কোপা লিবার্তাদোরেস থেকে রোজারিও সেন্ট্রালের বিদায়ের পর নিজের ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তার ইঙ্গিত দিয়েছেন আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপজয়ী উইঙ্গার আনহেল ডি মারিয়া। ৩৮ বছর বয়সি এই উইঙ্গার ম্যাচপরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে জানান, তিনি ফুটবল খেলা চালিয়ে যেতে ইচ্ছুক হলেও ক্যারিয়ারের পরবর্তী পদক্ষেপ নিয়ে তাঁকে নতুন করে ভাবতে হবে।
বয়স ৩৮ পেরিয়ে গেলেও মাঠের পারফরম্যান্সে তার স্পষ্ট ছাপ পড়েনি। ফুটবলের সর্বোচ্চ পর্যায়ে আরও কিছুদিন লড়াই চালিয়ে যাওয়ার সামর্থ্য তাঁর রয়েছে। এই পরিস্থিতিতেই নতুন করে গুঞ্জন শুরু হয়েছে মেজর লিগ সকারের (এমএলএস) ক্লাব ইন্টার মায়ামিকে ঘিরে। ফুটবল অঙ্গনে আলোচনা উঠেছে, পেশাদার ফুটবলকে বিদায় না জানিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমিয়ে আবারও লিওনেল মেসির সঙ্গে এক দলে নামতে পারেন তিনি।
আন্তর্জাতিক বিভিন্ন ক্রীড়া মাধ্যম, বিশেষ করে ‘গোল ডটকম’-এর প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে ইন্টার মায়ামি এর আগেও একাধিকবার ডি মারিয়াকে চুক্তিভুক্ত করার উদ্যোগ নিয়েছিল। যদিও আগের সেই প্রচেষ্টাগুলো শেষ পর্যন্ত রূপ নেয়নি, তবে ২০২৭ মৌসুমকে সামনে রেখে পুনরায় এই দুই তারকাকে এক ছাদের নিচে আনার নতুন গুঞ্জন জোরদার হয়েছে।
মেসি ও ডি মারিয়ার সখ্য এবং মাঠের ভেতরের রসায়ন আধুনিক ফুটবলের অন্যতম সফল জুটি হিসেবে সর্বজনস্বীকৃত। আর্জেন্টিনার জাতীয় দলের হয়ে এই দুই মহাতারকা একসঙ্গে জয় করেছেন বিশ্বকাপ, দুটি কোপা আমেরিকা, ফিনালিসিমা এবং অলিম্পিক সোনা সহ মোট পাঁচটি প্রধান ট্রফি।
তাদের আন্তর্জাতিক সাফল্যের দীর্ঘযাত্রার সূচনা ঘটেছিল ২০০৮ বেইজিং অলিম্পিকে স্বর্ণপদক জয়ের মধ্য দিয়ে। এরপর ২০২১ সালে কোপা আমেরিকার ফাইনালে ঐতিহ্যবাহী মারাকানা স্টেডিয়ামে স্বাগতিক ব্রাজিলের বিরুদ্ধে ডি মারিয়ার সেই চমৎকার গোলটি আর্জেন্টিনার দীর্ঘ ২৮ বছরের শিরোপা খরার অবসান ঘটায়।
পরবর্তীতে ২০২২ ফিনালিসিমায় ইতালির বিপক্ষে দাপুটে জয় এবং একই বছর কাতার বিশ্বকাপের রোমাঞ্চকর ফাইনালে ফ্রান্সকে হারিয়ে বিশ্বমুকুট জয়ের পেছনেও ছিল মেসি-ডি মারিয়া জুটির মূল ভূমিকা। কাতার ফাইনালে মেসির জোড়া গোলের পাশাপাশি ডি মারিয়ার চোখধাঁধানো গোলটি আর্জেন্টিনাকে ৩৬ বছর পর বিশ্বসেরার স্থান ফিরিয়ে দেয়। সবশেষে ২০২৪ কোপা আমেরিকা জয়ের মধ্য দিয়ে জাতীয় দলের হয়ে তাদের যৌথ অধ্যায়ের পূর্ণতা ঘটে।
এখন ফুটবলপ্রেমীদের নজর কেবল একটি প্রশ্নের দিকে—ডি মারিয়া কি দেশের মাটিতেই বুট জোড়া তুলে রাখবেন, নাকি মায়ামিতে যোগ দিয়ে জীবনের শেষ পর্বে মেসির পাশে দাঁড়িয়ে আরও একবার জাদুর স্পর্শ দেখাবেন? উত্তর সময় দেবে, তবে ভক্তদের প্রত্যাশা এখনও অমলিন।


