মিরাজের চোখে অস্ট্রেলিয়াকে ধবলধোলাইয়ের স্বপ্ন

অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে প্রথম টেস্ট জিতে ইতিহাস গড়ার পর বাংলাদেশের সামনে এখন আরও বড় অর্জনের সুযোগ। ডারউইনে পাওয়া সেই ঐতিহাসিক জয়ের আত্মবিশ্বাসকে সঙ্গে নিয়ে এবার সিরিজ জয়ের স্বপ্ন দেখছেন মেহেদী হাসান মিরাজ। দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে জয় পেলেই অস্ট্রেলিয়াকে ২-০ ব্যবধানে হারিয়ে সিরিজ নিজেদের করে নেবে বাংলাদেশ। এমনকি ম্যাচটি ড্র হলেও সিরিজ জয়ের সুযোগ থাকবে বাংলাদেশের সামনে।

তবে প্রথম টেস্টের সাফল্যে আত্মতুষ্টিতে ভুগতে চান না মিরাজ। তার মতে, ডারউইনের জয় এখন অতীত। সামনে অপেক্ষা করছে সম্পূর্ণ নতুন একটি ম্যাচ, যেখানে আবারও শূন্য থেকে শুরু করতে হবে বাংলাদেশকে। তাই ম্যাকাইয়ে নিজেদের পরিকল্পনা ঠিক রেখে একই ধরনের লড়াকু ক্রিকেট খেলাই দলের প্রধান লক্ষ্য।

মিরাজ জানিয়েছেন, সিরিজ জয়ের চিন্তা দলের মধ্যে অবশ্যই আছে। তবে সেই লক্ষ্য অর্জনের জন্য প্রতিটি মুহূর্তে মনোযোগ ধরে রাখা জরুরি। তার ভাষায়, প্রথম ম্যাচ জয়ের পর বাংলাদেশের সামনে আরও বড় চ্যালেঞ্জ এসেছে। টেস্ট ক্রিকেটে কোনো জয়ই সহজ নয়। তাই পাওয়া ছন্দটিকে ধরে রেখে দ্বিতীয় ম্যাচেও নিজেদের সামর্থ্যের সর্বোচ্চটা দিতে হবে।

ডারউইন টেস্টে বাংলাদেশের জয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন মিরাজ নিজেও। ব্যাট হাতে কঠিন পরিস্থিতিতে গুরুত্বপূর্ণ অর্ধশতক করার পর দ্বিতীয় ইনিংসে বল হাতে পাঁচ উইকেট নিয়ে অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটিং লাইনআপে বড় ধাক্কা দেন তিনি। তার অলরাউন্ড নৈপুণ্য দলের জয়কে আরও শক্ত ভিত দেয়।

শুধু মিরাজ নন, প্রথম টেস্টে বাংলাদেশের সাফল্যের পেছনে আরও কয়েকজন ক্রিকেটারের অবদান ছিল উল্লেখযোগ্য। হাসান মাহমুদ ম্যাচে মোট নয়টি উইকেট নেন, যার মধ্যে প্রথম ইনিংসেই ছিল ছয়টি। অন্যদিকে তানজিদ হাসান ব্যাট হাতে অসাধারণ শতক তুলে নিয়ে দলের রান সংগ্রহে বড় অবদান রাখেন। ফলে বাংলাদেশের বোলিং ও ব্যাটিং—দুই বিভাগেই সমন্বিত পারফরম্যান্স দেখা যায়।

অথচ সিরিজ শুরুর ঠিক আগে পরিস্থিতি ছিল ভিন্ন। প্রস্তুতি ম্যাচে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া একাদশের বিপক্ষে ইনিংস ব্যবধানে হেরেছিল বাংলাদেশ। সেই ম্যাচের দ্বিতীয় ইনিংসে মাত্র ৫৪ রানে অলআউট হয়ে যাওয়ায় দলের প্রস্তুতি নিয়ে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠেছিল। কিন্তু ওই ব্যর্থতার পরও দলের ভেতরের বিশ্বাস নষ্ট হয়নি। বরং কঠিন সময়টিকে কাজে লাগিয়ে নিজেদের মানসিকভাবে আরও প্রস্তুত করেছে বাংলাদেশ।

মিরাজের মতে, সেই সময় দলের ম্যানেজার নাফিস ইকবালের উৎসাহ তাকে বিশেষভাবে অনুপ্রাণিত করেছিল। অস্ট্রেলিয়ার কন্ডিশনে কীভাবে খেলতে হবে, কীভাবে নিজের বোলিং ও ব্যাটিংয়ে মানিয়ে নিতে হবে—এসব নিয়ে তিনি মিরাজের সঙ্গে নিয়মিত আলোচনা করেছেন। এমনকি নেটে মিরাজকে বোলিং করেও প্রস্তুতিতে সহায়তা করেছেন।

প্রস্তুতি ম্যাচের হতাশার পর খেলোয়াড়দের আত্মবিশ্বাস ফিরিয়ে আনতে স্পিন বোলিং কোচ মুশতাক আহমেদের ভূমিকাও তুলে ধরেছেন মিরাজ। তার মতে, মুশতাক দলের প্রত্যেক খেলোয়াড়ের কাছে গিয়ে বিশ্বাস ধরে রাখার বার্তা দিয়েছিলেন। ম্যাচ হারলেও নিজেদের সামর্থ্যের ওপর আস্থা রাখতে বলেছিলেন তিনি। সেই মানসিক শক্তিই পরের ম্যাচে বাংলাদেশের পারফরম্যান্সে বড় প্রভাব ফেলেছে বলে মনে করেন মিরাজ।

এখন বাংলাদেশের সামনে সেই বিশ্বাসকে আরও বড় সাফল্যে রূপ দেওয়ার সুযোগ। দ্বিতীয় টেস্টে জয় এলে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথমবারের মতো তাদের মাটিতে পূর্ণাঙ্গ টেস্ট সিরিজ জয়ের স্বাদ পাবে বাংলাদেশ। পাশাপাশি বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের পয়েন্ট তালিকাতেও গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি আসবে। ২-০ ব্যবধানে সিরিজ শেষ করতে পারলে বাংলাদেশের অবস্থান তৃতীয় স্থানে উঠে আসার সুযোগ তৈরি হবে এবং প্রথমবারের মতো টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে খেলার সম্ভাবনাও আরও জোরালো হবে।

সবকিছু মিলিয়ে ম্যাকাইয়ের দ্বিতীয় টেস্ট শুধু একটি সিরিজ নির্ধারণী ম্যাচ নয়; বাংলাদেশের টেস্ট ক্রিকেটের জন্য এটি হতে পারে আরও বড় একটি মাইলফলক। ডারউইনের জয় ইতিমধ্যে ইতিহাসের অংশ হয়ে গেছে। এখন মিরাজ ও তার সতীর্থদের সামনে সেই ইতিহাসকে আরও সমৃদ্ধ করার পালা। দ্বিতীয় টেস্ট শুরু হবে ২২ আগস্ট।

Tags :

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

সর্বশেষ খবর

খবরওয়ালা একটি বিশ্বস্ত অনলাইন নিউজ পোর্টাল, যেখানে বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ ও আপডেট প্রকাশ করা হয়। রাজনীতি, জাতীয় ও স্থানীয় সংবাদ, শিক্ষা, খেলাধুলা, ব্যবসা, বিনোদন ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনের গুরুত্বপূর্ণ খবর নিয়ে পাঠকদের জন্য রয়েছে নির্ভরযোগ্য ও সময়োপযোগী সংবাদ পরিবেশন।

© ২০২৬ খবরওয়ালা। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।