কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলায় পারিবারিক বিরোধ ও মাদকসংক্রান্ত বিষয়কে কেন্দ্র করে জাকির হোসেন (২৯) নামের এক ব্যক্তিকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে তাঁর বড় ভাই মো. শাকিল (৩২) ও তাঁর কয়েকজন সহযোগীর বিরুদ্ধে। মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) দুপুরে উপজেলার কাকিয়ারচর পশ্চিম পাড়ায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত জাকির একই এলাকার আইয়ুব আলীর ছেলে।
পুলিশ ও স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য অনুযায়ী, পারিবারিক বিভিন্ন বিষয় এবং মাদকসংক্রান্ত একটি বিষয় নিয়ে জাকিরের সঙ্গে তাঁর বড় ভাই শাকিলের কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে শাকিলসহ কয়েকজন জাকিরকে মারধর করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। মারধরের একপর্যায়ে জাকির গুরুতর আহত হয়ে অচেতন হয়ে পড়েন।
তবে অচেতন অবস্থায় তাঁকে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের কাছ থেকেও তাৎক্ষণিকভাবে বিষয়টি পুলিশকে জানানো হয়নি। বরং জাকিরের মরদেহ গোপন রাখার চেষ্টা করা হয়েছিল বলে প্রাথমিক তদন্তে জানতে পেরেছে পুলিশ। ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর স্থানীয় পর্যায়ে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।
স্থানীয় সূত্র জানায়, মঙ্গলবার সন্ধ্যা ছয়টার দিকে কয়েকজন বাসিন্দা বিষয়টি গ্রাম পুলিশ মোখলেসকে জানান। পরে তিনি পুলিশকে খবর দেন। খবর পেয়ে রাতে বুড়িচং থানার দেবপুর পুলিশ ফাঁড়ির সদস্যরা কাকিয়ারচর পশ্চিম পাড়ায় যান। সেখান থেকে জাকিরের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে ঘটনাস্থলেই মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করা হয়।
মরদেহ উদ্ধারের সময় জাকিরের শরীরে একাধিক আঘাতের চিহ্ন দেখতে পাওয়ার কথা জানিয়েছে পুলিশ। প্রাথমিকভাবে তাঁর মাথার পেছনে ভোঁতা কোনো বস্তু দিয়ে আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে বলে জানানো হয়েছে। এ ছাড়া দুই পায়ে ধারালো অস্ত্রের আঘাত এবং কপালের মাঝামাঝি অংশে কাটা জখমের চিহ্নও রয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।
আঘাতের ধরন নিয়ে স্বাভাবিকভাবেই ঘটনাটির প্রকৃতি সম্পর্কে প্রশ্ন উঠেছে। তবে এসব আঘাত কীভাবে এবং কোন পর্যায়ে প্রাণঘাতী হয়েছে, তা এখনই নিশ্চিত করে বলা সম্ভব নয়। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট কারণ সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা পাওয়া যাবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
দেবপুর পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ সুরেজীত বড়ুয়া বলেন, নিহত ব্যক্তির শরীরে একাধিক আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। বুধবার সকালে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হবে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।
তিনি আরও জানান, ঘটনাটির পেছনে পারিবারিক বিরোধ, মাদকসংক্রান্ত বিষয় এবং অন্যান্য কোনো কারণ ছিল কি না, সেগুলো খতিয়ে দেখা হচ্ছে। একই সঙ্গে জাকির অচেতন হয়ে পড়ার পর কেন তাঁকে হাসপাতালে নেওয়া হয়নি এবং কেন পুলিশকে তাৎক্ষণিকভাবে জানানো হয়নি, সেই বিষয়ও তদন্তের আওতায় রয়েছে।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, ঘটনার সঙ্গে কারা সরাসরি জড়িত ছিলেন এবং মারধরের পর জাকিরের মৃত্যুর বিষয়টি কীভাবে ঘটেছে, তা তদন্তের মাধ্যমে নির্ধারণ করা হবে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এ ঘটনায় নিহতের পরিবার ও স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে গুরুতর আহত একজন ব্যক্তিকে সময়মতো চিকিৎসা দেওয়া হয়েছিল কি না, তাঁকে হাসপাতালে না নেওয়ার কারণ কী ছিল এবং মৃত্যুর পর ঘটনাটি গোপন করার কোনো চেষ্টা হয়েছিল কি না—এসব প্রশ্নের উত্তর এখন তদন্তের ওপর নির্ভর করছে। ময়নাতদন্তের ফলাফল ও তদন্তের পরবর্তী অগ্রগতিতেই ঘটনার পূর্ণ চিত্র স্পষ্ট হবে।


