ফেনীর ছাগলনাইয়ায় পুলিশ পরিচয়ে সাধারণ মানুষের মোবাইল ফোন তল্লাশি ও হয়রানির অভিযোগে তিন যুবককে আটক করেছে পুলিশ। শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) রাতে উপজেলার মহামায়া ইউনিয়নের উত্তর যশপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
আটক তিনজন হলেন ছাগলনাইয়া পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের বাঁশপাড়া গ্রামের মৃত রহিম উল্লাহর ছেলে ইমাম হোসেন (২৮), একই গ্রামের কবির আহাম্মদের ছেলে নাজমুল হক মুন্না (৩৮) এবং পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের দক্ষিণ যশপুর গ্রামের ফিরোজ আহমেদের ছেলে রাজীব হোসেন (৩৬)।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, আটক ইমাম হোসেনের বিরুদ্ধে ছাগলনাইয়া থানায় দুটি মামলা রয়েছে। আর নাজমুল হক মুন্নার বিরুদ্ধে একই থানায় আটটি মামলা রয়েছে। রাজীব হোসেনের বিরুদ্ধে কোনো মামলার তথ্য তাৎক্ষণিকভাবে জানানো হয়নি।
স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য, শনিবার রাতে ওই তিন যুবক উত্তর যশপুর গ্রামে প্রবেশ করেন। তাঁরা নিজেদের পুলিশ সদস্য হিসেবে পরিচয় দিয়ে স্থানীয় কয়েকজনের মোবাইল ফোন তল্লাশি শুরু করেন। পরিচয় ও তল্লাশির কারণ নিয়ে সন্দেহ তৈরি হলে স্থানীয়রা তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদ করেন। একপর্যায়ে বিষয়টি নিয়ে উত্তেজনা সৃষ্টি হয় এবং স্থানীয়রা তিনজনকে আটক করে মারধর করেন।
পরে স্থানীয়দের কাছ থেকে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। পুলিশ তিন যুবককে নিজেদের হেফাজতে নিয়ে থানায় নিয়ে আসে। সেখানে তাঁদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের বিষয়ে প্রাথমিকভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।
ছাগলনাইয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু তাহের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, আটক ব্যক্তিরা বিভিন্নভাবে পুলিশ পরিচয় দিয়ে মানুষকে হয়রানি করতেন বলে অভিযোগ রয়েছে। তাঁরা মানুষের কাছে মোটা অঙ্কের টাকা দাবি করতেন বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে।
ওসি আরও জানান, এ ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। তদন্তের মাধ্যমে অভিযুক্তদের কর্মকাণ্ড, তাঁদের ব্যবহৃত পরিচয় এবং স্থানীয়দের কাছ থেকে টাকা দাবি করার অভিযোগসহ সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো যাচাই করা হবে।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পরিচয় ব্যবহার করে সাধারণ মানুষকে ভয় দেখানো বা ব্যক্তিগত তথ্য ও মোবাইল ফোন তল্লাশি করা গুরুতর অভিযোগ। বিশেষ করে পুলিশের পরিচয় ব্যবহার করে কারও ব্যক্তিগত ডিভাইস পরীক্ষা বা অর্থ দাবি করা হলে তা নিয়ে স্বাভাবিকভাবেই মানুষের মধ্যে নিরাপত্তা ও গোপনীয়তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হতে পারে।
স্থানীয়দের দ্রুত সন্দেহ হওয়ায় বিষয়টি পুলিশের নজরে আসে বলে জানা গেছে। তবে আটক তিনজনের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের সবগুলো দিক এখনো তদন্তাধীন। তাঁদের বিরুদ্ধে কী ধরনের আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে, তা তদন্ত ও মামলার পরবর্তী প্রক্রিয়ায় নির্ধারিত হবে।
পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনায় জড়িত অন্য কেউ আছে কি না এবং আটক ব্যক্তিরা এর আগে একই কৌশলে অন্য কোথাও মানুষকে হয়রানি বা অর্থ আদায়ের চেষ্টা করেছেন কি না, তদন্তে সেসব বিষয়ও খতিয়ে দেখা হবে। একই সঙ্গে স্থানীয়দের কাছ থেকে পাওয়া অভিযোগ ও সংশ্লিষ্ট তথ্য যাচাই করে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে পুলিশ পরিচয় ব্যবহার করে হয়রানির অভিযোগে তিনজন আটকের ঘটনায় এলাকায় আলোচনা তৈরি হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পরিচয় নিয়ে কেউ সন্দেহজনকভাবে মোবাইল ফোন তল্লাশি বা অর্থ দাবি করলে সরাসরি উত্তেজনায় না গিয়ে স্থানীয় পুলিশকে জানানোর ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।



