কারা মহাপরিদর্শক (আইজি প্রিজন্স) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সৈয়দ মো. মোতাহের হোসেনকে তার নিজ বাহিনী অর্থাৎ সশস্ত্র বাহিনীতে ফেরত পাঠানো হয়েছে। এ লক্ষ্যে তার চাকরি সশস্ত্র বাহিনী বিভাগে ন্যস্ত করে বুধবার (১৯ আগস্ট) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে এক প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। সরকারি নিয়মানুযায়ী তাকে বর্তমান প্রেষণ পদ থেকে প্রত্যাহার করে সেনাবাহিনীর মূলধারার প্রশাসনিক ও পেশাগত দায়িত্বে ফিরিয়ে নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের জারি করা ওই প্রজ্ঞাপনে স্পষ্ট উল্লেখ করা হয়, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সৈয়দ মো. মোতাহের হোসেনের বর্তমান প্রেষণভিত্তিক নিয়োগ প্রত্যাহার করা হলো এবং একই সাথে তার চাকরি সশস্ত্র বাহিনী বিভাগে ন্যস্ত করা হলো। সংশ্লিষ্ট উচ্চপদস্থ সূত্রে জানা গেছে, প্রেষণ থেকে নিজ বাহিনীতে প্রত্যাবাসনের পর সামরিক বাহিনী ও আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক পরিসরে তাকে এক নতুন ও গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব দেওয়া হচ্ছে।
কারা অধিদপ্তর সূত্রে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, রাষ্ট্রীয় প্রশাসনিক অনুমোদনক্রমে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোতাহের হোসেনকে একটি অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ বৈশ্বিক পদে মনোনীত করা হয়েছে। তিনি যুক্তরাষ্ট্রে নিউইয়র্কে অবস্থিত জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী মিশনের ‘প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা’ (ডিফেন্স অ্যাডভাইজার) হিসেবে নতুন দায়িত্ব গ্রহণ করতে যাচ্ছেন। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের সামরিক ও কূটনৈতিক সম্পর্ক জোরদার করার পাশাপাশি বিভিন্ন শান্তি রক্ষা মিশন পরিচালনায় এই পদটির ভূমিকা বেশ গুরুত্বপূর্ণ।
সৈয়দ মো. মোতাহের হোসেন ২০২৪ সালের ১১ আগস্ট কারা মহাপরিদর্শক পদে যোগদান করেন। পদাধিকার বলে কারা ব্যবস্থার প্রশাসনিক সংস্কার, বন্দীদের নিরাপত্তা এবং শৃঙ্খলা রক্ষায় টানা দুই বছর অত্যন্ত সফলভাবে নেতৃত্ব দেন তিনি। সামরিক কর্মকর্তাদের প্রেষণে সিভিল প্রশাসনের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সংস্থায় পদায়নের নিয়মিত প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবেই নির্দিষ্ট সময় শেষে তিনি সেনাবাহিনীতে ফিরে যাচ্ছেন। প্রজ্ঞাপনের নির্দেশনা অনুসারে, অবিলম্বে তার সেনাবাহিনীতে যোগদান এবং পরবর্তী পদের আনুষ্ঠানিক দায়িত্ব গ্রহণের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে।
তবে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোতাহের হোসেনের বিদায়ের পর কারা অধিদপ্তরের শীর্ষ এই শূন্য পদে পরবর্তী কারা মহাপরিদর্শক (আইজি প্রিজন্স) হিসেবে কে স্থলাভিষিক্ত হচ্ছেন, সে বিষয়ে সরকার বা জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো ঘোষণা দেওয়া হয়নি। খুব শীঘ্রই প্রেষণে নতুন কোনো ঊর্ধ্বতন সেনা কর্মকর্তাকে এই পদে পদায়ন করা হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

