক্ষেত্রে বড় ধস দেখা গেছে; যেখানে প্রিমিয়াম আয় ৪৪ শতাংশ কমে ৩৫ কোটি রুপি থেকে ২০ কোটি রুপিতে নেমে এসেছে। একইভাবে অন্যান্য বিবিধ বীমা খাত থেকেও প্রিমিয়াম আয় ৭ শতাংশ কমে ১৭ কোটি রুপিতে দাঁড়িয়েছে।
ব্যবসায়িক নেটওয়ার্ক প্রসারে কোম্পানিটি তাদের ‘ফিজিক্যাল’ এবং ‘ডিজিটাল’ মডেলের সমন্বয়ে নতুন ফাইন্যান্সিয়াল অ্যাডভাইজার নিয়োগের ওপর বড় জোর দিয়েছে। চলতি প্রান্তিকেই তারা নতুন ৫,১৭৬ জন আর্থিক উপদেষ্টা যুক্ত করেছে, যা গত বছরের তুলনায় ৮ শতাংশ বেশি। এর ফলে বর্তমানে এসজিআইয়ের মোট উপদেষ্টার সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১,১০,১০২ জনে। একই সময়ে তাদের মোট শাখার সংখ্যা ২৭৯টি থেকে বেড়ে ২৯১টিতে দাঁড়িয়েছে। জুন ২০২৬ পর্যন্ত হিসাব অনুযায়ী কোম্পানিটির সক্রিয় বীমা পলিসির সংখ্যা আগের বছরের ৬৮ লাখ থেকে বেড়ে ৭২ লাখে পৌঁছেছে। অন্যদিকে বীমা খাতের নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থার বেঁধে দেওয়া নিয়ম অনুযায়ী সলভেন্সি রেশিও (আর্থিক সক্ষমতার অনুপাত) যেখানে ১.৫০ থাকার কথা, সেখানে কোম্পানির সলভেন্সি রেশিও ৩.০২ অর্জন করেছে।
কোম্পানির এই সাফল্যের বিষয়ে শ্রীরাম জেনারেল ইন্স্যুরেন্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) অনিল আগরওয়াল জানান, সঠিক ঝুঁকি মূল্যায়ন এবং সুশৃঙ্খল আন্ডাররাইটিং নীতি বজায় রাখার কারণেই তারা বাজারের গড় প্রবৃদ্ধিকে ছাড়িয়ে যেতে পেরেছেন। দ্রুত দাবি নিষ্পত্তির ওপর তারা বরাবরই সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে আসছেন। তিনি আরও নিশ্চিত করেন, ২০৩০ অর্থ বছরের মধ্যে তাঁদের আর্থিক উপদেষ্টার সংখ্যা ২ লাখে উন্নীত করার এবং স্বাস্থ্য বীমা খাতে অবস্থান আরও শক্তিশালী করার একটি সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য নিয়ে তারা সামনে এগোচ্ছেন।
মন্তব্য