সারাদেশে হাম এবং হামের উপসর্গে আক্রান্তের সংখ্যা উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে। গত ২৪ ঘণ্টায় হামের লক্ষণ ও উপসর্গে আরও তিন শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে আক্রান্ত ও উপসর্গে ভুগছেন এমন আরও এক হাজার ৭২ জন রোগীকে শনাক্ত করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এই সর্বশেষ পরিসংখ্যান জানানো হয়েছে। প্রকাশিত তথ্যে উঠে আসে যে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সরকারের তরফ থেকে টিকাদান কর্মসূচিসহ নানা পদক্ষেপ নেওয়া হলেও তৃণমূল পর্যায়ে সংক্রমণ পুরোপুরি থামানো যাচ্ছে না।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে হামের বিভিন্ন লক্ষণ নিয়ে শনাক্ত হয়েছেন এক হাজার চারজন। চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে ২০ আগস্ট পর্যন্ত সারাদেশে এ ধরনের উপসর্গে ভোগা মোট রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে এক লাখ ৪৬ হাজার ৭১৫ জনে।
বিজ্ঞপ্তিতে পরীক্ষাগারে নিশ্চিত হওয়া মামলার তথ্যও আলাদাভাবে তুলে ধরা হয়। এতে বলা হয়, গত একদিনে নিশ্চিতভাবে ৬৮ জন হাম রোগী শনাক্ত হয়েছেন। ফলে গত ১৫ মার্চ থেকে ২০ আগস্ট পর্যন্ত পরীক্ষাগারে নিশ্চিত হাম রোগীর সার্বিক সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৮ হাজার ১৪৪ জনে।
সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ায় দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে রোগীদের চাপ অব্যাহত রয়েছে। ১৫ মার্চ থেকে ২০ আগস্ট পর্যন্ত এই দীর্ঘ পাঁচ মাসে হাম বা এর উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন এক লাখ ২৮ হাজার ২৬ জন শিশু ও রোগী। একই সময়ে সুচিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র নিয়ে বাড়ি ফিরেছেন এক লাখ ২৩ হাজার ৬৮৪ জন।
হামের উপসর্গে মৃত্যুর সংখ্যাও বেশ আশঙ্কাজনক রূপ নিয়েছে। ১৫ মার্চ থেকে ২০ আগস্ট পর্যন্ত এই নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে সারাদেশে মোট ৮২৬ জন শিশু হাম বা এর আনুসঙ্গিক জটিলতায় প্রাণ হারিয়েছে। তবে স্বস্তির বিষয় হলো—গত ২৪ ঘণ্টায় ল্যাবে নিশ্চিত হওয়া হামে নতুন করে কোনো রোগী মারা যায়নি। যদিও এ পর্যন্ত ল্যাবে নিশ্চিত হাম আক্রান্ত হয়ে মোট ৯৯ জন রোগীর মৃত্যুর রেকর্ড রয়েছে।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা জানান, হাম একটি অত্যন্ত সংক্রামক ভাইরাসজনিত রোগ, যা প্রধানত শিশুদেরই বেশি আক্রান্ত করে। সময়মতো প্রয়োজনীয় প্রতিষেধক টিকা প্রদান না করা এবং পুষ্টিহীনতার কারণে এই রোগ মারাত্মক জটিলতা সৃষ্টি করতে পারে। রোগের লক্ষণ দেখা দেওয়ার সাথে সাথে শিশুকে নিকটস্থ স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে আইসোলেশনে রাখা ও সঠিক চিকিৎসা নিশ্চিত করার ওপর জোর দিয়েছেন চিকিৎসকেরা।

