কুড়িগ্রামের উলিপুরে পৃথক ঘটনায় পুকুরের পানিতে ডুবে দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে। একই দিনে পানিতে পড়ে গুরুতর আহত হয়েছে ১৫ মাস বয়সী আরেক শিশু। বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) সকাল সাড়ে ৮টা থেকে দুপুর ১২টার মধ্যে উপজেলার তিনটি এলাকায় এসব ঘটনা ঘটে।
নিহত দুই শিশু হলো উলিপুর পৌরসভার পশ্চিম নাওডাঙ্গা গ্রামের ইউনুস আলীর ছেলে আরমান, বয়স চার বছর, এবং তবকপুর ইউনিয়নের উমানন্দ গ্রামের নুর আলমের ছেলে মাসুদ রানা, বয়স তিন বছর।
স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার সকালে বাড়ির পাশে খেলছিল মাসুদ রানা। খেলতে খেলতে পরিবারের সদস্যদের অগোচরে সে পাশের পুকুরের পানিতে পড়ে যায়। কিছুক্ষণ পর তাকে দেখতে না পেয়ে পরিবারের লোকজন খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। একপর্যায়ে পুকুর থেকে শিশুটিকে উদ্ধার করে দ্রুত উলিপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। তবে সেখানে নেওয়ার আগেই তার মৃত্যু হয় বলে চিকিৎসকেরা জানান।
একইভাবে পশ্চিম নাওডাঙ্গা গ্রামে বাড়ির পাশে খেলছিল চার বছরের আরমান। পরিবারের সদস্যদের নজরের বাইরে কোনো একসময় সে পাশের পুকুরে পড়ে যায়। পরে তাকে খুঁজে পেয়ে স্বজন ও স্থানীয়রা উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান। পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
এদিকে একই দিন সকাল সাড়ে ৮টার দিকে উপজেলার দলদলিয়া ইউনিয়নের দোকলাপাড়া গ্রামে পানিতে পড়ে আহত হয় ১৫ মাস বয়সী সুমাইয়া খাতুন। সে রেজওয়ানের মেয়ে। পানিতে পড়ার পর তাকে উদ্ধার করে উলিপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসা দেওয়ার পর তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য কুড়িগ্রাম জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়।
উলিপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিক্যাল আবাসিক কর্মকর্তা তানজিরুল ইসলাম জানান, মাসুদ রানা ও আরমানকে হাসপাতালে আনার আগেই তাদের মৃত্যু হয়েছিল। অন্যদিকে সুমাইয়াকে প্রাথমিক চিকিৎসার পর উন্নত চিকিৎসার জন্য কুড়িগ্রাম জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
ঘটনার বিষয়ে উলিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সাঈদ ইবনে সিদ্দিক জানান, মাসুদ রানার পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো অভিযোগ না থাকায় আইনগত প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এ ঘটনায় অপমৃত্যু মামলা করা হয়েছে। আরমানের মৃত্যুর ঘটনাটি পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে খতিয়ে দেখছে।
একই দিনে কাছাকাছি সময়ে তিন শিশুর পানিতে পড়ার ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। গ্রামাঞ্চলে বাড়ির আশপাশে থাকা পুকুর, ডোবা ও জলাশয় শিশুদের জন্য বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। বিশেষ করে অল্প বয়সী শিশুরা পানির গভীরতা বা বিপদ সম্পর্কে ধারণা না থাকায় মুহূর্তের অসতর্কতায় দুর্ঘটনার শিকার হয়।
বিশেষজ্ঞরা দীর্ঘদিন ধরে শিশুদের জলাশয়ের কাছাকাছি একা যেতে না দেওয়া, পুকুরের চারপাশে নিরাপদ ঘের তৈরি এবং বাড়ির ছোট শিশুদের সার্বক্ষণিক নজরদারিতে রাখার ওপর গুরুত্ব দিয়ে আসছেন। কোনো শিশু পানিতে পড়ে গেলে দ্রুত উদ্ধার করে জরুরি চিকিৎসার ব্যবস্থা করাও গুরুত্বপূর্ণ।
উলিপুরের সাম্প্রতিক ঘটনাগুলো আবারও মনে করিয়ে দিল, বাড়ির আশপাশের জলাশয় নিয়ে সামান্য অসতর্কতাও শিশুর জীবনে ভয়াবহ পরিণতি ডেকে আনতে পারে।

