খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ১৬ই আগস্ট ২০২৬, ১:২৮ পিএম
কুমিল্লার চান্দিনা উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক আশিকুল ইসলাম আশিক খানকে গ্রেফতার করেছে স্থানীয় থানা পুলিশ। গত শুক্রবার (১৪ আগস্ট) সন্ধ্যায় উপজেলার দোল্লাই নবাবপুর বাজার এলাকা থেকে তাকে আটক করা হয়। আশিকুল ইসলাম চান্দিনা উপজেলার বরকরই এলাকার মো. মনিরুল ইসলামের ছেলে। দীর্ঘদিন ধরে তিনি নিজ এলাকায় স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় ভূমিকা পালন করে আসছিলেন।
গ্রেফতারের বিষয়টি নিশ্চিত করে চান্দিনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নুরুজ্জামান জানান, আটককৃতের বিরুদ্ধে পূর্বে দায়েরকৃত একটি মামলার তদন্ত প্রক্রিয়া চলমান ছিল। সেই তদন্তাধীন মামলার প্রেক্ষাপটেই তাকে আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে গ্রেফতার করা হয়েছে। থানায় নিয়ে প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া শেষে তাকে সুনির্দিষ্ট বিধি মোতাবেক সংশ্লিষ্ট আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। তবে ওই মামলার সুনির্দিষ্ট ধারা বা মূল অভিযোগ সম্পর্কে বিস্তারিত কোনো তথ্য এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করেনি পুলিশ।
জাতীয় শোক দিবস ১৫ আগস্টকে ঘিরে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্থিতিশীল রাখতে পুলিশ ও নিরাপত্তা সংস্থাগুলোর পক্ষ থেকে দেশব্যাপী ব্যাপক প্রশাসনিক তৎপরতা জোরদার করা হয়েছে। সম্ভাব্য বিশৃঙ্খলা বা অস্থিতিশীল পরিস্থিতি মোকাবিলার অংশ হিসেবে সারাদেশে নিয়মিত টহল, বিশেষ নজরদারি এবং যৌথ অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। এ ধরনের বিশেষ নিরাপত্তা পদক্ষেপের ধারাবাহিকতায় দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আওয়ামী লীগ এবং এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের শীর্ষ ও মাঠপর্যায়ের একাধিক নেতাকর্মীকে আটক করা হচ্ছে।
পরিস্থিতি অনুসন্ধানে দেখা গেছে, ১৫ আগস্ট কেন্দ্রিক এই সাঁড়াশি অভিযানে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে রাজনৈতিক কর্মীদের আটক করা হচ্ছে। অভিযোগ উঠেছে, কোনো কোনো স্থানে আগাম কোনো মামলা বা সুনির্দিষ্ট অভিযোগ ছাড়াই অনেককে হেফাজতে নেওয়া হচ্ছে। বিশেষ করে অভিযান প্রক্রিয়ার মাত্র তিন দিনে এককভাবে ঢাকা মহানগর এলাকাতেই প্রায় দুই হাজারের বেশি নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে বিভিন্ন সূত্রে দাবি করা হয়েছে।
সারাদেশজুড়ে চলমান এই গণগ্রেফতার এবং মামলা ছাড়া আটকের বিষযে বিস্তারিত ব্যাখ্যার জন্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা চালানো হলেও তারা এ নিয়ে কোনো মতামত দিতে সম্মত হননি। এর ফলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর চলমান অভিযান ও পরবর্তী সার্বিক প্রশাসনিক উদ্যোগ নিয়ে জনমনে নানা কৌতুহল ও আলোচনা তৈরি হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে দেশের প্রতিটি জেলা ও মহাসড়কে পুলিশি তল্লাশি জোরদার রয়েছে।
মন্তব্য