দুর্যোগের আর্থিক ঝুঁকি কমাতে সাড়ে ৪৬ কোটি ডলারের বীমা প্রকল্প থাইল্যান্ডের

প্রাকৃতিক দুর্যোগের ক্রমবর্ধমান ক্ষতি সামাল দিতে এবং সরকারি তহবিলের ওপর চাপ কমাতে এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ নিয়েছে থাইল্যান্ড সরকার। বন্যা, সামুদ্রিক ঝড় ও ভূমিকম্পের মতো প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের হাত থেকে ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চলের প্রায় ৩ কোটি পরিবারকে সুরক্ষা দিতে সরকার-অর্থায়নভিত্তিক এক বৃহৎ দুর্যোগ বীমা প্রকল্প ঘোষণা করা হয়েছে। এই উদ্যোগের মাধ্যমে দুর্যোগ মোকাবিলার আর্থিক ঝুঁকির একটি বড় অংশ বেসরকারি বীমা খাত ও পুনঃবীমাকারীদের ওপর স্থানান্তর করতে চাইছে দেশটি।
মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী অনুতিন চার্নভিরাকুল এক সংবাদ সম্মেলনে এই মেগা প্রকল্প অনুমোদনের কথা আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেন। নতুন এই পরিকল্পনার আওতায় বার্ষিক ১৫.৫ বিলিয়ন বাত (প্রায় ৪৬ কোটি ৭০ লাখ মার্কিন ডলার) বরাদ্দ দেবে থাইল্যান্ড সরকার।
বর্তমানে প্রতি বছর প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে সরাসরি ক্ষতিপূরণ দিতে গিয়ে থাইল্যান্ড সরকারকে রাষ্ট্রীয় কোষাগার থেকে অন্তত ৩০ বিলিয়ন বাত ব্যয় করতে হয়। নতুন বীমা কাঠামোর অধীনে বার্ষিক মোট ৭৫ বিলিয়ন বাতের কভারেজ বা নিরাপত্তা পাওয়া যাবে। সরকারি বরাদ্দের বাইরের অবশিষ্ট আর্থিক দায়ভার বহন করবে চুক্তিবদ্ধ বেসরকারি বীমা প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে বড় ধরনের কোনো প্রাকৃতিক বিপর্যয় ঘটলেও তা থাই করদাতাদের ওপর অতিরিক্ত অর্থনৈতিক চাপ তৈরি করবে না।
থাইল্যান্ড সরকারের মুখপাত্র রচদা ধনদিরেক প্রকল্পের ক্ষতিপূরণ কাঠামোর বিস্তারিত তুলে ধরে জানান, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে দ্রুততম সময়ের মধ্যে আর্থিক সহায়তা পৌঁছানোই এই পরিকল্পনার অন্যতম লক্ষ্য।
নতুন নিয়ম অনুযায়ী:
  • বন্যাজনিত ক্ষতির ক্ষেত্রে আবেদন পাওয়ার ১৫ দিনের মধ্যে প্রাথমিক সাহায্য হিসেবে মিলবে ১০,০০০ বাত।
  • ঝড় বা ভূমিকম্পে ক্ষয়ক্ষতির জন্য প্রাথমিক কিস্তিতে দেওয়া হবে ৫,০০০ বাত।
  • একটি নির্দিষ্ট দুর্যোগে প্রতিটি পরিবারের জন্য সর্বোচ্চ মোট ক্ষতিপূরণের সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে ১,০০,০০০ বাত।
  • প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে পরিবারে কারও অকাল মৃত্যু হলে দেওয়া হবে ২০ লাখ বাতের বিশেষ অর্থসহায়তা।
পুরো এশিয়া মহাদেশ জুড়েই নগরায়ণ বৃদ্ধি এবং জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে অতিপ্রবল ঝড়-বৃষ্টি ও আকস্মিক বন্যার ঝুঁকি আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে। এশিয়ার বহু দেশেই প্রাকৃতিক দুর্যোগের ফলে সৃষ্ট মোট অর্থনৈতিক ক্ষতির খুব সামান্য অংশই বীমার আওতায় থাকে, বাকি বড় অংশটাই থেকে যায় অলক্ষিত ও অরক্ষিত। থাইল্যান্ডে সাম্প্রতিক সময়ে এই চিত্র আরও প্রকট হয়েছে। ঠিক আগের মাসেই দেশটির উত্তরাঞ্চলে ভয়াবহ বন্যায় তিনজনের মৃত্যু হয় এবং প্রায় ২৫ হাজার মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হন। এছাড়া গত নভেম্বরের দক্ষিণ থাইল্যান্ডের ভয়াবহ বন্যায় বাণিজ্যিক ও পর্যটনকেন্দ্র হ্যাট ইয়াইসহ প্রায় ১০ লাখেরও বেশি বাসিন্দা মারাত্মক সংকটে পড়েন।
দীর্ঘমেয়াদি জলবায়ু ঝুঁকি সামলাতে থাইল্যান্ডের ‘ডিপার্টমেন্ট অব ডিজাস্টার প্রিভেনশন অ্যান্ড মিটিগেশন’, অর্থ মন্ত্রণালয়, ‘অফিস অব ইন্স্যুরেন্স কমিশন’ এবং ‘থাই জেনারেল ইন্স্যুরেন্স অ্যাসোসিয়েশন’ যৌথভাবে এ বৃহৎ প্রযুক্তিভিত্তিক বীমা কর্মসূচিটি বাস্তবায়ন ও পরিচালনা করবে।
Tags :

সৌরভ বিশ্বাস | উপ-সম্পাদক | খবরওয়ালা বাংলা

https://bn.khaborwala.com/

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

সর্বশেষ খবর

খবরওয়ালা একটি বিশ্বস্ত অনলাইন নিউজ পোর্টাল, যেখানে বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ ও আপডেট প্রকাশ করা হয়। রাজনীতি, জাতীয় ও স্থানীয় সংবাদ, শিক্ষা, খেলাধুলা, ব্যবসা, বিনোদন ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনের গুরুত্বপূর্ণ খবর নিয়ে পাঠকদের জন্য রয়েছে নির্ভরযোগ্য ও সময়োপযোগী সংবাদ পরিবেশন।

© ২০২৬ খবরওয়ালা। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।