ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলায় চার বছর বয়সী এক শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগে মো. আব্দুল মান্নান (৬৫) নামে এক বৃদ্ধকে আটক করেছে পুলিশ। শনিবার দুপুরে উপজেলার গোকুলনগর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর শিশুটিকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
পুলিশ ও শিশুটির পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, দুপুর ১২টার দিকে চার বছর বয়সী শিশুটি বাড়ির পাশের এলাকায় খেলছিল। এ সময় আব্দুল মান্নান শিশুটিকে লেবু খাওয়ানোর কথা বলে নিজের বাড়িতে নিয়ে যান বলে অভিযোগ উঠেছে। পরে তাকে বাড়ির রান্নাঘরে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে শিশুটির ওপর যৌন নির্যাতন করা হয়েছে বলে পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে।
ঘটনার বিষয়টি জানতে পেরে শিশুটির মা দ্রুত সেখানে গিয়ে তাকে উদ্ধার করেন। পরে স্থানীয়দের সহযোগিতায় পুলিশকে খবর দেওয়া হয়। খবর পেয়ে মহেশপুর থানার পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে অভিযুক্ত আব্দুল মান্নানকে আটক করে।
পুলিশ জানিয়েছে, অভিযোগের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। শিশুটির শারীরিক অবস্থা ও অভিযোগের প্রাসঙ্গিকতা যাচাই করতে তাকে চিকিৎসার আওতায় নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে। এ ধরনের ঘটনায় ভুক্তভোগী শিশুর শারীরিক ও মানসিক নিরাপত্তাকে অগ্রাধিকার দিয়ে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
মহেশপুর থানার অফিসার ইনচার্জ মেহেদী হাসান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, ভুক্তভোগী শিশুকে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে। আটক ব্যক্তির বিরুদ্ধে আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে তাকে আদালতে সোপর্দ করা হবে।
শিশুটির পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনগত কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে অভিযোগের প্রকৃত ঘটনা নির্ধারণে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হবে। অভিযুক্ত ব্যক্তি আটক হওয়ার পর এলাকায় ঘটনাটি নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
শিশুদের নিরাপত্তার ক্ষেত্রে পরিবারের পাশাপাশি আশপাশের মানুষেরও সতর্ক থাকা জরুরি। বিশেষ করে অল্পবয়সী শিশুদের অপরিচিত বা সন্দেহজনক ব্যক্তির সঙ্গে একা যেতে না দেওয়া এবং তারা কোথায় যাচ্ছে, কার সঙ্গে আছে—এসব বিষয়ে অভিভাবকদের নজর রাখা প্রয়োজন। তবে এই ঘটনায় অভিযোগের সত্যতা আদালত ও তদন্ত প্রক্রিয়ায় নির্ধারিত হবে।
পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, আটক ব্যক্তিকে আইনগত প্রক্রিয়া শেষে আদালতে পাঠানো হবে। অন্যদিকে শিশুটির চিকিৎসা ও প্রয়োজনীয় সহায়তার বিষয়টিও প্রক্রিয়ার মধ্যে রয়েছে। ঘটনার পর শিশুটির পরিবারের সদস্যরা উদ্বিগ্ন রয়েছেন।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তদন্ত ও চিকিৎসা-সংক্রান্ত প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পর অভিযোগের বিষয়ে আরও বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যেতে পারে। বর্তমানে ঘটনাটির মূল অভিযোগ, শিশুর উদ্ধার এবং অভিযুক্ত ব্যক্তিকে আটকের বিষয়গুলোই নিশ্চিত করেছে পুলিশ।


