রাজধানীর দারুসসালাম থানার মাতবর বাড়ি এলাকায় বাসায় বসে টেলিভিশন দেখার সময় জানালা দিয়ে ছোড়া গুলিতে জেসমিন আক্তার (৩৮) নামে এক নারী আহত হয়েছেন। শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) রাতে এ ঘটনা ঘটে। গুলিটি তার ডান হাতে বিদ্ধ হয়।
আহত জেসমিন আক্তার ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলার উত্তর দাল্লা গ্রামের আব্দুল মান্নানের স্ত্রী। তিনি বর্তমানে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে দারুসসালামের মাতবর বাড়ির সামনে আমিনুল ডাক্তারের বাসায় ভাড়া থাকেন।
পরিবারের সদস্যদের বরাত দিয়ে জানা গেছে, ঘটনার সময় জেসমিন বাসায় বসে টেলিভিশন দেখছিলেন। হঠাৎ বাইরে থেকে কে বা কারা জানালা লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। গুলিটি তার ডান হাতে লাগে। আকস্মিক এ ঘটনায় পরিবারের সদস্যদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
পরে স্বজনেরা দ্রুত তাকে উদ্ধার করে স্থানীয় একটি হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর রাত সাড়ে ১১টার দিকে জেসমিনকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
ঢামেক হাসপাতালে আহত মাকে নিয়ে আসা ছেলে ইয়াছিন বলেন, তার মা তখন বাসায় বসে টেলিভিশন দেখছিলেন। হঠাৎ জানালা দিয়ে গুলি ছোড়া হয়। এতে তার মায়ের ডান হাতে গুলি লাগে।
ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর দারুসসালাম থানা পুলিশের সদস্যরা ঘটনাস্থলে যান। পরে আহত নারীকে দেখতে এবং ঘটনার বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ করতে ঢামেক হাসপাতালেও পুলিশ সদস্যদের পাঠানো হয়েছে।
দারুসসালাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) দুলাল হোসেন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, বিষয়টি জানার পর পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়েছিল। আহত নারী বর্তমানে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। সেখানে পুলিশের একটি দল পাঠানো হয়েছে।
তবে জেসমিনকে লক্ষ্য করে কেন গুলি ছোড়া হয়েছে, কারা এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত এবং গুলিবর্ষণের পেছনে কোনো পূর্বপরিকল্পনা বা ব্যক্তিগত বিরোধ ছিল কি না—এসব বিষয়ে এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। পুলিশ ঘটনার কারণ ও জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করতে তদন্ত করছে।
আবাসিক এলাকায় একটি বাসার জানালা দিয়ে গুলি ছোড়ার ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যেও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। ঘটনার সময় আশপাশে সন্দেহজনক কোনো ব্যক্তি বা যানবাহন দেখা গিয়েছিল কি না, হামলাকারীরা কোন দিক থেকে গুলি ছুড়েছিল এবং ঘটনাস্থল থেকে কোনো আলামত পাওয়া গেছে কি না—তদন্তে এসব বিষয়ও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।
পুলিশ জানিয়েছে, তদন্তের অগ্রগতির সঙ্গে গুলিবর্ষণের কারণ ও জড়িতদের বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যেতে পারে। আহত জেসমিনের চিকিৎসাও চলছে। তবে তার শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে পুলিশ বা পরিবারের পক্ষ থেকে বিস্তারিত কোনো তথ্য তাৎক্ষণিকভাবে জানানো হয়নি।



