খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: রবিবার, ২২ মার্চ ২০২৬
ভৈরব-কিশোরগঞ্জ মহাসড়কে রোববার (২২ মার্চ) বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে ঘটে এক মর্মান্তিক মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় তিন কিশোরের মৃত্যু ঘটেছে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, অতিরিক্ত গতি এবং বেপরোয়া চালনা এই দুর্ঘটনার মূল কারণ।
দুর্ঘটনার স্থান ছিল কাঁঠালতলী এলাকায়, যেখানে মোটরসাইকেল আরোহী তিন কিশোর নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে উল্টে যান। পরে পেছন থেকে আসা একটি পিকআপ ভ্যান তাদের চাপা দেয়। স্থানীয়দের বরাতে জানা গেছে, মোটরসাইকেলটি দ্বাড়িয়াকান্দির দিকে যাচ্ছিল।
নিহতদের পরিচয় নিম্নরূপ:
| নাম | বয়স | গ্রামের নাম | পিতার নাম |
|---|---|---|---|
| বিজয় ভুঁইয়া | ১৮ | দ্বাড়িয়াকান্দি | সাব্বির ভুঁইয়া |
| জাবের হাই | ১৮ | দ্বাড়িয়াকান্দি | আব্দুল হাই রিপন |
| জিৎ বর্মণ | ১৭-১৮ (প্রায়) | খালেকারকান্দি | রতীন্দ্র বর্মণ |
কুলিয়ারচর থানার উপ-পরিদর্শক মঞ্জুরুল ইসলাম নিহতদের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, “দুর্ঘটনার সময় বিজয় ও জাবের ঘটনাস্থলেই মারা যান। জিৎ বর্মণকে গুরুতর অবস্থায় প্রথমে ভাগলপুর জহুরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে তার অবস্থার অবনতি হওয়ায় ঢাকায় স্থানান্তর করা হয়। রাত সাড়ে ৮টার দিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনিও মারা যান।”
প্রত্যক্ষদর্শীরা আরও জানিয়েছেন, তিন কিশোর মোটরসাইকেলে একসাথে ছিলেন এবং গতিবেগ নিয়ন্ত্রণের বাইরে ছিল। স্থানীয়রা বলছেন, সড়কের ওই অংশে অতিরিক্ত গতি নিয়ন্ত্রণে রাখা কঠিন, যার কারণে দুর্ঘটনার সম্ভাবনা থাকে।
এই ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। নিহতদের পরিবার ও গ্রামের মানুষরা গভীর দুঃখ প্রকাশ করেছেন। কিশোরদের অকাল মৃত্যু স্থানীয় সম্প্রদায়ের জন্য একটি বড় ধাক্কা। স্থানীয়রা আশা প্রকাশ করছেন, ভবিষ্যতে সড়ক নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও কঠোর করা হবে এবং দুর্ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে সতর্কতা বাড়ানো হবে।
স্থানীয় প্রশাসন এবং পুলিশও দুর্ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে। তারা জানিয়েছে, স্থানীয়ভাবে গাড়ি ও মোটরসাইকেলের অতিরিক্ত গতি নিয়ন্ত্রণে বিশেষ নজরদারি বাড়ানো হবে। এছাড়া স্থানীয় স্কুল ও সামাজিক প্রতিষ্ঠানগুলোর মাধ্যমে যুবসমাজকে সড়ক নিরাপত্তা বিষয়ে সচেতন করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।
দুর্ঘটনার পর গ্রামের মানুষদের মধ্যে শোক ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও স্থানীয় সংবাদ মাধ্যমে এই ঘটনায় গভীর মনোযোগ দেওয়া হচ্ছে, যাতে ভবিষ্যতে সড়ক দুর্ঘটনার সংখ্যা হ্রাস পায়।
সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, এই দুর্ঘটনা কিশোরদের জন্য একটি মর্মস্পর্শী শিক্ষা হয়ে থাকবে যে সড়ক নিরাপত্তা অতি গুরুত্বপূর্ণ এবং বেপরোয়া গতির চেয়ে জীবনকে নিরাপদে রাখাই বড়।