বিকল্পধারার সংগীতচর্চায় দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে শ্রোতাহৃদয়ে আলাদা জায়গা করে নিয়েছে দেশের জনপ্রিয় ব্যান্ড ‘মেঘদল’। কোক স্টুডিও বাংলার দ্বিতীয় সিজনে ‘বনবিবি’ গেয়ে যে মুগ্ধতা ছড়িয়েছিল তারা, দীর্ঘ তিন বছর পর আবারও একই মঞ্চে নতুন সুর নিয়ে ফিরল ব্যান্ডটি। চা-বাগান এলাকার ঐতিহ্যবাহী ও ঐতিহাসিক সংগীত থেকে ভাবরস নিয়ে তারা পরিবেশন করেছে ‘মুল্লুক’ শিরোনামের একটি বিশেষ গান। গতকাল রাতে কোক স্টুডিও বাংলার অফিশিয়াল ইউটিউব চ্যানেলসহ বিভিন্ন ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে গানটি আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়েছে।
কোক স্টুডিও বাংলাদেশ সূত্রে জানা যায়, ‘মুল্লুক’ গানটি মূলত বাংলাদেশের বিভিন্ন চা-বাগানে বসবাসকারী শ্রমজীবী মানুষদের মুখে মুখে প্রজন্মের পর প্রজন্ম বেঁচে থাকা পুরোনো লোকগানের ওপর ভিত্তি করে সাজানো হয়েছে। গানের প্রধান অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করেছে প্রচলিত লোকসঙ্গীত ‘পিঞ্জিরাকে পুষল ময়না’—এর ইতিহাস ও আবেগঘন ভাবধারা। শতবর্ষ আগে চা-শিল্পীদের ওপর চলা অত্যাচার, তাঁদের বেঁচে থাকার লড়াই এবং ইতিহাসখ্যাত ‘মুল্লুক চলো আন্দোলন’-এর পটভূমি এই সংগীতে নতুন রূপ পেয়েছে। লোকসংস্কৃতির গভীর শিকড়কে সমকালীন রক ও আধুনিক ঘরানার সংগীতে মিলিয়ে হারিয়ে যেতে বসা এক সম্প্রদায়ের আত্মপরিচয় ও আপন ঠিকানায় ফেরার আকুলতা শ্রোতাদের সামনে নিয়ে এসেছে মেঘদল।
গানটিতে লোকগানের পঙ্ক্তির পাশাপাশি নতুন কথা যোগ করেছেন এবং সুর বেঁধেছেন মেঘদলের অন্যতম সদস্য শিবু কুমার শীল। মূল পরিবেশনায় ব্যান্ডের সঙ্গে মূল ধারার দুই চা-শিল্পী রনজু তাঁতি ও রঞ্জিত তাঁতি সরাসরি কণ্ঠ দিয়েছেন। এর সাথে স্থানীয় শ্রীমঙ্গলের ঐতিহ্যবাহী ঢোলের সুনিপুণ ছন্দ এবং চা-শিল্পীদের আবেগমাখা পরিবেশনা ট্র্যাকটিতে এক অনন্য মাত্রা যুক্ত করেছে। শ্রীমঙ্গলের রাজঘাট চা-বাগানের সঙ্গে সম্পর্কিত সংগীতের এই কাঁচা আবেগ আধুনিক সুরের সাথে সুন্দরভাবে মিশে গেছে।
জনপ্রিয় সংগীত প্ল্যাটফর্ম কোক স্টুডিও বাংলার চতুর্থ সিজনের চতুর্থ পরিবেশনা হলো এই ‘মুল্লুক’। চলতি মৌসুমে এর আগে গত জুলাই মাসে প্রকাশিত হয়েছিল ঈশান মজুমদার ও সুনিধি নায়েকের গাওয়া জনপ্রিয় গান ‘পাতার বাঁশরী’। ঈশান মজুমদারের রচনা ও সুরে গানটির সংগীত প্রযোজনা করেছিলেন অদিত রহমান। এবার সেই ধারাবাহিকতায় চা-বাগানের শ্রমজীবী মানুষদের অবদান ও তাঁদের ঐতিহাসিক সংগ্রামের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে প্রকাশ পেল মেঘদলের এই নতুন পরিবেশনা।


