হামের উপসর্গ নিয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আরও ছয়জনের মৃত্যু হয়েছে। এ সময়ে নতুন করে ১ হাজার ২৩৯ জনের শরীরে হামের উপসর্গ দেখা দেওয়ার তথ্য পেয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) প্রকাশিত হামবিষয়ক নিয়মিত প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রতিবেদনের হিসাব অনুযায়ী, সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) সকাল ৮টা থেকে মঙ্গলবার সকাল ৮টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় এই ছয়জনের মৃত্যু হয়। তাদের মধ্যে চারজন ঢাকা বিভাগের, একজন সিলেট বিভাগের এবং একজন চট্টগ্রাম বিভাগের বাসিন্দা।
এ নিয়ে চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে ১৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দেশে হামের উপসর্গ নিয়ে মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৯৩৬ জনে। একই সময়ে পরীক্ষায় নিশ্চিত হামজনিত মৃত্যু হয়েছে ১০০ জনের। ফলে হামের উপসর্গ ও নিশ্চিত হাম—দুই হিসাব মিলিয়ে মোট মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৩৬ জন।
তবে গত ২৪ ঘণ্টায় নিশ্চিত হামে কোনো মৃত্যুর তথ্য পাওয়া যায়নি। অর্থাৎ, সর্বশেষ এক দিনে যে ছয়জন মারা গেছেন, তাদের মৃত্যু স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রতিবেদনে হামের উপসর্গজনিত মৃত্যু হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে।
নতুন করে ১ হাজার ২৩৯ জনের উপসর্গ
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য বলছে, গত ২৪ ঘণ্টায় সারা দেশে আরও ১ হাজার ২৩৯ জনের শরীরে হামের উপসর্গ দেখা দিয়েছে। ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত এ ধরনের উপসর্গ নিয়ে আক্রান্তের মোট সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৭৩ হাজার ৯৫৯ জনে।
একই সময়ে পরীক্ষায় নিশ্চিত হাম রোগীর সংখ্যা বেড়েছে আরও ৭৭ জন। ফলে ১৫ মার্চ থেকে মঙ্গলবার পর্যন্ত দেশে মোট ২০ হাজার ২০১ জনের শরীরে হাম শনাক্ত হয়েছে।
হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হওয়া রোগীর সংখ্যাও বড়। গত ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত মোট ১ লাখ ৫৩ হাজার ২৭৯ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। তাদের মধ্যে চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছেন ১ লাখ ৪৭ হাজার ৩৮৬ জন।
এই হিসাব অনুযায়ী, বিপুলসংখ্যক রোগী চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরলেও এখনো উল্লেখযোগ্য সংখ্যক রোগী হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। একই সঙ্গে প্রতিদিন নতুন করে উপসর্গযুক্ত রোগী শনাক্ত হওয়ায় স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থার ওপর চাপও অব্যাহত রয়েছে।
মৃত্যুর হিসাব কী বলছে
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ প্রতিবেদনে ১৫ মার্চ থেকে ১৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত হামের উপসর্গ ও নিশ্চিত হাম—দুই ধরনের মৃত্যুর আলাদা হিসাব দেওয়া হয়েছে।
হামের উপসর্গে মৃত্যুর সংখ্যা ৯৩৬। আর পরীক্ষায় নিশ্চিত হামজনিত মৃত্যুর সংখ্যা ১০০। দুই হিসাব একত্র করলে মোট মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়ায় ১ হাজার ৩৬।
সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় নিশ্চিত হামে মৃত্যু না হলেও উপসর্গ নিয়ে ছয়জনের মৃত্যু পরিস্থিতির গুরুত্ব তুলে ধরছে। বিশেষ করে দেশের বিভিন্ন বিভাগে একই সময়ে মৃত্যুর ঘটনা ঘটায় হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি রোগীদের পর্যবেক্ষণ ও চিকিৎসা অব্যাহত রাখার প্রয়োজনীয়তা সামনে এসেছে।
হাম অত্যন্ত সংক্রামক ভাইরাসজনিত রোগ। জ্বর, কাশি, সর্দি, চোখ লাল হওয়া এবং পরে শরীরে লালচে ফুসকুড়ি দেখা দেওয়া এর সাধারণ লক্ষণগুলোর মধ্যে রয়েছে। তবে হামের সঙ্গে নিউমোনিয়া, ডায়রিয়া বা অন্যান্য জটিলতা দেখা দিলে রোগীর অবস্থা গুরুতর হয়ে উঠতে পারে। তাই উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া এবং আক্রান্ত ব্যক্তিকে অন্যদের থেকে আলাদা রাখার বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রকাশিত সর্বশেষ পরিসংখ্যান বলছে, ১৫ মার্চ থেকে দেশে হামের উপসর্গ নিয়ে রোগী ও হাসপাতালে ভর্তি মানুষের সংখ্যা এখনো বাড়ছে। ফলে সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে নজরদারি, দ্রুত রোগ শনাক্তকরণ এবং চিকিৎসা ব্যবস্থাপনার পাশাপাশি টিকাদান কার্যক্রমের গুরুত্বও রয়েছে।


