যুক্তরাজ্যের লন্ডন প্রবাসী হিসেবে দীর্ঘদিন আন্তর্জাতিক রাজনীতি ও কূটনীতিক অঙ্গনে ভূমিকা রাখার পর তিনি সরকারের নতুন প্রতিমন্ত্রী হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন।
শুক্রবার রাতে রাজধানী ঢাকার বঙ্গভবনের ঐতিহ্যবাহী দরবার হলে শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। নতুন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এই শপথ পাঠ পরিচালনা করেন। এ সময় হুমায়ুন কবিরের পাশাপাশি ড. আবদুল মঈন খান, ব্যারিস্টার আন্দালিব রহমান পার্থ এবং সাচিং প্রু জেরী মন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণ করেন। একই অনুষ্ঠানে মোহাম্মদ শামীম কায়সার লিংকন প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্বভার গ্রহণ করেন।
সিলেটের ওসমানীনগর উপজেলার উমরপুর ইউনিয়নের হাবশপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন হুমায়ুন কবির। শৈশবকালেই পরিবারের সাথে যুক্তরাজ্যের উদ্দেশ্যে পাড়ি জমান তিনি। যুক্তরাজ্যে দীর্ঘ প্রবাস জীবনে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক, কূটনীতি ও রাষ্ট্রীয় নীতি নির্ধারণে তিনি বিপুল অভিজ্ঞতা অর্জন করেন। তাঁর শিক্ষাগত যোগ্যতার ঝুলিতে রয়েছে একাধিক খ্যাতনামা প্রতিষ্ঠানের ডিগ্রি। তিনি যুক্তরাজ্যের ইউনিভার্সিটি অব সাসেক্স থেকে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিষয়ে স্নাতক (সম্মান) ডিগ্রি লাভ করেন। পরবর্তী সময়ে তিনি বিখ্যাত লন্ডন স্কুল অব ইকনোমিকস অ্যান্ড পলিটিক্যাল সায়েন্স (এলএসই), ইউনিভার্সিটি অব কেমব্রিজ এবং লিডস ল স্কুল থেকে পৃথক ৩টি বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন।
যুক্তরাজ্যের মূলধারার রাজনীতি ও প্রশাসনিক কাঠামোতেও হুমায়ুন কবিরের কাজ করার গভীর অভিজ্ঞতা রয়েছে। কর্মজীবনের শুরুতে তিনি লন্ডনের মেয়রের কার্যালয়ে কৌশল সহকারী পদে দায়িত্ব সামলান। পরবর্তীতে তিনি লিউইশাম এক্সিকিউটিভ মেয়রের কার্যালয়ে ক্যাবিনেট উপদেষ্টা হিসেবে যুক্ত হন। এমনকি ব্রিটিশ সরকারের উচ্চপর্যায়ে কাজ করার সুবাদে তিনি সাবেক প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসনের নেতৃত্বাধীন সরকারের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের একটি বিশেষ টিমে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। পরবর্তীতে যুক্তরাজ্য সরকারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ঋষি সুনাকের অধীনে দেশের ন্যায় মন্ত্রণালয়ে একাধিক ক্যাবিনেট মন্ত্রী ও বিশেষ উপদেষ্টার প্রাইভেট সেক্রেটারি পদে দায়িত্ব পালন করেন তিনি।
জুলাই গণঅভ্যুত্থানে ফ্যাসিবাদী সরকারের পতনের পর ২০২৪ সালের নভেম্বরে বাংলাদেশে ফিরে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বদেশের রাজনীতিতে সক্রিয় হন হুমায়ুন কবির। বাংলাদেশে প্রত্যাবর্তনের পূর্বে লন্ডনে থেকেই তিনি আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক যোগাযোগ স্থাপন এবং বৈশ্বিক অঙ্গনে রাজনৈতিক স্ট্র্যাটেজি তৈরিতে কাজ করেছেন। পরবর্তীতে ২০২৫ সালের ২২ অক্টোবর তাঁকে দলের আন্তর্জাতিক বিষয়ক যুগ্ম মহাসচিব হিসেবে মনোনীত করা হয়। এর পাশাপাশি তিনি এতদিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় এবং বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা পদে প্রতিমন্ত্রীর পদমর্যাদায় নিয়োজিত ছিলেন। বঙ্গভবনে আনুষ্ঠানিক শপথ গ্রহণের মাধ্যমে তাঁর এই যাত্রায় নতুন একটি অধ্যায় যুক্ত হলো।


