চট্টগ্রাম নগরের কোতোয়ালি থানার পেছনের সতীশ বাবু লেনে এক রিকশাযাত্রীকে ছুরি দেখিয়ে জিম্মি করে ছিনতাইয়ের অভিযোগ উঠেছে। ঘটনার একটি ভিডিও শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) সকালে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি সামনে আসে। ভিডিওতে দুই ব্যক্তিকে ছুরি হাতে ওই রিকশাযাত্রীর কাছ থেকে টাকা ও মুঠোফোনসহ মূল্যবান জিনিসপত্র নেওয়ার চেষ্টা করতে দেখা যায়।
ভিডিওর দৃশ্য অনুযায়ী, সরু একটি সড়কে রিকশাটি থামিয়ে যাত্রীকে ঘিরে ফেলেন দুই ব্যক্তি। তাঁদের একজন হাতে ছুরি নিয়ে যাত্রীকে ভয় দেখিয়ে নিয়ন্ত্রণে রাখেন। অপরজন যাত্রীর প্যান্টের ডান পকেট থেকে কিছু বের করার চেষ্টা করতে থাকেন। আতঙ্কিত যাত্রী তখন বারবার তাঁকে উদ্দেশ করে বলেন, ‘আরে ভাই, দিতাছি তো।’
তবে পকেট থেকে কাঙ্ক্ষিত জিনিস বের করতে না পারায় পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠে। ভিডিওতে দেখা যায়, যাত্রী নড়াচড়া করায় একপর্যায়ে একজন ছিনতাইকারী তাঁর বাঁ পায়ে ছুরি দিয়ে আঘাত করেন। এরপরও পকেট থেকে জিনিস বের করতে না পেরে ধারালো ছুরি দিয়ে সরাসরি প্যান্টের পকেট কেটে ফেলেন তিনি।
অন্য ব্যক্তি তখনও ছুরি হাতে রিকশাযাত্রীকে জিম্মি করে রাখেন। কয়েক মুহূর্ত ধরে চলা ওই ঘটনায় ভুক্তভোগীকে আতঙ্কিত অবস্থায় দেখা যায়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে আশপাশের কয়েকটি ভবন থেকেও ঘটনাটি ধারণ করার দৃশ্য রয়েছে।
একপর্যায়ে আশপাশের বাসিন্দারা বিষয়টি টের পেয়ে চিৎকার শুরু করেন। ভিডিওতে তাঁদের ‘এই, এই, মার-মার’ বলে চিৎকার করতে শোনা যায়। স্থানীয়দের চিৎকারে ছিনতাইকারীরা আর সেখানে অবস্থান করেননি। দ্রুত একটি ব্যাটারিচালিত অটোরিকশায় উঠে তাঁরা ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান।
ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকে দাবি করেন, শনিবার ভোরে সতীশ বাবু লেনে ঘটনাটি ঘটেছে। তবে ঘটনার সঠিক সময় সম্পর্কে এখনো নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি। ভিডিওটি কখন ধারণ করা হয়েছিল, সেটিও পুলিশ নিশ্চিত করতে পারেনি।
ছিনতাইয়ের সময় ভুক্তভোগীর কাছ থেকে টাকা ও মুঠোফোন নেওয়া হয়েছে বলে ভিডিও এবং ছড়িয়ে পড়া তথ্য থেকে জানা গেছে। তবে তাঁর পরিচয়, ছিনতাই হওয়া টাকার পরিমাণ কিংবা অন্য কোনো সামগ্রীর সুনির্দিষ্ট বিবরণ এখনো প্রকাশ করা হয়নি। একইভাবে ছুরি দিয়ে আঘাতের ঘটনায় ওই ব্যক্তি কতটা আহত হয়েছেন, সে বিষয়েও পুলিশের পক্ষ থেকে কোনো তথ্য জানানো হয়নি।
ঘটনার বিষয়ে কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু যায়েদ মোহাম্মদ নাজমুন নূর বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওটি পুলিশের নজরে এসেছে। তবে এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো ভুক্তভোগী থানায় এসে অভিযোগ করেননি। বিষয়টি জানার পর সতীশ বাবু লেনসহ আশপাশের এলাকায় পুলিশের টহল জোরদার করা হয়েছে।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, ভুক্তভোগীর অভিযোগ পাওয়া গেলে ঘটনার স্থান ও সময় যাচাই, ভিডিওটির উৎস ও দৃশ্য বিশ্লেষণ এবং প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য সংগ্রহের মাধ্যমে বিষয়টি তদন্ত করা যেতে পারে। ছিনতাইকারীরা যে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশায় করে পালিয়ে গেছে বলে ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, সেটিও তদন্তের একটি সূত্র হতে পারে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কোনো ঘটনার ভিডিও ছড়িয়ে পড়লে তার সঙ্গে নানা ধরনের তথ্য যুক্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকে। ফলে ভিডিওতে দৃশ্যমান ঘটনাগুলোর পাশাপাশি স্থান, সময়, ভুক্তভোগীর পরিচয় এবং ঘটনার অন্যান্য তথ্য আলাদাভাবে যাচাই করা জরুরি। সতীশ বাবু লেনের ঘটনাতেও পুলিশ এখন পর্যন্ত যে তথ্য নিশ্চিত করেছে, তা হলো—ভিডিওটি তাদের নজরে এসেছে এবং এলাকায় টহল বাড়ানো হয়েছে; তবে কোনো ভুক্তভোগী আনুষ্ঠানিকভাবে থানায় অভিযোগ করেননি।
ঘটনাটি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যেও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে তুলনামূলক নির্জন সড়কে রিকশাযাত্রীদের জিম্মি করে ছিনতাইয়ের মতো অভিযোগ সামনে এলে নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। তবে এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের পরিচয় বা তাঁদের বিরুদ্ধে পরবর্তী কোনো আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয়। অভিযোগ ও তদন্তের অগ্রগতির ওপরই পরবর্তী তথ্য নির্ভর করছে।


