কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী উপজেলায় বাড়ির পাশের পুকুরে মশারি দিয়ে মাছ ধরতে নেমে পানিতে ডুবে দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে। নিহত দুই শিশু সম্পর্কে খালাতো ভাই-বোন। সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) উপজেলার কচাকাটা থানার কেদার ইউনিয়নের ঢলুয়াবাড়ী গ্রামে মর্মান্তিক এ ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলো চর বিষ্ণুপুর গ্রামের মমিনুর ইসলামের ছেলে সিয়াম (৮) এবং খামার গ্রামের দুলালের মেয়ে মোফাসসিরা (৭)। তারা পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে ঢলুয়াবাড়ী গ্রামে নানির বাড়িতে বেড়াতে এসেছিল।
পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সোমবার সকাল ১১টার দিকে সিয়াম ও মোফাসসিরা প্রতিবেশী আরেক শিশুকে সঙ্গে নিয়ে বাড়ির পাশের একটি পুকুরে মাছ ধরতে যায়। মাছ ধরার জন্য তারা একটি পুরোনো মশারি ব্যবহার করে সেটিকে জালের মতো করে নেয়। তিন শিশুই পুকুরের পানিতে নামে।
একপর্যায়ে সিয়াম ও মোফাসসিরা পানিতে তলিয়ে যায়। তাদের সঙ্গে থাকা প্রতিবেশী শিশুটি বিষয়টি কাউকে না জানিয়ে বাড়িতে ফিরে যায়। ফলে তাৎক্ষণিকভাবে পরিবারের সদস্যরা দুই শিশুর পানিতে ডুবে যাওয়ার বিষয়টি জানতে পারেননি।
এরপর প্রায় দুই ঘণ্টা পর, দুপুর ১টার দিকে স্থানীয় কয়েকজন পুকুরের পানিতে সিয়ামের মরদেহ ভাসতে দেখতে পান। বিষয়টি দ্রুত পরিবারের সদস্যদের জানানো হয়। পরে স্বজন ও স্থানীয় বাসিন্দারা পুকুরে নেমে উদ্ধার অভিযান শুরু করেন। প্রথমে সিয়ামের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এরপর পানির নিচ থেকে মোফাসসিরার মরদেহও উদ্ধার করেন স্থানীয়রা।
নিহত সিয়ামের জেঠা আবু বক্কর জানান, সকালে তিন শিশু মশারি দিয়ে মাছ ধরতে পুকুরে নেমেছিল। সেখানেই দুই শিশু পানিতে ডুবে যায়। ঘটনার পর বিষয়টি জানাজানি হলে স্থানীয়রা পুকুরে খোঁজাখুঁজি করে তাদের মরদেহ উদ্ধার করেন।
দুই শিশুর আকস্মিক মৃত্যুতে নানির বাড়িসহ সংশ্লিষ্ট দুই পরিবারের সদস্যদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। বেড়াতে এসে মাত্র কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে দুই শিশুর এমন মৃত্যু স্বজন ও স্থানীয়দেরও মর্মাহত করেছে।
কচাকাটা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) অর্পণ কুমার দাস ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। ঘটনার বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া নেওয়া হচ্ছে।
স্থানীয়দের ভাষ্য, শিশুদের পুকুর বা অন্য কোনো জলাশয়ে নামার সময় বড়দের নজরদারি থাকা জরুরি। বিশেষ করে গ্রামাঞ্চলে বাড়ির আশপাশের পুকুর, ডোবা ও খালে শিশুদের একা বা দলবদ্ধভাবে নামার ঘটনা প্রায়ই দেখা যায়। এ ধরনের পরিস্থিতিতে সামান্য অসতর্কতাও প্রাণঘাতী হয়ে উঠতে পারে। নাগেশ্বরীর এই ঘটনা আবারও শিশুদের পানিতে নিরাপত্তা ও সার্বক্ষণিক তদারকির গুরুত্ব সামনে আনল।



