খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ১৬ই আগস্ট ২০২৬, ১২:৫৯ পিএম
জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় (জাবি) শাখার দুই নেতাকে সংগঠনের প্রাথমিক সদস্যপদসহ সকল সাংগঠনিক পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। ১৫ আগস্ট শেখ মুজিবুর রহমানের মৃত্যুবার্ষিকীতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে তার ছবি শেয়ার করে শ্রদ্ধা জানানোর জেরে তাদের বিরুদ্ধে এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে বলে বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে।
অব্যাহতি পাওয়া দুই নেতা হলেন আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের ৪৮তম ব্যাচের শিক্ষার্থী এহতে শিমুল হক এবং সরকার ও রাজনীতি বিভাগের ৫১তম ব্যাচের শিক্ষার্থী ফয়েজ হাওলাদার। তারা উভয়েই জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সক্রিয় রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সংসদের দপ্তর সম্পাদক মো. জাহাঙ্গীর আলম স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ শাস্তিমূলক ব্যবস্থার কথা জানানো হয়। কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব এবং সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির যৌথভাবে এ সিদ্ধান্ত অনুমোদন করেছেন। প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গের সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতেই জাবি শাখার ওই দুই সদস্যের বিরুদ্ধে চূড়ান্ত সাংগঠনিক ব্যবস্থা হিসেবে পদচ্যুত করার নির্দেশ কার্যকর করা হয়েছে।
যদিও কেন্দ্রীয় সংসদের আনুষ্ঠানিক বিজ্ঞপ্তিতে সরাসরি ১৫ আগস্টের ঘটনা বা শেখ মুজিবুর রহমানের ছবি শেয়ার করার কথা স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়নি, তবুও বিশ্ববিদ্যালয়ের দলীয় অভ্যন্তরীণ সূত্রগুলো বিষয়টির সত্যতা নিশ্চিত করেছে। জাবি ছাত্রদলের দায়িত্বশীল সূত্রে জানা যায়, ১৫ আগস্টের দিনে শেখ মুজিবুর রহমানের ছবি নিজ নিজ ফেসবুক প্রোফাইলে পোস্ট করে তার প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন এই দুই তরুণ নেতা। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) আদর্শ ও ছাত্রদলের নীতি-নৈতিকতার সঙ্গে এমন আচরণ সম্পূর্ণরূপে সাংঘর্ষিক বলে বিবেচনা করেছে সংগঠনটি। এর ফলে শৃঙ্খলাবিরোধী কর্মকাণ্ডের অভিযোগে দ্রুততম সময়ে তাদের দল থেকে অব্যাহতি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
ঐতিহাসিক ও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটের কারণে ১৫ আগস্টের দিনে জাবি শাখা ছাত্রদলের দুই নেতার এমন পোস্ট এবং তার পরপরই কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের পক্ষ থেকে গ্রহণ করা কঠোর সাংগঠনিক পদক্ষেপটি জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ব্যাপক তোলপাড় ও আলোচনার সৃষ্টি করেছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিষয়টি নিয়ে ভিন্ন ভিন্ন প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে। একদল শিক্ষার্থী দলীয় অনুশাসন রক্ষার পক্ষে মত দিলেও অন্য অনেকে সামাজিক মাধ্যমে ব্যক্তিগত প্রকাশ স্বাধীনতার বিষয়টিকে সামনে আনছেন।
মন্তব্য