কেরানীগঞ্জের ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে আসার পর তিন কারাবন্দীর মৃত্যু হয়েছে। রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) সকালে পৃথক সময়ে চিকিৎসাধীন ও জরুরি বিভাগে নিয়ে আসার পর কর্তব্যরত চিকিৎসকেরা তাঁদের মৃত ঘোষণা করেন। মৃতদের মধ্যে দুজন হাজতি ও একজন সাজাপ্রাপ্ত কয়েদি। বিশেষভাবে লক্ষণীয়, দুই হাজতির মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে মাত্র ১ ঘণ্টা ৪০ মিনিটের ব্যবধানে।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, রোববার সকালে কারারক্ষী মো. শহিদসহ একটি দল অসুস্থ হাজতি আবুল বাশারকে (৫৮) জরুরি বিভাগে নিয়ে আসে। সেখানে পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে সকাল ৭টা ২৫ মিনিটে চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। মৃত আবুল বাশার চাঁদপুরের কচুয়া উপজেলার কুটিয়া লক্ষ্মীপুর গ্রামের সেকেন্দার আলীর ছেলে। কচুয়া থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে দায়ের করা একটি মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে তিনি কারাগারে ছিলেন।
এর ঠিক ১ ঘণ্টা ৪০ মিনিট পর, সকাল ৯টা ৫ মিনিটে চিকিৎসকরা অপর হাজতি আব্দুল কাইয়মকে (৬২) মৃত ঘোষণা করেন। কারারক্ষী হেমায়েত হোসেনের নেতৃত্বে কারাগার থেকে তাঁকে জরুরি বিভাগে আনা হয়েছিল। আব্দুল কাইয়ম কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম উপজেলার গোলাই পদাবাজার গ্রামের মৃত দুদু মিয়ার ছেলে। তিনি বিভিন্ন অভিযোগে দায়ের করা আটটি মামলার আসামি হিসেবে কারাগারে আটক ছিলেন।
অন্যদিকে, মৃত কয়েদি মো. শাহাদত হোসেন লিটন (৫২) বেশ কিছুদিন ধরে ঢামেক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। গত ২৮ আগস্ট শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাঁকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের ৫০২ নম্বর ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রোববার সকাল পৌনে নয়টায় কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। সাজাপ্রাপ্ত এই কয়েদির বাড়ি খুলনার দৌলতপুর থানার পাবলা গ্রামে এবং তাঁর বাবার নাম মৃত আব্দুল কাদের। তিনি দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের মামলাসহ উত্তরা থানায় দায়ের করা একটি হত্যা মামলায় বন্দী ছিলেন।
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির পরিদর্শক মো. হাবিবুর রহমান মৃত্যুর ঘটনা নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, আইনি প্রক্রিয়া শেষে তিনজনের মরদেহই ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা যাবে।



