ব্যাট হাতে জো রুটের ধারাবাহিকতা যেন থামছেই না। টেস্ট ক্রিকেটে একের পর এক মাইলফলক পেরিয়ে ইংল্যান্ডের এই তারকা এখন পৌঁছে যাচ্ছেন রেকর্ডের আরও উঁচু স্তরে। পাকিস্তাaনের বিপক্ষে লর্ডসে চলমান দ্বিতীয় টেস্টের দ্বিতীয় দিনে বড় ইনিংস খেলতে না পারলেও মাত্র ২৪ রানেই গড়ে ফেলেছেন ঐতিহাসিক এক কীর্তি। ঘরের মাঠে টেস্ট ক্রিকেটে সর্বোচ্চ রানের মালিক এখন রুট।
লর্ডস টেস্টের প্রথম ইনিংসে ২৪ রান করার পর ইংল্যান্ডের মাটিতে টেস্টে রুটের মোট রান বেড়ে দাঁড়ায় ৭ হাজার ৫৯৪। এর মাধ্যমে তিনি পেছনে ফেলেছেন অস্ট্রেলিয়ার সাবেক অধিনায়ক রিকি পন্টিংকে। অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে পন্টিংয়ের সংগ্রহ ছিল ৭ হাজার ৫৭৮ রান। ফলে ১৬ রান এগিয়ে থেকে রেকর্ডটির একক মালিক হয়েছেন রুট।
এই অর্জনের বিশেষত্ব আরও বেশি, কারণ ঘরের মাঠে এত রান করতে রুটকে দীর্ঘ সময় ধরে অসাধারণ ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে হয়েছে। নিজের পরিচিত পরিবেশে নিয়মিত বড় ইনিংস খেলার পাশাপাশি চাপের মুহূর্তে দলকে ব্যাট হাতে ভরসা দেওয়ার কারণেই তিনি এই তালিকার শীর্ষে উঠেছেন।
ঘরের মাঠে টেস্টে সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহকদের তালিকায় রুটের পেছনে রয়েছেন পন্টিং ও ভারতের কিংবদন্তি ব্যাটার শচীন টেন্ডুলকার। দেশের মাটিতে টেন্ডুলকারের সংগ্রহ ৭ হাজার ২১৬ রান। অর্থাৎ এই তালিকায় রুটের সঙ্গে টেন্ডুলকারের ব্যবধানও এখন উল্লেখযোগ্য।
তবে ঘরের মাঠের এই রেকর্ড রুটের জন্য শেষ গন্তব্য নয়। বরং সামনে রয়েছে টেস্ট ক্রিকেটের সবচেয়ে বড় ব্যক্তিগত ব্যাটিং রেকর্ড। দীর্ঘ সময় ধরে আন্তর্জাতিক টেস্টে সর্বোচ্চ রানের মালিক শচীন টেন্ডুলকার। তাঁর সংগ্রহ ১৫ হাজার ৯২১ রান। আর রুটের বর্তমান সংগ্রহ ১৬৮ টেস্টে ১৪ হাজার ২০৮ রান। ফলে টেন্ডুলকারের রেকর্ড ছুঁতে রুটের প্রয়োজন আরও ১ হাজার ৭১৩ রান।
এই ব্যবধান খুব বড় হলেও রুটের বর্তমান ফর্ম এবং টেস্ট ক্রিকেটে তাঁর ধারাবাহিকতা আলোচনাকে আরও জোরালো করেছে। নিয়মিত খেলতে থাকা এবং ফিটনেস ধরে রাখতে পারলে আগামী কয়েক বছরে তিনি এই রেকর্ডের খুব কাছাকাছি পৌঁছে যেতে পারেন। অবশ্য টেস্ট ক্রিকেটে ১ হাজার ৭১৩ রান করা কোনো ব্যাটারের জন্যই সহজ কাজ নয়। ম্যাচের সংখ্যা, চোট, বয়স, ফর্ম এবং আন্তর্জাতিক সূচি—সবকিছুর ওপরই বিষয়টি নির্ভর করবে।
রুটকে নিয়ে এমন সম্ভাবনার কথা তাঁর বাবা ম্যাট রুটও বলেছেন। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, জো যদি নিজের ফিটনেস ও খেলায় মনোযোগ ধরে রাখতে পারেন, তাহলে শচীনের রেকর্ড স্পর্শ করা তাঁর পক্ষে অসম্ভব কিছু নয়। বাবার এই মন্তব্যে অবশ্য কোনো নিশ্চয়তা নেই; বরং ছেলের দীর্ঘ ক্যারিয়ারের ধারাবাহিকতার ওপর আস্থার প্রকাশই এতে ফুটে উঠেছে।
পাকিস্তানের বিপক্ষে চলমান সিরিজেও রুটের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। হেডিংলিতে প্রথম টেস্টে ইংল্যান্ড ইনিংস ও ১০৩ রানের বড় ব্যবধানে জয় পেয়েছে। সেই ম্যাচে নেতৃত্বের দায়িত্বে নিজের দ্বিতীয় অধ্যায়ে ফিরে এসে রুট দলকে দারুণভাবে সংগঠিত করেন। লর্ডসেও ইংল্যান্ড শক্ত অবস্থানে রয়েছে। ফলে ব্যাটার ও নেতা—দুই ভূমিকাতেই রুটকে ঘিরে প্রত্যাশা বাড়ছে।
রুটের ক্যারিয়ারের এই পর্যায়ে এসে প্রতিটি রানই যেন নতুন কোনো রেকর্ডের দিকে তাঁকে এগিয়ে দিচ্ছে। ঘরের মাঠে পন্টিংকে ছাড়িয়ে যাওয়া সেই ধারাবাহিকতার আরেকটি বড় উদাহরণ। এখন ক্রিকেটবিশ্বের নজর থাকবে একটিই প্রশ্নে—টেস্টের সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক হিসেবে শচীন টেন্ডুলকারের দীর্ঘদিনের আধিপত্য কি একদিন জো রুট ভাঙতে পারবেন?



