জামালপুরের মাদারগঞ্জে পল্লী বিদ্যুতের বৈদ্যুতিক ট্রান্সফরমার চুরির অভিযোগে স্বেচ্ছাসেবক দলের এক নেতাসহ পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) রাতে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। পরে মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) আদালতের মাধ্যমে তাদের কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন বালিজুড়ী ইউনিয়নের নাদাগাড়ী এলাকার অবিনূর, সেলিম, সুমন ও সুমন ওরফে নুরু মিয়া। অপরজন রাসেল মিয়া। তিনি গাবেরগ্রাম এলাকার বাসিন্দা এবং মাদারগঞ্জ পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ড স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক।
পুলিশের দাবি, অভিযান পরিচালনার সময় গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের কাছ থেকে ট্রান্সফরমার চুরিতে ব্যবহৃত বিভিন্ন সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়েছে। এসব সরঞ্জাম কীভাবে এবং কোথায় ব্যবহার করা হতো, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত দুই মাসে মাদারগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে ২৬টির বেশি বৈদ্যুতিক ট্রান্সফরমার চুরির ঘটনা ঘটেছে। একের পর এক ট্রান্সফরমার চুরি হওয়ায় স্থানীয় বিদ্যুৎ ব্যবস্থায় বিঘ্ন তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে গ্রামাঞ্চলের সাধারণ গ্রাহক ও কৃষকদের দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছে। কোনো কোনো এলাকায় ট্রান্সফরমার চুরি যাওয়ার পর বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক করতে নতুন ট্রান্সফরমার স্থাপনের প্রয়োজন হয়েছে।
ট্রান্সফরমার চুরির এসব ঘটনায় মাদারগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ জোনাল অফিসের পক্ষ থেকে থানায় অভিযোগ করা হয়। অভিযোগ পাওয়ার পর পুলিশ বিষয়টি তদন্তে নামে। তদন্তের একপর্যায়ে একটি চক্রের সন্ধান পাওয়ার কথা জানায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। এরপর তথ্যের ভিত্তিতে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
স্থানীয়দের ভাষ্য, বৈদ্যুতিক ট্রান্সফরমার চুরি শুধু বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার কারণেই ভোগান্তি তৈরি করে না, এর সঙ্গে কৃষিকাজও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। সেচনির্ভর এলাকায় ট্রান্সফরমার চুরি হলে পাম্প চালানো বন্ধ হয়ে যায়। ফলে নতুন ট্রান্সফরমার স্থাপন না হওয়া পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট এলাকার বাসিন্দাদের অপেক্ষা করতে হয়।
গ্রেপ্তার পাঁচজনের মধ্যে রাসেল মিয়া রাজনৈতিক সংগঠনের স্থানীয় পদে থাকায় বিষয়টি নিয়ে সংগঠনের পক্ষ থেকেও প্রতিক্রিয়া জানানো হয়েছে। মাদারগঞ্জ পৌর স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, কোনো ব্যক্তির অপকর্মের দায় সংগঠন নেবে না। তদন্তে ওই নেতার বিরুদ্ধে অপরাধ প্রমাণিত হলে তার বিরুদ্ধে দ্রুত কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মাদারগঞ্জ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) স্নেহাশীষ রায় বলেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের কাছ থেকে ট্রান্সফরমার চুরির কাজে ব্যবহৃত বেশ কিছু সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়েছে। চুরির সঙ্গে আরও কারা জড়িত এবং চক্রটির মূলহোতা কারা, তা শনাক্ত করতে তদন্ত চলছে।
ওসি জানান, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের আদালতে পাঠিয়ে সাত দিনের রিমান্ডের আবেদন করা হয়েছে। তাদের জিজ্ঞাসাবাদে ট্রান্সফরমার চুরির সঙ্গে জড়িত অন্যদের সম্পর্কে তথ্য পাওয়া যেতে পারে বলে পুলিশ আশা করছে।
পুলিশ কর্মকর্তা আরও বলেন, মাদারগঞ্জে ট্রান্সফরমার চুরির সঙ্গে জড়িত প্রত্যেককে আইনের আওতায় আনার চেষ্টা চলছে। তদন্তের ভিত্তিতে চক্রটির সদস্য ও সংশ্লিষ্ট অন্য ব্যক্তিদের শনাক্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


