খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ১৭ই আগস্ট ২০২৬, ১২:২ এএম
ঘুষ গ্রহণ, জোরপূর্বক চাঁদাবাজি এবং আসামি ও তাঁর স্বজনদের ওপর অমানবিক নির্যাতনের গুরুতর অভিযোগে সাভার মডেল থানার বিতর্কিত উপপরিদর্শক (এসআই) মোহাম্মদ নেয়ামত উল্লাহর বিরুদ্ধে আদালতে মামলা দায়ের করা হয়েছে। বিজ্ঞ আদালত অভিযোগটি আমলে নিয়ে নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে তা পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে (পিবিআই) দায়িত্ব দিয়েছেন।
১৬ আগস্ট রোববার বিকেলে ঢাকার অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. মাহাবুবুর রহমান এসংক্রান্ত আদেশ জারি করেন। নির্দেশনায় বলা হয়, পিবিআইয়ের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার মাধ্যমে অভিযোগটির পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত শেষ করে আদালতে দ্রুত প্রতিবেদন দাখিল করতে হবে। বাদীপক্ষের আইনজীবী এস এইচ কৃষ্ণ আদেশের বিষয়টি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন।
মামলায় সাভারের পশ্চিম রাজাশন এলাকার বাসিন্দা সুরাইয়া বেগম (৫৪) বাদী হয়ে এসআই নেয়ামত উল্লাহকে প্রধান আসামি করেছেন। তাঁর পাশাপাশি আরও দুজন নামীয় এবং ৭ থেকে ৮ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি হিসেবে এজাহারে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
এজাহারে বাদী উল্লেখ করেন, আসামিরা সুসংগঠিতভাবে দীর্ঘদিন ধরে তাঁর ছেলে শামীমের কাছে বিপুল অঙ্কের চাঁদা দাবি করে আসছিলেন। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে শামীমের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে হামলা, ব্যাপক ভাঙচুর, লুটপাট এবং গচ্ছিত টাকা ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনা ঘটে। পরবর্তীতে সাজানো একটি মামলায় শামীম রেজাকে গ্রেপ্তার করে সাভার মডেল থানায় নিয়ে আসা হয়। থানায় আটকে রেখে রিমান্ডের নামে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের ভয় দেখিয়ে এসআই নেয়ামত উল্লাহ এককালীন ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন।
হুমকি ও ভয়ভীতি দেখিয়ে শামীমের কাছ থেকে দুটি দামি আইফোন ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগও উঠেছে এই পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে। এর আগে বিভিন্ন দফায় মোট সাড়ে চার লাখ টাকা আদায় করা হয়েছিল বলে বাদী তাঁর এজাহারে বিস্তারিত বিবরণ দিয়েছেন। গ্রেপ্তারের সময় শামীমের কাছে থাকা নগদ ৩ লাখ ৩৮ হাজার টাকা এবং একটি সোনার আংটি এসআই নেয়ামত উল্লাহ সোজা নিজের পকেটে পুরেন। পরবর্তীতে এসব নিয়ে পরিবারের পক্ষ থেকে প্রশ্ন তোলা হলে তাদের বিভিন্ন আইনি জটিলতায় ফেলার ভয় দেখিয়ে পুনরায় অর্থ আদায়ের চেষ্টা করা হয়।
সাভার মডেল থানার এই এসআইকে নিয়ে বিতর্ক নতুন নয়। তাঁর বিরুদ্ধে ঘুষ গ্রহণ, প্রভাব খাটানো এবং নিরীহ মানুষদের হয়রানি করার একাধিক অভিযোগ বহুবার সংবাদ শিরোনাম হয়েছে। ভুক্তভোগীরা বিভিন্ন সময় ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিত অভিযোগ জানিয়েও কোনো প্রতিকার পাননি। কোনো অদৃশ্য ক্ষমতার প্রভাবে তিনি পদে বহাল থেকে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছিলেন। অবশেষে কোনো উপায় না দেখে বিচার পাওয়ার আশায় ভুক্তভোগী পরিবার আদালতের দরজায় কড়া নাড়তে বাধ্য হয়।
ঢাকার চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট সাভার আমলি আদালতে স্বয়ং উপস্থিত হয়ে বাদী ফৌজদারি কার্যবিধির ২০০ ধারায় নিজের জবানবন্দি প্রদান করেন। আদালত বাদীপক্ষের কথা ও নথিপত্র পুঙ্খানুপুঙ্খ পর্যালোচনা করে অভিযোগের গুরুত্ব অনুধাবন করেন এবং পিবিআইকে দ্রুত তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেন।
মন্তব্য