দেশে হাম পরিস্থিতি এখনও উদ্বেগজনক। গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে আরও তিন শিশুর মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে ৮০ জনের শরীরে হাম শনাক্ত হয়েছে এবং আরও ৯৬৪ জনের মধ্যে হামের উপসর্গ দেখা গেছে। সব মিলিয়ে এক দিনে হাম ও এর উপসর্গ নিয়ে আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৪৪ জনে।
বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হামবিষয়ক নিয়মিত প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে মারা যাওয়া তিন শিশুর মধ্যে দুজন ঢাকা বিভাগের এবং একজন সিলেট বিভাগের। নতুন এই তিন মৃত্যু নিয়ে গত ১৫ মার্চ থেকে ৩ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দেশে হাম ও এর উপসর্গে মোট ৯৮৬ জনের মৃত্যু হয়েছে।
মৃতদের মধ্যে হামের উপসর্গ নিয়ে মারা গেছেন ৮৮৭ জন। আর পরীক্ষায় হাম শনাক্ত হওয়ার পর মৃত্যু হয়েছে ৯৯ জনের। অর্থাৎ, মোট মৃত্যুর বড় অংশই ঘটেছে হামের উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসাধীন রোগীদের মধ্যে।
এদিকে গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে নতুন করে ৮০ জনের হাম শনাক্ত হয়েছে। পাশাপাশি আরও ৯৬৪ জনের মধ্যে হামের উপসর্গ পাওয়া গেছে। দীর্ঘ সময় ধরে চলা এই পরিস্থিতিতে গত ১৫ মার্চ থেকে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত দেশে মোট ১৯ হাজার ৫২৭ জনের শরীরে হাম শনাক্ত হয়েছে। একই সময়ে হামের উপসর্গ দেখা গেছে ১ লাখ ৬১ হাজার ১৪৮ জনের মধ্যে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হিসাব বলছে, হাম ও এর উপসর্গ নিয়ে আক্রান্তদের একটি বড় অংশকে হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে হয়েছে। ১৫ মার্চ থেকে ৩ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এ ধরনের মোট ১ লাখ ৪১ হাজার ৪৪৯ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। তাদের মধ্যে চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন ১ লাখ ৩৬ হাজার ৪০৫ জন।
হাম একটি অত্যন্ত সংক্রামক ভাইরাসজনিত রোগ। সাধারণত জ্বর, কাশি, নাক দিয়ে পানি পড়া, চোখ লাল হওয়া এবং শরীরে লালচে ফুসকুড়ি দেখা দেওয়ার মতো উপসর্গের মাধ্যমে রোগটি প্রকাশ পায়। শিশুদের ক্ষেত্রে সংক্রমণের পর শারীরিক অবস্থা দ্রুত অবনতি হতে পারে, বিশেষ করে জটিলতা দেখা দিলে চিকিৎসার প্রয়োজন হয়।
দেশে দীর্ঘ সময় ধরে হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে রোগী শনাক্ত হওয়ায় হাসপাতালগুলোতেও রোগীর চাপ তৈরি হয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের দৈনিক প্রতিবেদনে নতুন শনাক্ত, উপসর্গযুক্ত রোগী, মৃত্যু এবং হাসপাতালে ভর্তি-ছাড়পত্রের তথ্য নিয়মিতভাবে তুলে ধরা হচ্ছে। এসব পরিসংখ্যানের মাধ্যমে পরিস্থিতির সামগ্রিক চিত্র পাওয়া যাচ্ছে।
গত ২৪ ঘণ্টার হিসাবও সেই ধারাবাহিকতারই অংশ। এক দিনে ১ হাজারের বেশি মানুষের মধ্যে হাম বা হামের উপসর্গ দেখা দেওয়া এবং তিনজনের মৃত্যু পরিস্থিতিটির গুরুত্ব তুলে ধরছে। বিশেষ করে শিশুদের মৃত্যুর ঘটনা রোগটি নিয়ন্ত্রণে দ্রুত শনাক্তকরণ, প্রয়োজনীয় চিকিৎসা এবং জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনার গুরুত্ব আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।
১৫ মার্চ থেকে ৩ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত পাওয়া তথ্য একসঙ্গে বিবেচনা করলে দেখা যায়, এই সময়ে হামের উপসর্গ নিয়ে শনাক্ত মানুষের সংখ্যা ১ লাখ ৬১ হাজার ছাড়িয়েছে এবং হাম শনাক্ত হয়েছে প্রায় ২০ হাজার মানুষের। একই সময়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১ লাখ ৪১ হাজারের বেশি মানুষ। চিকিৎসা নিয়ে বিপুলসংখ্যক রোগী সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরলেও মৃত্যুর সংখ্যাও এক হাজারের কাছাকাছি পৌঁছেছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ প্রতিবেদনে নতুন করে তিন শিশুর মৃত্যুর তথ্য যোগ হওয়ায় হাম পরিস্থিতি নিয়ে সতর্কতা বজায় রাখার প্রয়োজনীয়তা আরও স্পষ্ট হয়েছে।



