নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় এক মাদ্রাসাছাত্রকে যৌন নির্যাতনের চাঞ্চল্যকর অভিযোগে মো. রফিকুল ইসলাম (২৮) নামে এক শিক্ষককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) বিকেলে ফতুল্লার মুসলিমনগর এলাকার ‘তাহসিনুল কোরআন মাদ্রাসা’ থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তার হওয়া শিক্ষক রফিকুল ইসলাম মুন্সীগঞ্জ জেলার টঙ্গীবাড়ী উপজেলার বাসিন্দা। তিনি দীর্ঘদিন ধরে মুসলিমনগরের ওই আবাসিক মাদ্রাসায় শিক্ষকতা করে আসছিলেন।
ঘটনার বিস্তারিত জানিয়ে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এর গণমাধ্যম ও জনসংযোগ কর্মকর্তা পুলিশ পরিদর্শক আনোয়ার সাত্তার জানান, বুধবার বিকেলে এক সচেতন নাগরিক ৯৯৯ নম্বরে ফোন করে মুসলিমনগর মাদ্রাসার সার্বিক পরিস্থিতি অবহিত করেন। কলার জানান, উক্ত মাদ্রাসার এক শিক্ষক সেখানকার এক ছাত্রকে বলাৎকার করেছেন এবং ঘটনা জানাজানি হলে বিক্ষুব্ধ স্থানীয় জনতা শিক্ষককে ঘিরে রেখে মারধর করছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে এলাকায় প্রচণ্ড উত্তেজনা সৃষ্টি হওয়ায় দ্রুত পুলিশি সহায়তার জন্য তিনি আকুতি জানান।
ফোন পাওয়ার সাথে সাথে ৯৯৯ কেন্দ্র থেকে ফতুল্লা থানায় বিষয়টি রূপান্তর করে জরুরিভিত্তিতে পুলিশ পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়। বার্তা পেয়ে ফতুল্লা থানা পুলিশের একটি চৌকস দল বিলম্ব না করে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় এবং বিক্ষুব্ধ লোকজনের হাত থেকে উদ্ধার করে অভিযুক্ত রফিকুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করে থানায় নিয়ে আসে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী ১৭ বছর বয়সী ছাত্রটি পবিত্র কোরআন মুখস্থ (হিফজ) করার উদ্দেশ্যে প্রায় এক বছর আগে এই মাদ্রাসায় ভর্তি হয়েছিল। স্বজনদের অভিযোগ, আবাসিক মাদ্রাসার সুযোগ নিয়ে ভর্তির পর থেকেই শিক্ষক রফিকুল ইসলাম ভয়ভীতি ও হুমকি প্রদর্শন করে ছাত্রটির ওপর দফায় দফায় যৌন নির্যাতন চালিয়ে আসছিলেন।
অভিযোগ মতে, সর্বশেষ গত ৩১ আগস্ট রাতে অভিযুক্ত শিক্ষক ছাত্রটির ওপর পুনরায় নির্যাতন চালালে ছেলেটি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়ে। ঘটনাটি বুঝতে পেরে ছাত্রটির মা তাকে মাদ্রাসা থেকে উদ্ধার করে বাড়িতে নিয়ে যান। সেখানে কান্নায় ভেঙে পড়ে পুরো ঘটনা পরিবারকে খুলে বলে ভুক্তভোগী।
বিষয়টি জানার পর ক্ষুব্ধ মা স্থানীয় প্রতিবেশীদের সঙ্গে নিয়ে বুধবার মাদ্রাসায় গিয়ে ওই শিক্ষকের মুখোমুখি হন। সেখানে উপস্থিত লোকজনের সামনে অভিযুক্ত শিক্ষক রফিকুল ইসলাম নিজের অপকর্মের কথা স্বীকার করেন বলে পুলিশ জানিয়েছে।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী ছাত্রের মা বাদী হয়ে ফতুল্লা থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি মামলা দায়ের করেছেন। ফতুল্লা থানা পুলিশ জানিয়েছে, মামলার পর অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে বিজ্ঞ আদালতে পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে এবং শিশু-কিশোরদের সুরক্ষায় বিষয়টিকে অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে তদন্ত করা হচ্ছে।



