টেস্ট ক্রিকেট থেকে অবসরের বিষয়ে এখনই কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছাননি অস্ট্রেলিয়ার বাঁহাতি পেসার মিচেল স্টার্ক। বরং লাল বলের ক্রিকেটে নিজের ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্নের জবাবে তিনি জানিয়েছেন, শরীর যতদিন অনুমতি দেবে, ততদিন অস্ট্রেলিয়ার হয়ে টেস্ট খেলে যেতে চান।
বাংলাদেশের বিপক্ষে দ্বিতীয় টেস্টে দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের পর স্টার্কের অবসর প্রসঙ্গটি আবারও আলোচনায় আসে। তবে তার কথায় আপাতত বিদায়ের কোনো ইঙ্গিত নেই। বরং দীর্ঘদিনের এই পেসারের বক্তব্যে স্পষ্ট, টেস্ট ক্রিকেটের প্রতি তার আগ্রহ এখনও অটুট।
স্টার্কের কাছে টেস্ট ক্রিকেটের মর্যাদা অন্য যেকোনো সংস্করণের চেয়ে আলাদা। দীর্ঘ সময় ধরে পাঁচ দিনের ক্রিকেটে অস্ট্রেলিয়ার বোলিং আক্রমণের অন্যতম প্রধান অস্ত্র হিসেবে দায়িত্ব পালন করা এই পেসার দলের সঙ্গে সময় কাটানো এবং ড্রেসিংরুমের পরিবেশও উপভোগ করেন। ফলে শারীরিক সক্ষমতা ধরে রাখতে পারলে লাল বলের ক্রিকেটে আরও সময় দিতে চান তিনি।
নিজের ভবিষ্যৎ নিয়ে কথা বলতে গিয়ে স্টার্ক জানিয়েছেন, এখনই নির্দিষ্ট কোনো সময়সীমা ঠিক করেননি। তিনি এখনও খেলা উপভোগ করছেন এবং সামনে এগিয়ে যাওয়ার মানসিকতা নিয়েই মাঠে নামছেন। সতীর্থ নাথানের একটি মন্তব্যও এ প্রসঙ্গে উল্লেখ করেন তিনি। নাথান তাকে মনে করিয়ে দিয়েছেন, তিনি নাকি এখনও সিঁড়ির প্রথম ধাপেই পা রেখেছেন এবং ওপর থেকে তাকিয়ে থাকার মতো আরও অনেকটা পথ বাকি।
স্টার্ক বলেন, তিনি এখনও নিশ্চিত করে কিছু জানেন না, তবে খেলা চালিয়ে যাচ্ছেন। তার শরীরও আপাতত ভালো অবস্থায় রয়েছে। অস্ট্রেলিয়া দলের অংশ হয়ে থাকতে পেরে তিনি আনন্দিত এবং শরীর যতদিন অনুমতি দেবে, ততদিন টেস্ট ক্রিকেটে নিজের সর্বোচ্চটা দিতে চান।
বাংলাদেশের বিপক্ষে দ্বিতীয় টেস্টে তার পারফরম্যান্সও সেই আত্মবিশ্বাসের বড় প্রমাণ। ম্যাচে মোট ১০টি উইকেট নিয়ে স্টার্ক ম্যাচসেরার পুরস্কার জেতেন। পুরো সিরিজেও বল হাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখায় তার হাতে ওঠে সিরিজসেরার স্বীকৃতি। নতুন বলে আক্রমণাত্মক বোলিংয়ের পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ সময়ে উইকেট তুলে নিয়ে তিনি অস্ট্রেলিয়ার জন্য বড় পার্থক্য তৈরি করেন।
স্টার্কের বয়স ও দীর্ঘ আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার বিবেচনায় অবসরের প্রশ্নটি স্বাভাবিকভাবেই সামনে আসে। বিশেষ করে দ্রুতগতির পেসারদের জন্য দীর্ঘদিন টেস্ট ক্রিকেটে শীর্ষ পর্যায়ে থাকা শারীরিকভাবে কঠিন। চোটের ঝুঁকি, পুনর্বাসনের সময় এবং তিন সংস্করণে খেলার চাপ—সবকিছুই একজন পেসারের ক্যারিয়ারে প্রভাব ফেলে। তবে স্টার্কের বর্তমান বক্তব্যে বোঝা যাচ্ছে, এসব বিষয়কে সামনে রেখে তিনি আপাতত বিদায়ের পরিকল্পনা করছেন না।
অস্ট্রেলিয়ার টেস্ট দলে স্টার্কের গুরুত্বও কম নয়। বাঁহাতি পেস, নতুন বলে সুইং এবং পুরোনো বলে গতি ও রিভার্স সুইংয়ের সামর্থ্য তাকে অন্যদের তুলনায় আলাদা করে। বড় ম্যাচে অভিজ্ঞতার পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে উইকেট নেওয়ার ক্ষমতাও তার অন্যতম শক্তি।
ফলে স্টার্কের ভবিষ্যৎ এখন অনেকটাই নির্ভর করছে তার শরীর ও ফিটনেসের ওপর। তিনি নিজেই যখন বলছেন, যতদিন শরীর সায় দেবে ততদিন টেস্ট ক্রিকেট চালিয়ে যেতে চান, তখন আপাতত অস্ট্রেলিয়ার সমর্থকদের জন্য স্বস্তির খবরই এটি। বাংলাদেশের বিপক্ষে দুর্দান্ত সিরিজের পর অন্তত এখনই টেস্ট ক্রিকেটকে বিদায় বলার পথে হাঁটছেন না এই অভিজ্ঞ পেসার।


