বাবা হত্যায় ছেলে ও ভাতিজার মৃত্যুদণ্ড

রাঙামাটির সাজেকে শান্তিলাল চাকমাকে হত্যার দায়ে তাঁর ছেলে সোহেল চাকমা ও ভাতিজা আলোময় চাকমাকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে রাষ্ট্রপক্ষের সাক্ষ্য, নথিপত্র ও মামলার অন্যান্য উপাদান পর্যালোচনা করে অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় আদালত এ সাজা ঘোষণা করেন।

মঙ্গলবার দুপুরে রাঙামাটি জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক মো. আহসান তারেক এ রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণার সময় আদালতে মামলাটিকে ঘিরে দীর্ঘদিন ধরে চলা বিচারিক প্রক্রিয়ার সমাপ্তি ঘটে।

আদালতের রায়ে বলা হয়েছে, আসামি আলোময় চাকমা বর্তমানে পলাতক। তাঁকে গ্রেপ্তার করা হলে অথবা তিনি আদালতে আত্মসমর্পণ করলে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া নেওয়া হবে। অন্যদিকে মামলার অপর আসামি সোহেল চাকমা কারাগারে আটক থাকায় তাঁকে সাজা পরোয়ানাসহ জেলা কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

আদালত পর্যবেক্ষণে এই হত্যাকাণ্ডকে অত্যন্ত নির্মম ও নৃশংস হিসেবে উল্লেখ করেছেন। বিচারক বলেন, এ ধরনের পশুবৃত্তিসুলভ হত্যাকাণ্ড সমাজে বিরল এবং মানবসভ্যতার জন্য চরম হুমকিস্বরূপ।

যেভাবে হত্যাকাণ্ড

মামলার এজাহার ও আদালত সূত্রে জানা যায়, ২০১৭ সালের ৬ আগস্ট রাতে রাঙামাটির সাজেক থানার উত্তর ভাইবোনছড়া এলাকায় নিজ বাড়িতে ছিলেন শান্তিলাল চাকমা। ওই রাতে আসামিরা তাঁকে বাড়ি থেকে ডেকে বাইরে নিয়ে যান। এরপর গামছা দিয়ে শ্বাসরোধ করার পাশাপাশি ধারালো দা দিয়ে কুপিয়ে তাঁকে হত্যা করা হয়।

হত্যার পর মরদেহ গঙ্গারাম নদীতে ফেলে দেওয়া হয় বলে মামলার অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। ঘটনার পর পুলিশ তাঁকে খুঁজতে শুরু করে। নয় দিন পর কাচালং নদী থেকে শান্তিলাল চাকমার গলিত মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

মরদেহ উদ্ধারের পর হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্‌ঘাটন ও জড়িতদের শনাক্ত করতে তদন্ত শুরু হয়। পরে এ ঘটনায় মামলা হয় এবং দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়ায় রাষ্ট্রপক্ষের সাক্ষীদের সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়। মামলার বিভিন্ন নথি ও উপস্থাপিত তথ্য পর্যালোচনা শেষে আদালত দুই আসামির বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে বলে সিদ্ধান্ত দেন।

রায়ের পর আসামিপক্ষের বক্তব্য

তবে আদালতের দেওয়া রায়ের সঙ্গে একমত নন আসামিপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মো. রাশেদ ইকবাল। তিনি বলেন, হত্যাকাণ্ডের মূল আসামি হিসেবে চিহ্নিত ভাতিজা আলোময় চাকমা আদালত ও উচ্চ আদালত থেকে জামিন নিয়েছিলেন। পরবর্তী সময়ে তিনি পলাতক হন।

আইনজীবীর দাবি, শান্তিলাল চাকমার ছেলে সোহেল চাকমার হত্যাকাণ্ডে সরাসরি কোনো সম্পৃক্ততা ছিল না। পারিবারিক দ্বন্দ্বের কারণে তাঁকে মামলায় জড়ানো হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।

রায়ের পর আইনজীবী বলেন, পরিবারের সঙ্গে আলোচনা করে তাঁরা উচ্চ আদালতে আপিল করবেন।

২০১৭ সালের ওই হত্যাকাণ্ডের প্রায় নয় বছর পর মামলার রায় হলো। একদিকে আদালত রাষ্ট্রপক্ষের উপস্থাপিত সাক্ষ্য ও নথির ভিত্তিতে দুই আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন, অন্যদিকে আসামিপক্ষ রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে যাওয়ার কথা জানিয়েছে। ফলে বিচারিক কার্যক্রমের পরবর্তী ধাপ এখন উচ্চ আদালতের আপিল প্রক্রিয়ার ওপর নির্ভর করবে।

Tags :

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

সর্বশেষ খবর

খবরওয়ালা একটি বিশ্বস্ত অনলাইন নিউজ পোর্টাল, যেখানে বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ ও আপডেট প্রকাশ করা হয়। রাজনীতি, জাতীয় ও স্থানীয় সংবাদ, শিক্ষা, খেলাধুলা, ব্যবসা, বিনোদন ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনের গুরুত্বপূর্ণ খবর নিয়ে পাঠকদের জন্য রয়েছে নির্ভরযোগ্য ও সময়োপযোগী সংবাদ পরিবেশন।

© ২০২৬ খবরওয়ালা। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।